Category: শত মনীষীর দৃষ্টিতে
-
তিনি আমিত্ববোধকে পদদলিত করেছেন
আমি এখানে কয়েকটা দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি। চট্টগ্রাম ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে এক সভা আহ্বান করা হয় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে। ঐ সভা আহ্বান করেন বায়তুশ শরফের হুজুর আহ্বায়ক হয়ে এবং অধ্যক্ষ এ. এ. রেজাউল করিম চৌধুরী ও মাওলানা শামসুদ্দীন সাহেব যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে। প্রায় ৬০/৭০ জন চট্টগ্রামের খ্যাতিমান ইসলামী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হবার পর যখন বায়তুশ শরফের পীর…
-
কে বলে আজ আমাদের হুজুর নেই
আল্লামা শাহ্ আবদুল জব্বার রহ. ছিলেন সুন্নাতে নববীর সা. বাস্তব অনুসারী। তিনি কোন দিন সুন্নাতের পরিপন্থী কোন কাজ করেননি। তাঁর সমুদয় কর্মকাণ্ড ছিল একমাত্র আল্লাহর ওয়ান্তে, নিছক কোন ব্যক্তি স্বার্থ ছিল না তাঁর। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন উন্নত চরিত্রের অধিকারী এবং একজন আশেকে রাসূল সা. এটাই ছিল তাঁর অন্যতাম কারামত। শ্রদ্ধেয় হযরত কেবলা রহ. হুজুর…
-
একজন সফল ধর্মীয় নেতা
এদেশের প্রচলিত ধারণায় পীর বলতে যা বুঝায়, মরহুম পীর সাহেব হযরত মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. ছিলেন অনেকাংশে ভিন্ন রকমের পীর। দীর্ঘ আড়াই যুগের অধিক সময় বায়তুশ শরফের গদিনশিন পীর ছিলেন তিনি। এ সময় তিনি প্রচলিত ধারণার একজন পীরের গণ্ডিকে ডিঙ্গিয়ে মানুষ গড়া, সমাজ বিনিমার্ণ দুঃস্থ ও রুগ্ন মানুষের সেবা, ইসলামী শিক্ষা, অর্থনীতি, গবেষণা, সর্বোপরি ইসলামী…
-
হুজুরের যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর
তাঁর ইউরোপ ও আমেরিকা সফরে অনেক কারামতি ও বুজুর্গী পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল। তন্মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করা হল- প্রথমত আবহাওয়া জনিত: আমরা দুবাই থেকে ২১শে ডিসেম্বর’৯১ লন্ডন পৌঁছি। সেখানে জানতে পারলাম ২০শে ডিসেম্বর পর্যন্ত লন্ডনের আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ। প্রচণ্ড তুষারপাত ও ঘন কুয়াশার কারণে এক সপ্তাহ পর্যন্ত হিথ্রো বিমান বন্দরে কোন বিমান অবতরণ করতে পারেনি।…
-
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তর প্রতিরোধ আন্দোলন
১৯৯০ সালের গোড়ার কথা। তখন গাজীপুর থেকে দেশের একমাত্র ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ায় স্থানান্তরের বিরুদ্ধে ঢাকায় প্রচণ্ড বিক্ষোভ ও সমাবেশ চলছিল। এ বিষয়ে চট্টগ্রামেও আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরামর্শ নেওয়ার জন্য বন্ধু আবদুর রহীম ইসলামাবাদীসহ সর্বপ্রথম হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার সাহেবের কাছে যাই। বায়তুশ শরফ গমনের পূর্বে ভাবতাম এতবড় পীর সাহেব আলীশান শাহী মহলে ডজন…
-
এক হাতে গ্রহণ অন্য হাতে দান
হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী হাদিয়া নেয়া ও দেয়া সুন্নত। আল্লাহ্ নবী সা. হাদিয়া নিতেন এবং প্রয়োজনানুসারে সকলকে দিতেনও। আমাদের দেশে হাদিয়া নিতে দেখা যায় কিন্তু দিতে দেখা যায় খুব কম। বায়তুশ শরফের পীর সাহেব যে সকল হাদিয়া পেতেন এক হাতে গ্রহণ করতেন, অন্য হাতে ব্যয় করতেন। এ তথ্য সত্য এবং আক্ষরিক অর্থেই সত্য। আরো আশ্চর্যের বিষয়, মরহুম…
-
এক অভাবিত স্বপ্নের কথা
প্রায় ১২ বছর আগের কথা। বার্জার কোম্পানীর এক অফিসার ছিলেন আমার আন্তরিক বন্ধু। একদিন আমাকে বলেন, জীবনের বিরাট একটা অংশ তো হেলা-ফেলায় কাটিয়ে দিলাম। পরকালের কি গতি হবে সে চিন্তায় অস্থির। তাই স্বস্ত্রীক আল্লাহ্ কোন ওলীর হাতে হাত রাখতে চাই। আপনি কি আমাকে সে ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দেবেন? আমি বললাম, ব্যাপারটি তো গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিলও।…
-
তাঁর কাজ ছিল জাতিকে আধ্যাত্মিকভাবে সমুন্নত করা
আজ যে মহান মনীষীকে আমরা স্মরণ করছি। যুগ-সংস্কারকদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো খুঁজতে গেলে আমরা দেখি, প্রায় সবাই ছিলেন শিক্ষক। হযরত মাওলানা শাহ্ আবদুল জব্বার ছিলেন সারা জীবন শিক্ষকতার পেশায়। কারণ দুনিয়াকে পরিবর্তন করতে হলে সমাজের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সদস্যদেরকে তৈরী করে দিতে হবে। এদিক দিয়ে ছিলেন এ পরিকল্পনার মহান কর্মবীর। একজন সংস্কারকের জন্য স্থান এবং কাল গুরুত্বপূর্ণ। স্থান…
-
তিনিও পুলিশী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন
হযরত মীর মুহাম্মদ আখতর রহ. সাহেবের স্নেহের খলিফায়ে আজম শায়খ মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. যেমন পীর তেমন সুযোগ্য খলিফা। তিনি রাজনৈতিক ময়দানে প্রত্যক্ষভাবে সক্রিয় না থাকলেও ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি ছিলেন শুভাকাঙ্ক্ষী ও পৃষ্ঠপোষক। অবশ্য সেই বিপ্লবী দীক্ষা লাভ করেছেন তাঁর মরহুম পীর মুর্শিদ থেকে। তাই তো আমরা তাঁকে দেখতে পাই ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের…
-
উসওয়ায়ে হাসানার এক জীবন্ত প্রতীক
অসীম সমুদ্রকে যেমনি একটি ছোট্ট গ্লাসে রাখা যায় না তেমনি বায়তুশ শরফের পীর ছাহেব কেবলার বিশাল কর্মময় জীবনও সংক্ষেপে আলোচনা করা অত্যন্ত সুকঠিন। তিনি ছিলেন মানব প্রেমিক নৈতিকতার শীর্ষস্থানীয় এক মহান ব্যক্তিত্ব, মুসলিম জাতিসত্বার বিলুপ্তির চক্রান্তের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন বাধার হিমালয়। শিরক ও বিদআতের প্রতিরোধ কল্পে তিনি ছিলেন এক মুজাহিদ ও বিপ্লবী মজাদ্দিদ। দাওয়াত ইলাল্লাহ…