Category: শত মনীষীর দৃষ্টিতে
-
ধীরস্থির ও বন্ধু-বাৎসল মানুষ
হযরত আবদুল জব্বার রহ. এর প্রত্যেক কাজে ছিল ধীরস্থিরতা ও একাগ্রতা। প্রত্যেক কাজ তিনি ধীরস্থিরভাবে ও একাগ্রতার সাথে সম্পন্ন করার চেষ্টা করতেন। কখনো কোন কাজের মধ্যে অস্থিরতা ও ব্যাকুলতা দেখাতেন না। এটাও তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার একটি লক্ষণ। এ গুণটি মুমিন-জিন্দেগীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যেমন- মহানবী সা. এরশাদ করেন- “আত তা’ন্নী মিনার রাহমান ওয়াল উজলাতু মিনাশ…
-
তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত নবী করিম সা.কে বলতে শুনেছি, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন অন্যায় দেখে সে যেন তার হাত দ্বারা প্রতিরোধ করে, তা যদি সম্ভব না হয় তখন যেন মুখে প্রতিবাদ করে যদি তাও সম্ভব না হয় সে যেন মনে মনে প্রতিবাদ করে। (ঘৃণা পোষণ করে) এটা…
-
স্বর্ণ-পদকে ভূষিত
পীর সাহেব কর্মজীবন শুরু করার প্রাক্কালে যথারীতি তার মুর্শিদ মীর মোহাম্মদ আখতরের পরামর্শ গ্রহণ করেন। মুর্শিদ হুজুরকে লক্ষ্য করে বললেন, অর্থকডির আশা থাকলে মসজিদের ইমামতি আর জ্ঞান চর্চা করতে চাইলে মাদরাসায় শিক্ষকতা- তুমি যেটা পছন্দ সেটা করো’। যিনি ইলমে দ্বীনের জন্য এত কষ্ট করেছেন, বৈশ্বিক স্বপ্নে বিভোর, মানব কল্যাণ যার ব্রত তিনি কি করে জ্ঞানের…
-
তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ
শাহ্ সূফী আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ. ছিলেন আধুনিক জ্ঞানে গুণান্বিত ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ। বিশ্ব ইতিহাস ও সমসাময়িক ঘটনা প্রবাহ সম্বন্ধে তিনি ছিলেন সম্যক জ্ঞাত। এদেশে সুদবিহীন ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রবর্তনের ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ১৯৮৪-৮৫ সালে আমরা শিক্ষানবিশ ছাত্রের মতো তাঁর সামনে বসে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে…
-
তাঁর জীবন পরিচালিত হয়েছে মসজিদকে কেন্দ্র করে
আল্লামা শাহ্ আব্দুল জব্বার রহ. এর রুটিন ভাবনা ছিল মসজিদ প্রতিষ্ঠা। কারণ পৃথিবীর আদিকাল থেকে মসজিদ মানবজাতির জন্য আল্লাহ্র অস্তিত্ব ও একত্বের নিদর্শন এবং হেদায়াতের প্রতীক হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। মসজিদ হচ্ছে মুসলমানদের আধ্যাত্মিক, জাগতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু, আর মানবিক ও নৈতিক শিক্ষারও প্রাণকেন্দ্র। কেননা এই মসজিদের পরিবেশে থেকে মুসলমানেরা মানবতা, প্রেমপ্রীতি, সাম্যমৈত্রী,…
-
মিথ্যা প্রমাণিত করে গিয়েছেন
আজ সমাজের চিত্রটা এমন হয়েছে যে, যে কোন ব্যক্তি বিশেষ করে দ্বীনি লাইনের কোন ব্যক্তি যদি কিছুটা ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হয়ে উঠেন তখন নিজেকে শুধু মাখদুমিয়াত বা সেবা পাবার যোগ্য বলে মনে করে শুধু সেবা গ্রহণ করতে চান। অথচ আল্লাহ্ পাক বলেন, তোমরা শ্রেষ্ঠ জাতি, তোমাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই বায়তুশ শরফের মহান…
-
কক্সবাজারে স্কুল ও চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা
১৯৭১ সালে জীবনের ২৯ তম হজব্রত পালনের সময় আল্লাহর মহান ওলী হযরত কেবলা মীর মোহাম্মদ আখতর রহ. পবিত্র মিনায় ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের পূর্ব মুহর্তে তিনি মানব হিতৈষী সংগঠন বায়তুশ শরফ আন্জুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর পরিচালনার ভার দেন তাঁরই স্নেহধন্য সুযোগ্য খলীফা হাদিয়ে যামান হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ.কে। তাঁর পীর সাহেবের রূহানী দোয়ার…
-
ডাক্তারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা
এক শীতের মওসুমে আমাদের শ্রদ্ধেয় হুজুর আল্লামা শাহ্ আবদুল জব্বার রহ. এর টাইফয়েড জ্বর হয়েছিল। ডাক্তার বলেছিলেন ঠাণ্ডার কারণে তার বারবার জ্বর আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। তাই তিনি যেন শেষ রাত্রে না উঠেন এবং শরীরে ঠাণ্ডা না লাগান। যদি শেষ রাত্রে ওঠা হয় তাহলে শরীরে ঠাণ্ডা লেগে যাবে যার কারণে রোগ ভালো হবে না। ডাক্তার সাহেব…
-
তাঁর সোহবত ছিল বড়ই মধুর
আল্লাহ্ পাকের পরম ইচ্ছায় ১৯৯৬ সালের রবিউল আউয়ালের গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমাকেও সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য দাওয়াত পত্র পাঠালেন। মাসিক মদীনা সম্পাদক সাহেবও পত্র লিখলেন যে, ঐ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান মেহমান হিসেবে যাবেন; চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় যে ঢাকা হয়ে তার সঙ্গে যাই। নির্দিষ্ট সময়ে আমরা দু’জন একসঙ্গে চট্টগ্রাম উপস্থিত হলাম। সন্ধ্যায় বাদ মাগরিব সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু…
-
হোটেল আল করিমের সেই ক্ষুদ্র মেসিয়ারের কথা
আমার কর্মজীবনের প্রথম কর্মস্থল ছিল বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ধনিয়ালাপাড়াস্থ হোটেল ক্যাফে আল করিম। যারা ১৯৮০-৮১ সালে চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফে যাতায়াত করেছেন তারা অনেকেই হয়তো এ হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করেছেন। এখন আর ক্যাফে আল করিমের কোন অস্তিত্ব সেখানে নেই। হোটেলের স্থানটি দখল করেছে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। জীবনের বহু চড়াই-উত্রাই অতিক্রম করে আমি আজ প্রতিষ্ঠিত এবং উচ্চ শিক্ষায়…