শিক্ষার আলোতে ইসলামী জীবনধারা ও সমাজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বায়তুশ শরফ আজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশের অবদান

১১ নভেম্বর ১৯৮৮ থাই উইম্যান ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে হুযুর কেবলার ভাষণ। সম্পাদক

মাননীয় সভাপতি ও সম্মানিত প্রতিনিধিবৃন্দ!

সর্বপ্রথম আমি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এ অধিবেশনের উদ্যোক্তাদের প্রতি, আমাকে এখানে আমন্ত্রণ করে এমন একটি মনোরম অনুষ্ঠানে যোগদানের সুযোগ প্রদানের জন্য। এই মনোজ্ঞ অধিবেশনের ব্যবস্থাপনার জন্য মুসলিম উইম্যান ফাউন্ডেশন অফ থাইল্যান্ড এবং তাঁদের সাথে মূল্যবান সহযোগিতা প্রদানের জন্য থাই সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগ প্রশংসার দাবিদার। এই অধিবেশন অভিষ্ঠ উদ্দেশ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।

এর মহৎ উদ্দেশ্যসমূহ হল:

১. থাইল্যান্ডের মহামান্য রাজাকে দেশের ইতিহাসে সর্বাধিককাল রাজত্বের জন্য অভিনন্দন জ্ঞাপন।

২. মহামান্য রাজাকে দেশের জনগণের অনুসৃত সকল ধর্মের প্রতি রাজকীয় সহায়তা প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন।

৩. আসিয়ান রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সুন্দর ও সুস্থ সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা।

৪. সরকারি ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সহযোগিতার দ্বার অবারিত করা।

এ চার মৌলিক আদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে সম্মানিত সভাপতি, আমি এখন আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পেশ করছি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ ফরমায়েছেন,

طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ». ‘জ্ঞানার্জন সকল মুসলমান নারী ও পুরুষের ওপর ফরজ। ১

নবী করীম জ্ঞান অন্বেষণের ওপর এতই গুরুত্ব আরোপ করেছেন যে, তিনি তাঁর অনুগামীদের এ কারণে প্রয়োজন হলে দূরতম দেশ চীন পর্যন্ত গমন করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। শিক্ষার প্রতি মহানবী -এর প্রগাঢ় অনুরাগের উজ্জ্বল নিদর্শন তিনি প্রদর্শন করেছেন বদর যুদ্ধের যুদ্ধবন্দিদের মধ্যে শিক্ষিতদের বিশেষ ব্যবহারের মাধ্যমে। তিনি তাদের নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকে দশজন করে মদীনার শিশুকে আক্ষরিক জ্ঞান দান কর এবং বিনামুক্তিপণে নিজের মুক্তি আদায় করে নাও।’

মুসলমানগণ বিভিন্ন যুগে পৃথিবীর বহু দেশ বিজয় করেছেন এবং প্রতিটি দেশেই তারা শিক্ষা বিস্তারের সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশেও মুসলমান রাজা, প্রশাসক, ওলামা-মাশায়েখ জ্ঞান বিস্তারে অত্যধিক গুরুত্ব প্রদান করেছেন।

প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশের মুসলমান শাসকগণ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মাদরাসা (স্কুল ও কলেজ) স্থাপন করেছেন এবং সেগুলোর পরিচালনার জন্য ভূসম্পদ ওয়াকফ করে গেছেন। মুসলিম-সমাজের বিদগ্ধ আলেমগণ শিক্ষার আলো বিস্তারের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। ইসলামের সর্বত্যাগী সাধক সুফিবৃন্দ এ বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন। এ মহৎ কাজে নিঃসন্দেহে তাদের অবদান অক্ষয় ও চিরস্মরণীয়। এ সকল পূণ্যত্মা সাধকগণ মানুষের অতি কাছে ছিল। তাঁদের খানকাগুলোর দ্বার সকল গরিব, অসহায়, রুগ্‌ণ, দুঃস্থ এবং বিশেষ করে পিতৃ-মাতৃহীন অনাথদের জন্য থাকত সদা উন্মুক্ত।

প্রতিটি খানকার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকত এক একটি মাদরাসা, যা দেশের আপামর জনসাধারণের মধ্যে যুগ যুগ ধরে শিক্ষার আলোক বর্তিকা অনির্বাণ রেখেছে। বাংলাদেশে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে স্থাপিত এমনই একটি মাদরাসায় মহানবী-এর নিম্নোক্ত হাদীসটি উৎকীর্ণ ছিল:

قَالَ : تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ؛ فَإِنَّ تَعَلَّمَهُ لِلَّهِ طَاعَةٌ، وَطَلَبَهُ عِبَادَةٌ، وَمُذَاكَرَتَهُ تَسْبِيحٌ، وَتَحْسِيْنُهُ للَّهُ مُسَرَّةٌ.

‘মহানবী বলেছেন, ‘জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করা তোমাদের কর্তব্য। আল্লাহর পথে জ্ঞান অর্জন আত্মসমর্পণ, এর অন্বেষণ আল্লাহর প্রতি আত্মনিয়োগ, জ্ঞানের আলোচনা, আল্লাহর প্রশংসা, জ্ঞানের সমৃদ্ধি সাধন স্বর্গীয় আনন্দ উপভোগ করার মতো।”

এ থেকে সহজেই অনুধাবন করা যায়, মুসলমানগণ শিক্ষা বিস্তারের ওপর কি পরিমাণ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। মহানবী-এর একটি হাদীসে বর্ণিত আছে,

إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُوْ لَهُ».

‘মৃত্যুর পর মানুষের সকল কর্ম চিরতরে স্তব্দ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি জিনিস তার ব্যতিক্রম। প্রথম সদকায়ে জারিয়া, দ্বিতীয় মৃত ব্যক্তিটির জ্ঞান যা মানুষের কল্যাণ সাধন করেছে, তৃতীয় ধার্মিক ও সৎ পুত্র-কন্যা যারা তার জন্য প্রার্থনা করে।’২

উল্লেখিত হাদীসের আলোকে সকল মুসলমান নর-নারী শিক্ষা বিস্তারে অব্যাহত তৎপরতা চালিয়ে গেছেন। শিক্ষা বিস্তার ও তার সহায়তাকে মুসলমানগণ চিরদিনই একটি ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বর্তমানেও করছেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ অতীতেও শিক্ষার জন্য মুক্তহস্তে দান করে গেছেন এবং এখনও করছেন।

আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ একটি মসজিদভিত্তিক আধ্যাত্মিক, ধর্মীয়, তামাদ্দুনিক, অরাজনৈতিক ও মানবসেবামূলক সংগঠন। মসজিদ, আপাত অর্থে যদিও ইবাদতগাহ, কিন্তু একথা মনে রাখতে হবে যে, মহানবী তাঁর সকল পার্থিব এবং আধ্যাত্মিক কর্ম পরিচালনা করেছেন মদীনার মসজিদে নববী থেকে। আনজুমনে ইত্তেহাদ প্রতিষ্ঠার পেছনে এর স্থপতির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং মানুষের সার্বিক কল্যাণ। বর্তমান বিশ্ব সমস্যায় জর্জরিত; মানুষ আজ হতাশা ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্বহীনতার অন্ধকারে দিশেহারা। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং মানব-সভ্যতার জন্য বিপদজনক। মানবতার জন্য এটা আজ এক মহাসঙ্কট।

ইসলাম মানুষকে আশরাফুল মখলুকাতের মর্যাদা প্রদান করেছে, অর্থাৎ ইসলামে মানব-জাতি সৃষ্টির সেরা। সুতরাং একজন যথার্থ আদর্শ মানব অর্থাৎ একজন সত্যিকারের মুমিনের কর্তব্য সাহসিকতার সাথে এ সমস্যার সম্মুখীন হওয়া এবং এর সঠিক সমাধান খুঁজে বের করা। আনজুমনে ইত্তেহাদ মানুষকে সে লক্ষ্যে পৌঁছার সিরাতল মুস্তাকীম প্রদর্শনের একটি মহৎ প্রচেষ্টা। এটি এমন একটি ধর্মীয় সামাজিক ও তামাদ্দুনিক আন্দোলন যা মানুষকে একজন সত্যিকারের মুমিনে রূপান্তরিত করার প্রয়াসে লিপ্ত।

আনজুমনে ইত্তেহাদের সকল কর্মকাণ্ড ইসলামের মৌলিক আদর্শের ওপরই ভিত্তি করে পরিচালিত মানব-জাতির প্রতি এর আহ্বান হচ্ছে, নিজের সুপ্ত সত্তাকে বিকশিত করা। সত্যের পথে নিজকে পরিচালিত করা এবং কুরআন ও সুন্নাহর শাশ্বত আলোকে সুখ শান্তিময় জীবন অর্জন করা। ভবিষ্যতের জন্য একটি সুন্দরতর পৃথিবী গড়ে তোলা। যুবসমাজকে হতাশা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে তাদের সৃজনী শক্তিকে সুন্দরতর কর্মে নিয়োজিত করার জন্য ১৯৮০ সালে আনজুমনে ইত্তেহাদের যুব সংগঠন আজুমনে নওজোয়ান বাংলাদেশ (একটি অরাজনৈতিক সমাজসেবী যুব সংগঠন) গঠন করেছে।

আনজুমনে ইত্তেহাদের সার সংক্ষেপ হচ্ছে,

১. ইসলামের আলোকে বিশ্বাস ও কর্মের সমন্বয়ে মানুষকে সত্যিকার মোমেনে রূপান্তরিত করা।

২. মসজিদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয়, তামাদ্দুনিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা।

৩. উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজে মানুষের ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, তামাদুনিক উন্নয়ন সাধন করা।

এ আদর্শ ও উদ্দেশ্যসমূহকে সামনে রেখেই হযরত মাওলানা শাহসুফি মীর মোহাম্মদ আখতার সাহেব ১৯৫২ সালে আনজুমনে ইত্তেহাদ প্রতিষ্ঠা করেন। জীবনের ২৮তম হজব্রত পালণ করতে গিয়ে তিনি ১৯৭১ সালে পবিত্র মিনায় ইন্তিকাল করেন এবং মক্কায়ে মুআয্যামায় জান্নাতুল মুআল্লায় সমাহিত হন। তাঁর জীবনাবসানে এ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার ভার আমার স্কন্ধে ন্যস্ত হয়। বর্তমানে সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপী আমাদের কর্মকেন্দ্রসমূহ সক্রিয় রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে আমরা মানুষের নৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাগত ও বৈষয়িক উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। নিম্নে আমাদের প্রতিষ্ঠান ও কর্মপদ্ধতিসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা প্রদান করা হল: ১. মসজিদ: আমাদের নির্মিত সকল মসজিদসমূহ মসজিদ বায়তুশ শরফ নামে পরিচিত। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আমরা ২৩টি (৮৮ সাল পর্যন্ত) মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, ঢাকা, কক্সবাজার, আখতারাবাদ (কুমিরাঘোনা) মসজিদই প্রধান। চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদের প্রধান কার্যালয়। সেখান থেকে আনজুমনে ইত্তেহাদের দেশব্যাপী কর্মকাণ্ডসমূহ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প। একটি মসজিদ, একটি আদর্শ মাদরাসা, একটি এতিমখানা, একটি হেফজখানা, বেকার-অসহায় বিশেষ করে এতিমদের পেশাগত দক্ষতা প্রদানের উদ্দেশ্যে নিবেদিত কয়েকটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, একটি ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠান, একটি পাঠাগার, একটি ছাপাখানা, একটি দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র, একটি লাইব্রেরি, একটি ফুরকানিয়া মাদরাসাসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এ বৃহৎ প্রকল্পটি গঠিত।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযোগ্য, বায়তুশ শরফ মসজিদসমূহ কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিক ইবাদতের স্থান নয়, বরং এটি ভক্ত-অনুসারীদের জ্ঞানচর্চা এবং সত্যিকারের মুমিন হিসেবে নিজের জীবন গঠনের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের একটি কেন্দ্র বটে।

চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফের অনুরূপ, চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে লোহাগাড়া থানার কুমিরাঘোনায় (আখতারাবাদ) আমাদের একটি কেন্দ্র রয়েছে। একটি মসজিদ, একটি এতিমখানা, একটি হেফজখানা মৎস্যচাষ প্রকল্প, ফলের বাগান, সেচপ্রকল্প এবং কয়েকটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিয়ে এটিও একটি পূর্ণাঙ্গ বৃহৎ কর্মকেন্দ্র। এখানেও আজুমনে ইত্তেহাদ একটি দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনা করে থাকে।

উপরোক্ত বর্ণনা থেকে অনুধাবন করা যাবে যে, এ সংগঠনের প্রাথমিক পর্যায় থেকে উচ্চতর পর্যায়ে শিক্ষা প্রদান এবং গবেষণার কাজ পরিচালনা করে থাকে। সুতরাং এর কর্মপদ্ধতি শুধুমাত্র শিশু-কিশোরদের শিক্ষা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিরক্ষর বয়স্কদের আক্ষরিক জ্ঞান ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে উচ্চ শিক্ষিত চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও গবেষণা পরিচালনার সুযোগ এই সংগঠন সৃষ্টি করেছে। ২. এতিমখানা: আমাদের এতিমখানাসমূহ প্রকৃত অর্থে সামাজিক উন্নয়ন

কেন্দ্র। আমরা সর্বমোট চারটি এতিমখানা দেশের বিভিন্নস্থানে পরিচালনা করে থাকি (৮৮ সাল পর্যন্ত)। এতিমরা সম্পূর্ণ আমাদের খরচায় খানা-পিনা, পোষাক-পরিচ্ছদ, থাকার ব্যবস্থা, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ এবং উপযুক্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দান করা হয়ে থাকে। তাদের যথার্থ পার্থিব ও ধর্মীয় শিক্ষাদান ছাড়াও সেলাই, কাঠের কাজ, প্যাকেজিং, কম্পোজিং, বাজারের থলে তৈরি, লজেঞ্জ তৈরি, ছাপাখানার কাজ, বুক বাইন্ডিং, হস্তচালিত তাঁত শিল্প, বৈদ্যুতিক কারিগরী, বাঁশ ও বেতের কাজ, চুল কাটা প্রভৃতিতে যত্ন সহকারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। যাতে তারা ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল এবং দেশের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতিমদের মধ্যে যারা মেধাবী তাদের উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থাও রয়েছে। তাছাড়া গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের আনজুমনের তরফ থেকে বিভিন্ন বৃত্তি ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়।

৩. উদ্যান ও কৃষি খামার প্রকল্প: আমরা বেশ কয়েকটি খামার ও উদ্যান প্রকল্প পরিচালনা করে থাকি। তার মধ্যে ফলের চাষ, মৌমাছির চাষ, মাছের চাষ এবং শুল্ক মৌসুমে পানি সেচের মাধ্যমে ধানের চাষ প্রকল্পই প্রধান।

৪. গণস্বাস্থ্য প্রকল্প: আমরা বেশ কয়েকটি দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য প্রকল্প পরিচালনা করে থাকি। বর্তমানে ঢাকা বায়তুশ শরফ দারুশ শেফা হাসপাতাল, কক্সবাজার বায়তুশ শরফ শিশু হাসপাতাল প্রভৃতিতে গরিব রোগীরা এখানে বিনাপয়সায় ডাক্তারের উপদেশ, ব্যবস্থাপত্র এবং ওষুধ-পত্র পেয়ে থাকে। এটি অ্যালোপ্যাথিক এবং হোমিওপ্যাথিক উভয় দিকেই আছে। আনজুমনে ইত্তেহাদের অন্যতম অঙ্গ সংস্থা বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত ২৫টি পুস্তক প্রকাশ করেছে (৮৮ সাল পর্যন্ত)। আনজুমনে ইত্তেহাদের বিভিন্ন কেন্দ্রসমূহ বৎসরের বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় সমাবেশের (মাহফিল) আয়োজন করে থাকে। সেখানে অসংখ্য আল্লাহর বান্দা ধর্মীয় ও সামাজিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ লাভ করে থাকে।

আনজুমনে ইত্তেহাদের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হল বিভিন্ন সময়ে বন্যা, তুফান ও জলোচ্ছ্বাসের সময় দুর্গত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া। এতে আনজুমনের একটি অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। আনজুমনের তরফ থেকে প্রতি বছর গরিব-অসহায়দের ঘর-বাড়ি নির্মাণ ইত্যাদির জন্যও আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়ে থাকে।বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ১৯৮৫ সালে এ প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশে ইসলাম’ শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারের ব্যবস্থা করেছিল।

উল্লেখযোগ্য যে, বায়তুশ শরফ গবেষণা প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশে সর্বপ্রথম সুদ-বিহীন ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর একটি সেমিনারের আয়োজন করে, যার ফলশ্রুতিতে কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে প্রথম ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি আনজুমনের জন্য নিঃসন্দেহে একটি গৌরবের কাজ।

এভাবে আনজুমনের বাস্তব এবং যথোপযুক্ত কর্মপদ্ধতিসমূহ মানুষকে সত্যিকারের মুমিন হিসেবে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে। দেশের গরিব, অসহায়, দুঃস্থ ও এতিমদের পুনর্বাসিত হতে সহায়তা প্রদান করছে। তাই আজুমনে ইত্তেহাদ এবং এর কর্মকেন্দ্র মসজিদ বায়তুশ শরফসমূহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে সর্বস্তরের অসংখ্য মানুষের শ্রদ্ধার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এ ঐতিহাসিক সমাবেশে যখন থাইল্যান্ড তার মহাসম্মানিত রাজা ভূমিবল মহারাজার ‘রাজা মঙ্গল পিছেক’ অর্থাৎ দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতমকাল রাজত্বের উৎসব উদযাপন করছে, আমি আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের পক্ষ হতে মহামান্য রাজাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

আমরা সত্যিকারভাবে মহামান্য রাজার প্রতি কৃতজ্ঞ যে, তিনি থাইল্যান্ডের জনসাধরণের অনুসৃত সকল ধর্মকেই তাঁর রাজকীয় ছত্রছায়ায় লালিত হওয়ার সুযোগ দান করেছেন।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *