মরহুম মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের আলেম সমাজে ছিলেন একজন উজ্জ্বল ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। তিনি একদিকে যেমন ছিলেন একজন বিশিষ্ট আলেম তেমনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। বৃহত্তর মুসলিম সমাজের অনগ্রসরতার কারণসমূহ মাওলানা আবদুল জব্বার সাহেব রহ. অনুধাবন করেছিলেন অশেষ বেদনা আর মমতায়। বেদনা আর মমতার যুগল অনুভূতি তাঁকে প্রাণিত করে শিক্ষক-প্রচারকের ভূমিকা থেকে কর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে। ক্ষুধাগ্রস্ত, মূর্খ, নিপীড়িত মানুষের কাছে ধর্মের কথা পরিহাস মাত্র।
বাংলাদেশ নামের এই ভূখণ্ডে কিভাবে ইসলামের প্রচার হয় ইতিহাসবিদদের গবেষণার বদৌলতে তা আজ আর অজানা নয়। শাসক গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় বা অস্ত্রের জোরে এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের বহু আগে, সুলতানী বা মোগল যুগের পূর্বে, সাধক সূফী দরবেশ যাঁরা এদেশে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন তাঁরা শুধু ইসলামের সাম্য মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেই তাঁদের কর্তব্য শেষ করতেন না। এদেশের নিম্নবর্ণ, হতভাগ্য, মনুষ্যত্বের অধিকার ও মর্যাদা বঞ্চিত মানুষদেরকে যারা ছিল এদেশের বৃহত্তর আদি জনগোষ্ঠী তাঁদেরকে এই সাধকেরা কৃষিকাজ থেকে শুরু করে সমাজবদ্ধ সভ্য জীবন প্রণালী হাতে ধরে শেখাতেন। শুধুমাত্র উপদেশ খয়রাত করে নয়, নিজেদের জীবনের দৃষ্টান্ত দিয়ে তাঁরা দিশেহারা এসব মানুষকে দ্বীনের পথে এনেছিলেন। মরহুম মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. ছিলেন সেই সাধকদের উত্তরসূরী।
তিনি উপলব্ধি করেছিলেন বর্তমানে শুধু নয় সকল কালে বিশ্বের কাছে মুসলমানরা যদি তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চায়, চায় যদি সম্মান আদায় করতে তাহলে সভ্যতার অগ্রগতিতেও তাদের অবদান রাখতে হবে- যেমন তাঁরা রেখেছিলেন ইসলামের ইতিহাসে প্রথম পাঁচ শতকে। সেই হারানো ধারাবাহিকতাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে যেমন তেমনি শিল্প, সাহিত্য, দর্শনে এক কথায় মানুষের সামষ্টিক সৃজনশীলতায় ইসলামের ধারাটিকে সংযুক্ত করার মধ্যেই ইসলামী রেনেসাঁর চাবিকাঠি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যাঁরা ছিলেন পথিকৃৎ তাঁদের মধ্যে তিনি ছিলেন অগ্রণী। বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট কমিটির প্রথম সভাপতি হিসেবে তাঁর ভূমিকা সবাই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন। চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের বাইরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামও তাঁর প্রজ্ঞা এবং কর্ম উদ্দীপনার সাক্ষ্য বহন করবে যুগ যুগ ধরে।
-প্রফেসর মোহাম্মদ আলী
প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply