অনুসরণযোগ্য আদর্শ মহাপুরুষ

হুজুরের কর্মবহুল পুণ্যময় জীবন এতই বর্ণাঢ্য যে, কোথা হতে শুরু করে কোথায় গিয়ে শেষ করবো তাই ভেবে পাচ্ছি না। তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী আধ্যাত্মিক সাধক। মানব সেবা ও আল্লাহর সাধনা এ দু’টি কাজ তিনি সমান তালে করতে পারতেন। তাঁর মতো নিঃস্বার্থ ত্যাগী মুসলিম নেতা জগতে বিরল। তিনি মানুষকে সম্মান করতে জানতেন। আমাদের তিনি মানুষকে সম্মান করা শিখিয়েছেন। তাঁর দরবারে বড় ছোট, ধনী-নির্ধন সকলে সমান মর্যাদা পেত। তাঁর ইন্তেকালের খবরে চট্টগ্রামে যে মৃত্যুর স্তব্ধতা নেমে আসে ইতিপূর্বে আমি তা কখনো দেখিনি। তাঁর মৃত্যু এতই আকস্মিক ছিল যে, তাঁর মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অসংখ্য ফোনের কারণে ঘুমুতে পারিনি। সকলের একই প্রশ্ন সংবাদটা আসলে কতোটুকু সত্য? কেউ যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না।

মরহুম পীর ছাহেব ছিলেন এতিমের অভিভবাক। এতিম হিসেবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করে তিনি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে কুড়িয়ে এনে তাদের মানুষ গড়ার কারিগরে পরিণত করেছেন।

আমার এক সঙ্গী বলেছেন, একবার সাফা-মাওয়ার পাহাড়ে সায়ী করার সময় হুজুরকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা চিন্তিত হয়ে পড়লাম। সাতবার সায়ী শেষ করে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দেখি হুজুর আমাদের অনেক আগে সেখানে পৌঁছে গেছেন। এভাবে তিনি তাঁর কামালিয়াত গুণে হজ্বের সব আহকাম সহজে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতেন। যা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমি সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূত থাকাকালে একবার হজ্বের মৌসুমে তাওয়াফের সময় দেখি হুজুর কেবলা নির্বিঘ্নে আল্লাহ্র ঘর তাওয়াফ করছেন। অথচ কয়েকজন চৌকষ কূটনীতিবিদ পরিবেষ্টিত অবস্থায়ও আমি মানুষের ভিড়ের কারণে সামনে এগুতে পারছিলাম না। এভাবেই তিনি আমাদের রাহবারে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর ওফাতের পর বায়তুশ শরফে নেমেছিল লাখো লাখো শোকার্ত মানুষের ঢল। সকলের চোখে বাঁধভাঙ্গা অশ্রু। এ সবই প্রমাণ করে মানুষের কি পরিমাণ ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন তিনি।

আর কোন শবে বরাত ও শবে কদরের মুনাজাতে তাঁর দরদী কণ্ঠ শুনতে পাবো না একথা চিন্তা করতেই গা শিউরে ওঠে, মন বেদনায় ভেঙে যায়। তিনি ছিলেন অনুসরণযোগ্য আদর্শ মহাপুরুষ। সৎ ও আদর্শবাদী মানুষরাই ছিল তাঁর একান্ত প্রিয়।

এডভোকেট মীর মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন

রাষ্ট্রদূত ও সাবেক সিটি মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *