ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণরত ইমামদেরকে হেদায়ত দানের জন্য মাঝে মাঝে তাঁকে দাওয়াত দেয়া হতো। একজন অত্যন্ত উঁচুমানের আলেম হয়েও তিনি প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চল থেকে আগত প্রশিক্ষণার্থী ইমাম তথা আলেমগণের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সহজ সরল ভাষা ও উপমা প্রয়োগে কথা বলতেন। কখনো কখনো তাঁর বক্তব্যে হাস্যরসাত্মক উপমা শুনে ইমামগণ নির্মল আনন্দ পেতেন। কিন্তু ইমাম সাহেবগণ অবাক হতেন, এরূপ সহজ সরল কথায় কেমন করে দর্শনের অতি গূঢ় রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব? তাদের মনোজগতে গভীর নাড়া দিয়ে অতঃপর তিনি ইমাম সাহেবগণকে আহ্বান জানাতেন কর্তব্যের জগতে। বর্তমান সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে ইমামগণের করণীয় সম্পর্কে দিতেন বাস্তবমুখী কর্মসূচী। তিনি বলতেন ইমাম সাহেব যদি তাঁর মুসল্লিগণের নৈতিক প্রাধান্য অর্জন করতে চান তবে পার্থিব কোন বিষয়ে মুসল্লীগণের মুখাপেক্ষী হলে চলবেনা। রিযিকের ব্যাপারে আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের মুখাপেক্ষিতা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে তিনি ইমাম সাহেবগণকে পরামর্শ দিতেন-ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী আপনাদেরকে আয় রুজি বাড়ানো জন্য যে সকল কর্মসূচী দিচ্ছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে ভাল কথা। তবে ইমামতি পেশায় নিয়োজিত থেকে অন্ততঃ দু’টো কাজ করা সহজ। তা হলো আতর এবং কিতাব বিক্রয় করা। কারণ আতর ব্যবহার করা সুন্নত, নামাযের পরে মুসল্লীগণের নিকট এই সুন্নত সম্পর্কে বয়ান করা যায়। দ্বীন সম্পর্কে জানার জন্য কিতাবের বিকল্প নাই, একথা সময় ও সুযোগ মতো মুসল্লিগণকে বলা যায়। অতঃপর মুসল্লীগণ যদি ইমাম সাহেবের হুজরাখানায় উন্নতমানের আতর এবং ভাল ভাল কিতাব দেখতে পান তাহলে তারা ক্রয় করতে আগ্রহী হওয়া স্বাভাবিক। এভাবে আরো নানা প্রকার হালাল উপায়ে ইমাম সাহেবান চেষ্টা করলে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করতে পারেন। সমাজে গড়ে তুলতে পারেন তাঁর মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান। তবে স্মরণ রাখতে হবে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করা একজন মুমিনের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারেনা। ইমাম ছাহেবগণ দুনিয়াবী মোহমায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আখেরাতের জিন্দেগী সম্পর্কে ভুলে গেলে এর চাইতে দুঃখের আর কিছু হতে পারে না। অনেকেই হয়ত অবগত আছেন যে, হুজুরের একান্ত আগ্রহ ও প্রেরণায় ১৯৮০ সালে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী চট্টগ্রামের কার্যক্রম সর্বপ্রথম শুরু হয় ধনিয়ালাপাড়াস্থ বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে। পরে তা পাহাড়তলী হাজী ক্যাম্পে স্থানান্তরিত হয়। ইমাম সাহেবগণ আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তাঁর নিজের, দেশের ও দশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুন- এটা তিনি আন্তরিকভাবে চাইতেন।
মোহাম্মদ নূরুল আমিন জাওহার
উপ-সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, বায়তুল মোকাররম, ঢাকা।
Leave a Reply