তিনি নিঃসন্দেহে মোজাদ্দেদ

পীর সাহেবদের সম্পর্কে আমার পূর্বেকার ধারণা তেমন প্রীতিকর ছিলনা। আমার ধারণা ছিল পীর যিনি হবেন তিনি একটি সুন্দর মখমলের আসনে সমাসীন হবেন। অনেক খাদেম তাঁর থাকবে। যারা সর্বক্ষণ তাঁর খেদমতে ব্যতিব্যস্ত থাকবেন। আর পীর হবেন মাখদুম যিনি খেদমত নিবেন শুধু।

১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফে তিনদিনব্যাপী জাতীয় সেমিনারে অংশ নেওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। সে সুবাদে মোজাদ্দেদ মাওলানা আবদুল জব্বার রহ.কে খুব কাছ থেকে দেখে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা হল সেমিনারে প্রথম দিন যখন রাতে খাবারের প্রশ্ন আসলো তখন দেখলাম তিনি নিজ হাতে অতিথিদের খাবার পরিবেশন করছেন এবং তার প্রতি বারবার তাকাচ্ছিলাম আর মনে মনে ভাবলাম আমার কল্পিত পীর আর সম্মুখস্থ বায়তুশ শরফের হযরত মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. এক সমান পীর নন।

আমার ক্ষুদ্র জীবনে পৃথিবীর সব ক’টি মহাদেশ আমি সফর করেছি। অনেক পীর বুযুর্গদের মাযার জেয়ারতের নসীবও আমার হয়েছে। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পীর মাশায়েখদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগও আমার হয়েছে। একটি কথা একান্ত এখলাছের সাথে বলছি, কোন অতিরঞ্জন করছি না। শরীয়ত, তরিকত, হাকিকত, মা’রেফত সব ক’টির সমন্বিত মুর্শিদ অতি নগণ্য সংখ্যক ছাড়া আমার চোখে পড়েনি। কিন্তু বায়তুশ শরফের মোজাদ্দেদ মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. এর মধ্যে সব ক’টির অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল বলে আমার মনে হয়েছে।

একটি বিষয় আনন্দের সাথে না জানিয়ে পারছি না। তা হল- ‘বাংলাদেশে ইসলামের আবির্ভাব’ শীর্ষক সেই দিনের সেমিনারে আমার একটি পেপার উপস্থাপনের সুযোগ হয়েছিল। প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয় সে প্রবন্ধটির উপর কঠোর সমালোচনাও হয়েছে। বিশেষ করে সে সময়ের বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহা-পরিচালক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য ড. আবদুল করীম তার বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে প্রবন্ধটির গঠনমূলক সমালোচনা করেছিলেন। আশ্চর্যের ব্যাপার হল পরবর্তীতে কে বা কারা আমার সে লেখাটি জাপানে ইংরেজিতে ভাষান্তর করেন। Islam in Bangladesh নামে প্রকাশিত ইংরেজি বইটির একটি কপি আমার কাছেও পাঠিয়েছেন। আমি আজ অব্দি জানিনা এ কাজটি কে করেছেন। আমার উপলব্ধি হল এটা আমার জন্য বায়তুশ শরফের পীর সাহেবের কারামত বৈ কিছুই নয়।

-ড. আ. ন. ম. রঈস উদ্দীন

প্রফেসর, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

</p>


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *