স্বাধীনতা দিবস পরিণত হয়েছিলো শোক দিবসে

মরহুম বায়তুশ শরফের পীর সাহেব হযরত মাওলানা আবদুল জব্বার রহ.কে আশির দশক থেকে জানতাম। তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য মনের মধ্যে প্রচণ্ড একটা টান অনুভব করতাম। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজের ছাত্র থাকাকালীন মাঝেমধ্যে চট্টগ্রাম ধনিয়ালাপাড়াস্থ বায়তুশ শরফে ছুটে যেতাম। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বিশেষ করে শবে বরাত, শবে কদরে আবেগময় দরদী দিলে, হৃদয় জুড়ানো মুনাজাতে আপুত হতাম।

আমাদের দেশে সুধী মহল ‘পীর শব্দটা শুনলে ঘাবড়ে যান। আমি মনে করি তার কারণ হচ্ছে কতিপয় স্বার্থবাদী অযোগ্য ব্যক্তি পীর ছদ্মাবরণেঃ ইসলামের সুন্দর ধারাটিকে ব্যবসায় রূপান্তর করেছেন। ফলে, প্রকৃত রূপটি লোপ পাচ্ছে, মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে সাধারণভাবে আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া, যাদের ইসলামকে গভীরভাবে জানার সুযোগ হয়নি তারাই ইসলাম সম্পর্কে বিরূপ অভিজ্ঞতায় মনটাকে বিষিয়ে তুলেছেন। আমার বিশ্বাস ইসলামের সত্যিকারের আধ্যাত্মিক ধারাটিকে সর্বজনীন অনুকরণীয় ও গ্রহণীয় করার ক্ষেত্রে মরহুম হযরত মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. ছিলেন একজন কালজয়ী ব্যক্তিত্ব।

আমার মনে হচ্ছে মরহুম মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. ইসলামকে জীবনের সর্বাবস্থায় বাস্তবায়নকে তাঁর জীবনের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। তাই দেখা যায় অনেক বিপথগামী মানুষ তাঁর কাছে এসে সঠিক পথের সন্ধান পেয়েছেন, দিকভ্রান্ত মানুষকে সুন্দর পথের নির্দেশনা দিয়েছেন। যে কাজটি করেছিলেন আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে মদিনার সর্দার হুজুরপুর নূর সা. এবং পরবর্তীতে যুগেযুগে আল্লাহ্র মকবুল অলিরা।

মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. শুধুমাত্র বায়তুশ শরফের পীর ছিলেন না। তিনি ছিলেন এদেশের একজন প্রকৃত অর্থে অভিভাবক। আমরা ব্যক্তি মাওলানা আবদুল জব্বার রহ.কে হারাইনি, হারিয়েছি একজন সাধক একজন মহাপুরুষ, একজন সিপাহসালার, ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের একজন প্রথম সারির কর্মীকে। ১৯৯৮ সালের ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার ছিল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। ভাগ্যচক্রে সে দিনটি ছিল তাঁর জানাযা দিবস। আজকাল স্বাধীনতা দিবস সাধারণ মহা আড়ম্বরের সাথে উদ্যাপিত হয়। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, সে দিন গোটা চট্টগ্রাম শহরের কোথাও একটা মাইকও বাজেনী। শুধুমাত্র চট্টগ্রামবাসী নয় সমগ্র দেশের কোটি কোটি মানুষকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে তিনি পরম প্রেমাস্পদের কাছে চলে গেছেন।


ড. সিরাজুল হক শাহজাহান

সহকারী অধ্যাপক, মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *