আল্লামা শাহ্ আব্দুল জব্বার রহ. এর রুটিন ভাবনা ছিল মসজিদ প্রতিষ্ঠা। কারণ পৃথিবীর আদিকাল থেকে মসজিদ মানবজাতির জন্য আল্লাহ্র অস্তিত্ব ও একত্বের নিদর্শন এবং হেদায়াতের প্রতীক হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। মসজিদ হচ্ছে মুসলমানদের আধ্যাত্মিক, জাগতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু, আর মানবিক ও নৈতিক শিক্ষারও প্রাণকেন্দ্র। কেননা এই মসজিদের পরিবেশে থেকে মুসলমানেরা মানবতা, প্রেমপ্রীতি, সাম্যমৈত্রী, ক্ষমা-দয়া, উদারতা এবং মহানুভবতার শিক্ষাও লাভ করে থাকেন। ইসলামের স্বর্ণযুগে রাষ্ট্র প্রধানের জন্য আলাদা কোন রাজপ্রাসাদ ছিল না, ছিল না কোন সংসদ ভবন ও মন্ত্রণালয়, ছিল না মসজিদ ছাড়া ভিন্ন কোন আদালত ভবন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। আল্লামা শাহ্ আব্দুল জব্বার রহ. এর লক্ষ্য ছিল একটি কল্যাণময়ী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মসজিদের সেই লুপ্ত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা, মানুষে মানুষে বৈষম্য এবং মুসলমানদের মধ্যকার দূরত্ব ও হীনমন্যতার বেড়াজাল থেকে বের করে সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখা। কারণ বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম একটি মুসলিম দেশ। এদেশের শতকরা ৯২ ভাগ মানুষ মুসলমান। ফলে এদেশের গ্রামে গঞ্জে শহরে বন্দরে রয়েছে লাখো লাখো মসজিদ। বাংলাদেশের জনগণ খুবই ধর্মপ্রাণ, তারা আল্লাহ্র ঘর হিসেবে মসজিদকে সবচেয়ে বেশি ভক্তি শ্রদ্ধার নজরে দেখে।
মুসলমানেরা মসজিদের জন্য জায়গা জমি ও অর্থ দান করার ক্ষেত্রে মোটেও আল্লামা শাহ আব্দুল জব্বার রহ, মনে করতেন যে, যদিওবা বাংলাদেশের কার্পণ্য করে না, যার ফলে গড়ে উঠেছে বিশাল বিশাল মসজিদ ও দালান; কিন্তু এইসব মসজিদের অধিকাংশই ইসলামের ঐ স্বর্ণযুগের গৌরব ও মর্যাদা অর্জন করতে পারেনি। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে মসজিদ নির্মাণের জন্য এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আকর্ষণ যতবেশি, মসজিদ আবাদ করার ব্যাপারে ততবেশি শিক্ষা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে বেনামাজী অনৈসলামিক লোকদের হাতে মসজিদ পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত। যার কারণে মসজিদগুলো ইসলামের স্বর্ণ যুগের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও মর্যাদা লাভে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
মসজিদের এই দুরবস্থা দেখে বিশ্বকবি আল্লামা ইকবাল বলেছেন: মৃতব্যক্তির শোকে মুহ্যমান ব্যক্তির মত আজ সমাজের মসজিদগুলো নামাযীশূন্য অবস্থায় শোকগাথা গেয়ে বিলাপ করছে।
কিন্তু কেন? মসজিদ ছিল এককালে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র, সার্বিক তালিম-তরবীয়ত ও শিক্ষা প্রশিক্ষণের মারকাজ, মসজিদের চত্বরে বসেই রাসূলে করীম সা. ও খোলাফায়ে রাশেদীন ইসলামী দুনিয়ার শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ, শিক্ষা ও সামরিক বিভাগসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। তাই তিনি একটি কল্যাণময়ী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মসজিদে নববীর সেই লুপ্ত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে এবং মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করে জীবনের সকল কর্মকাণ্ড মসজিদ কেন্দ্রিক করে গড়ে তুলতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য আমৃত্যু প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন।
মাওলানা মামুনুর রশীদ নূরী
মহাসচিব, মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশ;
সহ-সভাপতি (তরিকৃত) বায়তুশ শরফ আন্জুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ।
Leave a Reply