২৩ ডিসেম্বর ১৯৮৩ (জুমাবার) হাটহাজারী থানার অন্তর্গত ফরহাদাবাদ নুর আলী মিয়ার হাটে পবিত্র ঈদে-মিলাদুন্নবী উদ্যাপন উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিলে প্রদত্ত ভাষণের অংশবিশেষ। সম্পাদক
আলোচনার শুরুতে শ্রদ্ধেয় পীর সাহেব কেবলা মহান পরাক্রমশালী সত্তা আল্লাহ পাক-এর প্রশংসা ও নবীকূল শিরোমণি হযরত মুহাম্মদ-এর ওপর দরুদ পাঠ করেন এবং সমবেত শ্রোতাদের প্রতি সম্বোধন করে আল্লাহর অপরিসীম নিয়ামতের বর্ণনা প্রদান করত পবিত্র কুরআন শরীফ থেকে উদ্ধৃতি দান করে বলেন, (তোমারা মানব-জাতি) যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা করতে থাক তবে তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না। উদাহরণ-স্বরূপ তিনি বলেন, দুই হাতে আছে দশ আঙুল এগুলো এত বড় নেয়ামত যে, এগুলোর অবর্তমানে সব কিছু বেকার।
খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে, সুন্দর লেখনী, মিল-কারখানায় উৎপাদন, আকাশে উড়ো জাহাজ, মাটিতে যানবাহন চালনা, দৈনন্দিন কর্মসম্পাদন তথা সমস্ত কাজ-কর্ম এগুলো ব্যতিরেকে অসম্ভব। এমনি মানব-দেহের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর এক একটা মহান নেয়ামত। এক ফোটা অপবিত্র বীর্য থেকে সৃষ্টি করে আল্লাহ পাক যে সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ মানব সৃষ্টি করেছেন। বিবেকের কষ্টি পাথরে যাচাই করলে এসবের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে শেষ করা যায় না।
শ্রদ্ধেয় পীর সাহেব কেবলা বলেন, সাইয়েদুল মুরসালীন রহমাতুল লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ-এর সৃষ্টির কারণে মানব-দানব তথা আঠার হাজার জগতে সৃষ্টি। এ প্রসঙ্গে হাদীসে কুদসীর বাণী উল্লেখ করে বলেন, )لَوْلَاكَ لَمَا خَلَقْتُ الْأَفَلَاكَ )হে নবী! আপনাকে সৃষ্টি না করলে আমি (আল্লাহ) আকাশ মণ্ডলী তথা আঠার হাজার জগৎকে সৃষ্টি করতাম না’)’-এর থেকে বোঝা যায়, আকাশ, বাতাস, মাটি, আগুন, পানি, পশু-পক্ষী তথা সৃষ্টিকুলকে একমাত্র মুহাম্মদ -এর সৃষ্টি করার কারণেই সৃষ্টি করা হয়েছে। তাইত শায়েরের কণ্ঠে ধ্বনিত হতে শোনা যায়,
زمین و زماں تمہارے لئے ہی مکین و مکاں تمہارے لیے چنین و چناں تمہارے لئے بنے دو جہاں تمہارے لیے
কুরআন মজীদ একমাত্র মানবকূলের সার্বিক সমস্যার সমাধান। সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসীরা বলে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান; সমাজতন্ত্রে একমাত্র সমাধান। এ দাবিকে খণ্ডন করতে গিয়ে তিনি বলেন, সমাজতন্ত্র নয় কুরআনই হচ্ছে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান থেকে শুরু করে মানব-জীবনের সবদিক যথা পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সমস্যা প্রভৃতির সমাধান। কুরআন মজীদের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ পাক বলেন,
لَوْ أَنْزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللَّهِ )
‘আমি (আল্লাহ) যদি এ কুরআনকে কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম তা হলে আল্লাহর ভয়ে তা ভীত-সন্ত্রস্ত ও কম্পমান হত।’২
ভালোবাসা ও মহব্বতের মধ্যে অতিরঞ্জন ও অতিবর্ধনের কূফল বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, রাসুল-এর অনুসৃত পন্থা অনুসরণ ব্যতিরেকে তাঁকে মহব্বত করা বা ভালোবাসা হচ্ছে পরোক্ষভাবে তাঁর প্রতি শত্রুতার নামান্তর, প্রত্যেক কিছুতে অতিরঞ্জন অতিমারাত্মক। যেমন কাফেররা বলতো, আল্লাহর ঘর তওয়াফ করতে হলে নতুন কাপড় পরিধান করে করতে হবে। সেটা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা চলবে না অথবা উলঙ্গ হয়ে তওয়াফ করতে হবে। পবিত্র খানায়ে কাবার পাশে তারা তালি এবং বাঁশি বাজিয়ে নামাজ আদায় করতো। কিক) ক
খ্রিস্টানরা ঈসা-কে সম্মান ও মহব্বতের এত চরম শিখরে উন্নীত করেছিল যে, শেষপর্যন্ত তাঁকে খোদার ছেলে এমন কি তারা হযরত ঈসা-কে তিন খোদার এক খোদা বলতে দ্বিধা করল না। শিয়ারা হযরত আলী-কে এমন সম্মান প্রদর্শন করল যে, তাকে শায়খাইন অর্থাৎ হযরত আবু বকর এও হযরত ওমর-এর ওপর স্থান দিতে লাগলো। অন্য দিকে মু’তাযিলা সম্প্রদায় আল্লাহর প্রতি অসীম ভালোবাসা প্রদর্শন করতে যেয়ে ঘোষণা করল যে, কোন বান্দাকে আল্লাহ তাআলা খারাপ কাজ করার তওফিক দিতে পারে না।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আকীদা হচ্ছে, সর্বকাজের তওফিক আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। এগুলো হচ্ছে অতিরঞ্জন। শ্রদ্ধেয় পীর সাহেব কেবলা যখন লন্ডন ভ্রমণে গিয়েছিলেন তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুসলিম নামধারী কমিউনিস্ট ছাত্রের সাক্ষাৎ পান। আলাপ প্রসঙ্গে সে বলল, বাহ্যিক দৃষ্টিতে অর্থাৎ সৃষ্টজীব ছাগলের গোশত খাওয়া যদি জায়েয হয়, তবে শুয়োরের গোশত খাওয়া কেন জায়েয হবে না? সে এ রকম অশালীন প্রশ্ন কলে বসল। তিনি (পীর সাহেব) যেমন প্রশ্ন তেমন উত্তর প্রদান করলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘হে যুবক! বলো তো তোমার বোন যেমন মেয়ে অন্য একটা পরিবারের মেয়েও তেমন একটা মেয়ে, বাহ্যিক দৃষ্টিতে দুইয়ের মধ্যে তো তেমন কোন পার্থক্য নেই, তোমার বোনকে বিয়ে না করে তুমি অন্য পরিবারের একজন মেয়েকে বিয়ে কর কেন? তোমার বোনকে বিয়ে করলে তো তোমার তেমন কিছু আর্থিক ঝামেলা হবে না। তখন ছেলেটি লা-জওয়াব হয়ে মাথানত করে ধর্ম সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করল।
ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার পূর্বে যে মহানবী ছিলেন মক্কাবাসীদের প্রধান। আমানতদার, আল-আমীন বা বিশ্বাসী পরে তিনি কেন হয়ে উঠলেন সবার বিরাগভাজন ও মহান শত্রু? এর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে গিয়ে শ্রদ্ধেয় হুযুর কেবলা বলেন, মহানবী যখন বলিষ্ঠ কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, মূর্তিপূজা ত্যাগ কর।’ তখন মক্কার কাফেররা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল। শুরু হল তার ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও লাঞ্চনা। বনু হাশিম ও আবদুল মুত্তালিবের সাথে অসহযোগ নীতির সংকল্প ঘোষণা করা হলো, উহুদের যুদ্ধে তাঁর দান্দান মোবারক শহীদ হলো, খন্দকের যুদ্ধে তাঁকে পেটে পাথর বেঁধে পরিখা খনন করতে হলো। এসবের প্রকৃত কারণটা হচ্ছে, রাসুল-এর সত্যের দাওয়াতকে কাফেররা সহ্য করতে পারেনি। তাই ছলে-বলে-কৌশলে একে স্তব্ধ করার বৃথা প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। এ রকম যুগে যুগে যারা পথভ্রষ্ট জাতিকে সঠিক পথের নির্দেশনা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তাঁদের ওপর শুরু হয়েছে অকত্য নির্যাতন ও সীমাহীন নিপীড়ন। এর থেকে বোঝা যায়, ইসলাম অনেক চড়াই-উতরাই ডিঙিয়ে আমাদের কাছে পৌঁছেছে।
ইসলামই স্বাধীনতার একমাত্র রক্ষাকবচ। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি ইসলাম নির্দেশিত পথকে যথাযথভাবে মেনে চলি, স্বীয় মত ও যুক্তিকে ইসলামের স্বার্থে জলাঞ্জলি দিতে দ্বিধাবোধ না করি তাহলে ইনশাআল্লাহ কোনো পরাশক্তি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করতে পারবে না। প্রখ্যাত দার্শনিক আল্লামা ইকবাল বলেন,
توحید کی امانت سینوں میں ہے ہمارے ہی آساں نہیں مٹانا نام و نشاں ہمارا
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, একসময় জনৈক রাজনৈতিক দলের নেতা আমার কাছে দোয়ার জন্য এসেছিলেন এবং বলেছিলেন, হুযুর! আমাদের বাংলাদেশটা যদি ভারতের সাথে মিলে এক হয়ে যেত তা হলে কতইনা ভালো হত। দেখুন! এরা বংলাদেশের মাটিতে বসেই এর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার জন্য কি রকম ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাতছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বাধীনতা বড় মূল্যবান সম্পদ। তাই কবি বলছেন,
ملے اگر خشک روٹی جو آزاد رہ کر ہیں تو وہ خوف وذلت کے حلوے سے بہتر
(কবি ইসমাঈল মিরঠী)
মানবরচিত আইন নয়, একমাত্র ইসলামী আইনই যে আমাদের চলার পথের পাথেয় এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে গিয়ে যুক্তি ও তর্কের মাধ্যমে সমবেত শ্রোতামণ্ডলীকে লক্ষ করে শ্রদ্ধেয় হুযুর কেবলা বলেন, ‘মানুষের সার্বিক জীবনের সুখ-শান্তি নির্ভর করে একমাত্র ইসলামী আইনকে সমাজে যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে। আজকে যে সারা বিশ্বে অশান্তি ও হতাশার ছায়া নেমে এসেছে তার একমাত্র কারণ হচ্ছে মানুষের তৈরি আইনের প্রভাব। নেতা পরিবর্তনের সাথে সাথে আইন ও পরিবর্তন হয়ে যায়। সর্বক্ষেত্রে বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা পরিদৃষ্ট হয়। অনেকেই প্রশ্ন উত্থাপন করেন, চৌদ্দশত বছরের পুরাতন আইন কিভাবে এ প্রগতির যুগে চলতে পারে?
উত্তরে আমি বলবো, চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, নক্ষত্র, গ্রহরাজি ইত্যাদিও পুরাতন, এগুলো যে কখন সৃষ্টি হয়েছে তা গুণে শেষ করা যায় না। তা হলে এগুলোকে কি বাদ দেওয়া যাবে? এ প্রগতির যুগে এ এরকম পুরাতন জিনিস কি করে থাকবে কোনো বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি কি কোনোদিন একথার সাথে ঐকমত্য পোষণ করতে পারেন? কখনও না। তদ্রূপ ইসলামী আইনও অনুরূপ। এর থেকে বোঝা যায় যে, মানুষের তৈরি আইন পুরাতন হয়, কিন্তু আল্লাহর তৈরি আইন কখনও পুরাতন হয় না। সুতরাং কুরআনের আইনও কখনও পুরাতন নয়। শ্রদ্ধেয় পীর সাহেব কেবলা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেন, কিছুসংখ্যক আলেম ধর্মের বাহ্যিক দিক নিয়ে কাঁদা ছুড়াছুড়ি করে ধর্মের আসল স্বরূপটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা একে অপরকে নাহক-গোমরাহ প্রকৃতির মনে করছেন তাদের একট গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার।
আল্লাহ সবচেয়ে বড় ফরজ নামাজের মধ্যে তকবীরে তাহরীমার ন্যায় রুকুতে এবং সেজদায় যাওয়ার পূর্বে কান পর্যন্ত দু’হাত তোলা ইমাম শাফিয়ী -এর মাযহাবে কর্তব্য কিন্তু ইমাম আবু হানিফা -এর মাযহাবে রুকু ও সেজদায় যাওয়ার পূর্বে হাত ওঠানোর নিষেধ। তেমনি জামায়াতে নামাজে ইমাম শাফিয়ী এ-এর মতে মুক্তাদীকেও কিরাআত পড়তে হবে, কিন্তু ইমাম আবু হানিফা এ-এর মতে মুক্তাদীর কিরাআত পড়া হারাম। এই যে দুই ইমামের মধ্যে হারাম-হালালের ব্যবধান হয়ে গেল এজন্য কি (নাউযু বিল্লাহ) তাঁদেরকে কাফের বলতে হবে?
আসলে উভয়ের মাযহাবই ঠিক। কারণ উভয়ে কুরআন ও হাদীসকে বিশ্লেষণ করে মাযহাব প্রবর্তন করেছেন। আরও আলোচনার বিষয় দেখুন, হযরত ইমাম শাফিয়ী যখন একদিন কুফায় ইমাম আযম আবু হানিফা-এর মাযার যিয়ারত করতে গেলেন তখন তিনি রুকু-সেজদার প্রাক্কালে হাত ওঠালেন না। বললেন, ‘আমি কবরে শায়িত ইমাম আবু হানিফা এ-এর প্রতি শ্রদ্ধা বোধ করছি। কেননা তিনি হাত ওঠাতেন না। কত চমৎকার এ দৃষ্টান্ত! কিন্তু আজ আমরা অতিসামান্য খুঁটিনাটি নগণ্য বিষয় নিয়ে ফিতনা-ফাসাদের দাবানল জ্বালাচ্ছি।
তিনি ভারতবর্ষের হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী এ-এর একটা ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে বললেন যে, এক ভক্ত এসে বলল, হুযুর! আজ অত্যন্ত খোশ খবর নিয়ে এসেছি। তিনি বললেন, কি সুসংবাদ? ভক্ত বলল, আপনাকে যে মাওলানা সাহেব কাফের ফতোয়া দিতেন তিনি আজ মারা গেছেন। এ সংবাদ শোনামাত্রই থানভী সাহেব সেই ভক্তকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বললেন, হতভাগা তুই কি এ সংবাদ দিতে এসেছিলি? নবী করীম ইরশাদ করেছেন, ‘একজন আলেমের মৃত্যু একটি দুনিয়ার ধ্বংস হওয়ার সমান।’ হযরত জিবরাইল এসে কি তোমাকে বলে গেছেন যে, আমি হকের ওপর, না ওই মাওলানা সাহেব হকের ওপর রয়েছেন।
হিন্দুস্তানের মধ্যে প্রসিদ্ধ দু’জন আলেম একজন কিয়াম করতেন অন্যজন কিয়াম করতেন এবং একে অপরকে কাফের ফতোয়া দিতেন। ঘটনাক্রমে উভয়ের ট্রেনস্টশনে দেখা হলে পরস্পর মুআনাকা করলেন। এ ঘটনা অবলোকন করত উভয় পীরের মুরিদরা স্ব স্ব পীর সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, হুযুর! রহস্যটা বুঝতে পারলাম না। তখন এক পীর সাহেব উত্তর দিলেন, ے اور وہ اور )ইয়েহ আওর, উয়েহ আওর)।
উপস্থিত ভাইগণ, বন্ধুগণ! এখন চিন্তা করুন, আমরা কি এসব বুযুর্গ ইমামগণের অনুসরণ করবো নাকি কয়েকটি আলেম নামধারী ব্যাঙ চুনোপুঁটির লাফালাফিতে বিভ্রান্ত হবো? আপনারা জানেন, যে মাওলানা আমাকে আকীদা খারাপ বলে দেশে দেশে বলে বেড়াচ্ছেন তাকে সুদীর্ঘ ১২ বছর আমি পাঁচলাইশ ওয়াজেদিয়া আলিয়া মাদরাসায় আকায়েদের কিতাব পড়ায়েছি, যেসব কিতাবে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আকীদাসমূহ স্পষ্ট বর্ণিত আছে।
আলোচনার শেষভাগে বায়তুশ শরফের পীর সাহেব কেবলা দেশের আলেম, পীর, মাশায়েখ, চিন্তাবিদ ও সমস্ত মুসলমানকে এ সমস্ত আলেমের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে সমাজের সর্বস্তরে মহানবী-এর আদর্শকে যথাযথ বাস্তবায়নের উদাত্ত আহ্বান জানান। আলেম-সমাজ যেন সঠিক পথে পরিচালিত হন, সমস্ত মুসলমানদের মধ্যে যেন ইত্তেফাক-ইত্তেহাদ কায়েম হয় সেজন্য আল্লাহ পাকের দরবারে মুনাজাত করেন।
গ্রন্থনায়: মাওলানা আবুল হায়াত মুহাম্মদ তারেক
Leave a Reply