আমি যখন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি হই তখন বোর্ডের বিভিন্ন কাজ কর্মে ওয়াজেদিয়া মাদ্রাসা যাতায়াতকালে তাঁর সাথে আরো ঘনিষ্ঠতা হয়। বায়তুশ শরফের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম পীর মোহাম্মদ আখতর রহ. এর ইন্তেকালের পর মাওলানা আবদুল জব্বার খলিফা হিসেবে বায়তুশ শরফের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন থেকে উনি আমাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। বিভিন্ন কর্মে আমার কাছ থেকে পরামর্শ নিতেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৮ বছর আমার সাথে উনার বিশেষ হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। মূলত পীর সাহেব হিসেবে নয় একজন আধুনিক সমাজ সংস্কারক হিসেবে আজীবন তিনি মানুষের খেদমত করে গেছেন। মরহুম পীর সাহেবের খেলাফতের সময়ে সারা বাংলাদেশে যতগুলো মসজিদে বায়তুশ শরফ, হাসপাতাল, দাতব্য চিকিৎস্যালয়, এতিমখানা, হেফজখানা, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে দেশের অগণিত এতিম ছেলেদের আশ্রয় ও শিক্ষিত করে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে পুনর্বাসন করেছেন। এর জন্য বাংলাদেশ সরকারের উচিত তাঁকে মরণোত্তর বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা। সরকার এ মহান গুরু দায়িত্ব পালন না করলে আল্লাহ্র কাছে সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি ইসলামের প্রচার এবং প্রসারের পাশাপাশি আজীবন জাতির যে খেদমত করে গেলেন তার জন্য জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
ক্ষণজন্মা এ মহান সাধক ও আলেমে দ্বীন জাতির খেদমতের পাশাপাশি ১৯৯৪ সাল থেকে দেশের শ্রেষ্ঠ গুণীজনদের সংবর্ধনা দিয়ে সম্মানিত করে আসছেন। আমার মতো একজন বৃদ্ধ আলেমকে ১৯৯৬ সালে বায়তুশ শরফ আন্জুমনে ইত্তেহাদ কর্তৃক সংবর্ধনা দিয়ে আমাকে সম্মানিত করায় আমি তাঁর কাছে চির ঋণী হয়ে থাকব।
হযরত মাওলানা আবুল কামাল মুজহের আহমদ
রেক্টর, হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসা, কক্সবাজার।
সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।
Leave a Reply