তিনি কত বড় আল্লাহর ওলী ছিলেন, কেমন বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন, কি অসাধারণ মেধা ও চিন্তাশক্তি সম্পন্ন আলেমে দ্বীন ও মুজাদ্দিদে মিল্লাত এবং আপোষহীন মুজাহিদ ছিলেন তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন হবে। আমরা যতটক চিন্তা করি এর চাইতেও অনেক গুণ ঊর্ধ্বে ছিল তাঁর স্থান। মানব জীবনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। হাদিসের বর্ণনামতে “সুদের সত্তরটিরও বেশি পাপ এর মধ্যে সর্বনিম্নটি হলো আপন মায়ের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া” “নাউজ বিল্লাহ!” এমন জঘন্য পাপ থেকে জাতিকে বাঁচানোর জন্যে তাঁরই চিন্তাধারা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় সুদমুক্ত ইসলামী ব্যাংক, যার শরীয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। সম্পূর্ণ বেসরকারীভাবে আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা করে জাতির জন্য বিরাট খেদমতটি তিনিই আঞ্জাম দিয়েছিলেন। দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যে প্রতিষ্ঠানটির শাখা ও মসজিদ রয়েছে সে আন্জুমনে ইত্তেহাদ ও বায়তুশ শরফের প্রাণ পুরুষ এবং আজীবন পৃষ্ঠপোষক এবং পরিচালক ছিলেন তিনি, সর্বোপরি সকল বিষয়ে যাঁর অবদান ও সর্বজনবিদিত সে মহান সাধককে হারিয়ে জাতি আজ এতিম। এ ক্ষতি কি পূরণ হবে? “একজন আলেমের মৃত্যু একটি জগতের প্রলয়তুল্য’- এ কথা যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে মরহুম হুজুর কেবলা রহ. এর ইন্তেকালে কয়টি জগতে মৃত্যু ঘন্টা বেজেছে তা কে জানে? মূলতঃ এতে এক বিরাট শুন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। হুজর কেবলা রহ. এর আগে হারিয়েছি উদীয়মান তরুণ ইসলামী চিন্তাবিদ গাজী মাওলানা আবদুল মোমেন সাহেবকে রহ. আর হারিয়েছি দরবারের একনিষ্ঠ খাদেমদের একজন মাস্টার সিরাজুল ইসলাম সাহেবকে রহ. এমনি করে বায়তুশ শরফের সাতজন উজ্জ্বল নক্ষত্রকে। এসব শুন্যতা আমাদের হৃদয়কে খানখান করে দিয়েছে।
রাসূলে করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন- “ইন্নাল্লাহা লা ইয়ান্তযাউল ইল্যা ইয়ান্তিযাআন ইয়ান্তাযিউহু মিনাল ইবাদ, ওয়ালাকিন্ ইয়াক্বাজুল ইল্মা বিকাবজিল উলামা..।”
অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ স্বীয় বন্দাদের নিকট থেকে ছোঁ মেরে ইলল্ম নিয়ে যাবেন না বরং এ ইল্ম উঠিয়ে নেবেন। (হক্কানী রাব্বানী) আলেমদেরকে দুনিয়া থেকে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। এ হাদিসের শেষ অংশে রয়েছে “যখন আর এমন (হকপন্থী ও আপোষহীন) আলেম থাকবেন না, তখন সমাজের লোকেরা মূর্খদেরকে (আলেম মনে করে) তাদের নেতা বানাবে। তখন তারা কোন ইলল্ম ছাড়াই ফতোয়া দেবে, নিজেরা পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।” সত্যিই আজ হক্কানী পীর, মাশায়েখ ও আলেমগণ একে একে বিদায় নিচ্ছেন। উম্মতের জন্য এক একটি আসন যে খালি হচ্ছে তা পূরণ কি হবে?
তিনি তো চলে গেছেন জান্নাতের সুখময় পথে। তাঁর নেই কোন ভাবনা। মহান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন, “নিঃসন্দেহে যারা বলে আমার রব মহান আল্লাহ্ এবং এরই উপর সুদৃঢ় ছিল, ইন্তেকালের সময় তাদের জন্য ফেরেশতাসমূহ নাজিল হতে থাকবে, বলা হবে “তোমাদের কোন ভয় নেই আর কোন চিন্তা নেই, তোমরা জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো যার ওয়াদা তোমাদের সাথে করা হয়েছে, আমি দুনিয়াতে তোমাদের বন্ধু এবং পরকালেও, সেখানে তোমার যা ইচ্ছে সব মজুদ রয়েছে এবং যাই দাবি করো তাই তোমরা পাবে এটি হচ্ছে মহান আল্লাহ্ পক্ষ থেকে রাজকীয় মেহমানদারী।
মাওলানা আবু সালেহ মুহাম্মদ ছলীমুল্লাহ্
অধ্যক্ষ, পতেঙ্গা ইসলামিয়া আলিয়া মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
খতিব, কেন্দ্রীয় মসজিদ বায়তুশ শরফ, ধনিয়ালাপাড়া, চট্টগ্রাম
Leave a Reply