বায়তুশ শরফের মত বরকত ওয়ালা স্থানের সাথে সম্পৃক্ততার কারণেই হয়ত এই অভাগার হজ্বে যাবার সুযোগ হয়েছে আল্লাহর রহমতে। যখনই যাবার সুযোগ হয়েছে পীর ছাহেব কেবলার সাথেই থাকার চেষ্টা করেছি। প্রথম বারে তাঁর কক্ষে শরীফাইনে, মীনায়, আরফাতে, মুজদালিফায় সে স্মৃতি বর্ণনাতীত। সেখানে থাকারই সুযোগ হয়েছিল। সেই সুযোগে যা পেয়েছি যা দেখেছি হারামাইন বসবাসরত ভক্তবৃন্দের যে ত্যাগ ও কুরবানি দেখেছি তা শিক্ষণীয়-অবর্ণনীয়।
একবারের ঘটনা, সন্ত্রীক হজ্বে যাবার সুযোগ হয়েছিল। অনিবার্য কারণে আমরা আগে চলে যাই। বায়তুশ শরফের কাফেলা কয়েকদিন পরে রওনা হয়।
আমরা স্বামী-স্ত্রী মদীনায়ে মুনাওয়ারায় মরহুম ইসলাম খান সাহেবের মুসাফিরখানায় জায়গা পাই বন্ধুবর স্নেহভাজন ডা. হারুনের সহায়তায়। একদিন যোহরের নামায পড়ার জন্য মসজিদে নববীতে আসার পথে দু’জন
চাঁটগার ভাষায় কথা বলে বলে আসছিলাম। হঠাৎ এক অল্প বয়সের তরুণ অস্থির চিত্তে আমার কাছে ছুটে এসে জিজ্ঞেস করেন- আপনি কি চট্টগ্রামের লোক? আপনি কি বায়তুশ শরফের পীর ছাহেবকে চিনেন? তিনি কোথায় আছেন বলতে পারেন কি? আমি আজ কয়েকদিন ধরে তাঁর খোঁজে হয়রান। আমাকে কি একটু সংবাদ দিতে পারেন তিনি কোথায় আছেন? অবাক হয়ে যাই তাঁর প্রশ্নের পর প্রশ্নে? আমার উত্তরের অপেক্ষা না করে প্রশ্নের পর প্রশ্নই করে যাচ্ছেন তিনি। তখন আমার মনে চিন্তা আসল সর্বক্ষণ সাথে থেকে যেই আধ্যাত্মিক মহাপুরুষকে চিনতে পারলাম না মদীনায়ে মুনাওয়ারার দুর্গম দেহাতে (একটি স্থান) থেকে এই অল্প বয়স্ক তরুণ আমার পীর ছাহেবের ছোহবত লাভের জন্য এত পাগল! চিন্তার জোয়ার আসতেই উত্তর দিলাম- ভাই আমি বায়তুশ শরফের মানুষ। হুজুরের খবর আমি আপনাকে দিচ্ছি। এ কথা বলতেই তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কেঁদে ফেললেন-আমাদেরকে দাওয়াত করলেন। আমার কক্ষে অবস্থানকারী আমেরিকা থেকে আগত হাজী আবুল হোসেন এবং ইঞ্জিনিয়ার ছিদ্দিকী ও তাঁর স্ত্রীসহ সবার জন্য সুদূর এলাকা থেকে রাতে নিজ হাতে রান্না করে যে খাবারের আয়োজন করলেন, যে অর্থ ব্যয় করলেন তাতে আমরা অভিভূত না হয়ে পারলাম না। হুজুর দু’দিন পরেই মদীনা শরীফ পৌঁছেছিলেন। হুজুরের পাগল সেই ‘আনওয়ার’ পিতা হাফেজ মফজল আহমদ, লোহাগাড়া’ কীভাবে ভক্তির নজরানা দিয়েছেন হুজুরের খেদমতে সেটি শুধু কল্পনা করা যাবে বর্ণনা করা যাবে না। এরকম বহু ঘটনা ঘটেছে মক্কা শরীফে, মদীনা শরীফে হুজুরের হজ্বব্রত পালনের সময়ে। এসব কথা লিখে শেষ করা যাবে না।
এ কে মাহমুদুল হক
শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ও প্রধান সম্পাদক, মাসিক দ্বীন দুনিয়া
প্রতিষ্ঠাতা চিটাগাং আইডিয়্যাল হাই স্কুল, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply