১৯৭১ সালে জীবনের ২৯ তম হজব্রত পালনের সময় আল্লাহর মহান ওলী হযরত কেবলা মীর মোহাম্মদ আখতর রহ. পবিত্র মিনায় ইন্তেকাল করেন।
ইন্তেকালের পূর্ব মুহর্তে তিনি মানব হিতৈষী সংগঠন বায়তুশ শরফ আন্জুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর পরিচালনার ভার দেন তাঁরই স্নেহধন্য সুযোগ্য খলীফা হাদিয়ে যামান হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ.কে। তাঁর পীর সাহেবের রূহানী দোয়ার বরকতে অপূর্ব সাংগঠনিক যোগ্যতা বলে তিনি আন্জুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সুপ্রতিষ্ঠিত সমাজকল্যাণ সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত এবং প্রতিষ্ঠা করেন। তাই আমার পীর সাহেব কেবলাকে বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার বলা হয়। আজ তাঁর এই বহুমুখী কার্যক্রমের সুফল পাচ্ছে দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ। এ মহান ব্যক্তিত্ব নিজের আরাম আয়েশ বিসর্জন দিয়ে মানবতার কল্যাণ সাধনকারী বিভিন্ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাঁর প্রতিটি মুহূর্ত, সমগ্র চিন্তা শক্তি, মেধা মনন, শ্রম ও সামর্থ্য ব্যয় করে ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ করতে প্রয়াসী হন।
কক্সবাজার বায়তুশ শরফে একটি চক্ষু হাসপাতাল করার জন্য শ্রদ্ধেয় হুজুর আল্লামা শাহ্ আবদুল জব্বার রহ. এর মহান স্বপ্ন ছিল। কারণ আল্লাহর ওলিরা জানেন কোন জিনিসের অভাব কোথায় রয়েছে। আমরা জানি কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীর থেকে শুরু করে পুরো কক্সবাজার জেলায় চক্ষু চিকিৎসার কোন উন্নত ব্যবস্থা নেই। তাই আল্লাহ্ এই ওলি বুঝতে পেরেছিলেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে একটি চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার একান্ত প্রয়োজন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণের কিছুদিন পূর্বে মসজিদের উত্তর পশ্চিম পাশে একটি গর্তের মত ছিল আমরা তা ভরাট করেছিলাম, ইতিমধ্যে হুজুর কেবলা কক্সবাজার বায়তুশ শরফে তশরীফ নিয়ে আসেন এবং একদিন একটি চেয়ার নিয়ে মাঠের পূর্বদিকে বসেন, আমরাও তাঁর পাশে অবস্থানরত, তিনি আমাদের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন- তোমরা সবাই পশ্চিম দিকে তাকাও, তোমাদের চোখের জ্যোতি বাড়বে। শ্রদ্ধেয় হুজুর কেবলা রহ. এর এ কথা শুনে আমরা আশ্চর্যান্বিত হই। আমরা মনে করেছিলাম পশ্চিমের গর্তটি ভরাট করার কারণে হুজুর খুশি হয়েছিলেন, পরে জানতে পারলাম বাস্তবে তা নয়। আল্লাহর ওলির এ কথার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ঐ স্থানে একটি চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হবে। এর দ্বারা লক্ষ লক্ষ লোক চক্ষু চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের দৃষ্টি শক্তি ফিরে পাবে। তাই তিনি আমাদেরকে বলেছিলেন পশ্চিম দিকে তাকাতে। তিনি তাঁর অন্তর্চক্ষু দিয়ে ঐ স্থানে একটি হাসপাতাল দেখতে পাচ্ছিলেন যা ১৯৯৮ সালে বাস্তব রূপ নিয়েছে। কারণ ‘কলন্দর হারছে গোয়দ দীদা গোয়দ’ আল্লাহ্ ওলিরা যা কিছু বলেন দেখে বলেন ‘আলহামদুলিল্লাহ্, আমরা আজ হুজুরের এই মহান অলৌকিকতার বাস্তব প্রমাণ দেখতে পাই। এ হাসপাতাল চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার ১৭টি থানার ৩০ লক্ষ জনসাধারণের খিদমতে নিয়োজিত। বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমী, কক্সবাজার জেলার বৃহত্তম বিজ্ঞান কক্সবাজার অঞ্চলের সকল শ্রেণির মানুষের বিশেষ করে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রযুক্তি, কলা, বাণিজ্য ও কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা-দীক্ষায় পশ্চাদপদ অসহায়, গরিব, এতিম, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের স্বল্প খরচে যুগোপযোগী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম আদর্শ সুনাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে অত্র কমপ্লেক্সের স্থপতি মহান সমাজ সংস্কারক, জ্ঞানবিজ্ঞান ও মানবতার মহান সেবক শ্রদ্ধেয় হুজুর কেবলা হাদিয়ে যামান শাহ্ সূফী মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ. ১৯৯৩ সালে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমী (আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ) প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এতিম সন্তানদের সুশিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমী। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি যুগের প্রয়োজনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে এতিমদের স্বাবলম্বী ও মর্যাদা দান, সুনাগরিক হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা এবং এতিমদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা একাডেমী প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল ধর্মের ছাত্র-ছাত্রীদের এখানে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রী এই শিক্ষায়তনে অধ্যয়ন করছে।
আলহাজ্ব এম এম সিরাজুল ইসলাম
শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক
মহাপরিচালক- কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স।
Leave a Reply