মঙ্গল কর্মের শিক্ষক ও মুবাল্লিগ

বায়তুশ শরফের পীর মরহুম হযরত মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. সাহেব আমার কোন আত্মীয় বর্গের কেউ নন- এ কথা সত্যি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে আমি তীব্র বেদনা অনুভব করি। গত ২৫ মার্চ বুধবার সকাল সোয়া সাতটায় তিনি চট্টগ্রাম শহরে ইন্তেকাল করেন। সে দিনই অল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ঢাকায় আমার নিকটে পৌঁছে। এ ছিল আমার নিকট অপ্রত্যাশিত একটি করুণ সংবাদ। তাঁর র মৃত্যুর দু’তিন দিন পরে দ্বীন-দুনিয়ার নির্বাহী সম্পাদক মুহাম্মদ জাফর উল্লাহর সাথে টেলিফোনে আলাপের প্রেক্ষিতেই এ প্রবন্ধের সূত্রপাত। বস্তুতঃ তাঁর অনুরোধ না হলে হয়তো মনের এ অব্যক্ত কথাগুলো অব্যক্তই থেকে যেতো।

বায়তুশ শরফের পীর মরহুম মাওলানা আবদুল জব্বার সাহেবের জীবনী আলোচনা করলে আমরা বলতে পারি, আমার মতে তিনি ছিলেন মঙ্গল কর্মে নিয়োজিত একজন উঁচু মানের শিক্ষক ও মুবাল্লিগ। বাংলাদেশে পীর মুর্শিদের অভাব নেই। কিন্তু এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরক্ষর, নিঃস্ব দরিদ্র মানুষের সেবা ও কল্যাণে নিয়োজিত পীর মুর্শিদের সংখ্যা নিতান্তই স্বল্প। হযরত মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. তথাকথিত কোন পীর ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রকৃতপক্ষে একজন সংস্কারক ও সমাজ হিতৈষী মহৎ প্রাণ আলেম ব্যক্তিত্ব। তাঁর পিতা মরহুম মৌলভী ওয়াসী উদ্দীনও ছিলেন একজন বিশিষ্ট আলেম ও বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব।

তিনি ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রাম দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করেন। এবং পরবর্তী বছরই শিক্ষকতায় নিযুক্ত হন। এ ভাবে জীবনের একটা বিরাট অংশ (চৌদ্দ বছর) হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষক হিসাবে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন- যা তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ ও জ্ঞান বিতরণের সাক্ষ্য বহন করে।

এ শিক্ষকতা জীবনের সীমাবদ্ধ পরিমণ্ডল থেকেই পরবর্তীকালে তিনি গণ মানুষের আধ্যাত্মিক শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তাঁর বাস্তব কর্মজীবন থেকে এটাই প্রত্যক্ষ করা যায় যে, আধ্যাত্মিক শিক্ষার পাশাপাশি তিনি মানব কল্যাণ ও মানব সেবাকেই জীবনের ব্রত হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি যে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ধর্মীয় ও সেবা কর্ম পরিচালনা করে গেছেন তা হচ্ছে ‘আন্‌জুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ।’ ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে একটি মসজিদভিত্তিক আধ্যাত্মিক ও মানবসেবামূলক সংগঠন। তাঁরই পীর কুতুবুল আলম শাহ্ সূফী হযরত মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতর রহ. কর্তৃক এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।


অধ্যাপক সিরাজুল হক

সম্পাদক, নিউজ লেটার, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঢাকা।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *