আমার মহান ওস্তাজ শাইখুল হাদিস আল্লামা শাহ মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ. শুধু পীর-মুর্শীদ ছিলেন না, একজন বড় লেখক ও গবেষকও ছিলেন। আমি তাঁর জ্ঞান পিপাসা দেখে মুগ্ধ হতাম। তিনি এত ব্যস্ততার মাঝেও অধ্যাপনা ছাড়েননি-প্রচুর পড়তেন। আবার পড়ুয়াদের মুহাব্বত করতেন। বিশালাত্মার এ মহান উস্তাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম থেকে পাঠক, লেখক ও গবেষক সৃষ্টির নিমিত্তে গড়ে তোলেন ‘বায়তুশ শরফ গবেষণা প্রতিষ্ঠান’। আমিও ছাত্র জীবনে এখানে অনেক দুর্লভ ও মূল্যবান বই-কিতাব নাড়াচাড়া করার সুযোগ হাতছাড়া করিনি। আজ ‘বায়তুশ শরফ গবেষণা প্রতিষ্ঠান’ ইতিহাসের এক অমর সাক্ষী। কারণ মুসলিম উম্মাহ্ সুদ নামক জঘন্য পাপ থেকে বাঁচতে ইসলামি শরীয়া মোতাবেক ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যায় কি না তা এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বসেই প্রথম গবেষণা করা হয়েছিল, যার ফলস্বরূপ আজকের সুপ্রতিষ্ঠিত এই ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি.’ এর জন্ম। তাই ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ বায়তুশ শরফের মরহুম দুই পীর ছাহেবকে আমরণ শরীয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে রেখেছিলেন। আমার মতে, এই পদটি এখন হুজুরদের স্থলাভিষিক্ত রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নী (ম.জি.আ.) এর প্রাপ্য। আমি আশা করি ভবিষ্যতেও জাতীয় স্বার্থে ‘বায়তুশ শরফ গবেষণা প্রতিষ্ঠান’ গবেষণা জার্নাল প্রকাশ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও নানা গবেষণার আয়োজনের মধ্য দিয়ে আরো বেশি অর্থবহ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশে খুব কম সংখ্যক দরবারই আছে, যার নিজস্ব প্রেস ও প্রকাশনা আছে। আলহামদুলিল্লাহ, বায়তুশ শরফ দীর্ঘ ৪৪ বছর থেকে নিয়মিত নিজস্ব প্রেসে একটি মননশীল পত্রিকা ‘মাসিক দ্বীন দুনিয়া’ নামক একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করে আসছে। মূলত এর মাধ্যমে তারা সহজে কুরআন-সুন্নাহ’র বাণী ও শিক্ষণীয় বিষয়াদি বাংলার মুসলিম নর-নারীদের মাঝে প্রচার ও প্রসার করতে পারছে। আরো খুশির বিষয় যে, বিগত ২৫ বছর ধরে নিয়মিত মাসিক ‘শিশু কিশোর দ্বীন দুনিয়া’ বের করে ছোটদের দ্বীনমুখী করার বিশেষ চেষ্টা করা হয়েছে। এতে করে ছোটদের মাঝে পাঠকের সাথে সাথে লেখকের সংখ্যাও বাড়ছে। আর শিশু-কিশোররা লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারছে তাদের সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা। তারা শৈশবকাল থেকেই দ্বীনের বিধিবিধান জেনে আ’মলের দিকে ঝুঁকছে। আলহামদুলিল্লাহ্।
-ড. মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল কাদের নিজামী
অধ্যক্ষ, লোহাগাড়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply