আজ সমাজের চিত্রটা এমন হয়েছে যে, যে কোন ব্যক্তি বিশেষ করে দ্বীনি লাইনের কোন ব্যক্তি যদি কিছুটা ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হয়ে উঠেন তখন নিজেকে শুধু মাখদুমিয়াত বা সেবা পাবার যোগ্য বলে মনে করে শুধু সেবা গ্রহণ করতে চান। অথচ আল্লাহ্ পাক বলেন, তোমরা শ্রেষ্ঠ জাতি, তোমাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই বায়তুশ শরফের মহান ওলী নিজেকে মাখদুম মনে করতেন না। বরং নিজেকে মানুষের সেবায় নিবেদিত করে দিতেন। যেমনটি করেছিলেন আল্লাহ্ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সা.। আমাদের যতদূর জানা আছে যে, বাংলাদেশের বহুপীর মুরীদদের থেকে শুধু হাদিয়া গ্রহণ করতেই থাকেন, বহুপীর মুরীদদের দিয়ে বিভিন্ন শহরে- ভি.আই.পি/অভিজাত এলাকার বহুতল বিশিষ্ট ভবন, গাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য নিজেদের ভাগ্য গড়ার জন্য অনেক কিছু করেছেন। বিশ্বাস করুন সমাজে এখনও অনেক পীর আছে যারা এই পীরগীরিকে একটা ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়ে বিভিন্নভাবে ভাগ্য পরিবর্তনের ওয়াদা দিয়ে, পীরের দালালরা তার কারামতীর তেলেসমাতী বর্ণনা করে অসংখ্য দ্বীনের কাংগাল লোকদের থেকে কোটি কোটি টাকা এবং সম্পদ হাতিয়ে নেয়। মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! পণ্ডিত ও সংসার বিরাগীদের অনেকে লোকদের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলছে- এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রাখছে।’ -(সূরা তওবা)
কিন্তু বায়তুশ শরফের এ মহান ওলী উচ্চ বিলাসী ছিলেন না, এজন্য সম্পদের প্রতি কোন মোহ তাঁকে আক্রান্ত করতে পারেনি। তাই তিনি তাঁর- শত শত এলিট পার্সন মুরীদ ও ভক্তদের মাঝে থেকেও তিনি ছিলেন পর্ণকটিরবাসী। অধিক সম্পদশালী হওয়া, সম্পদ আহরণ, মানুষের কাছে হাত পাতা, মানুষ থেকে কেবল গ্রহণ করার মানসিকতা তাঁর মধ্যে ছিল সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। বরং তাঁর ছিলো দান করার মানসিকতা। এমন অনেক অসংখ্য আলেমে দ্বীন আছেন যারা বিভিন্নভাবে হুজুর থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়ে সুন্দরভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। অসংখ্য কন্যা দায়গ্রন্থ পিতার কন্যার বিবাহ দানে তাঁর সহায়তা ছিল অবারিত। এভাবে যে কোন অভাবী ব্যক্তির আবেদন- হুজুরের কাছে সহজেই পূরণ হত। সমাজে প্রচলিত আছে ‘আলেমরা শুধু নিতে জানেন, কিন্তু দিতে জানেন না।’ এটাকে সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা প্রমাণিত করে দিয়েছিলেন আমার হুজুর আল্লামা আবদুল জব্বার রহ.।
মাওলানা আবু হানিফা মুহাম্মদ নোমান
আলেমে দ্বীন, সুবক্তা ও সুলেখক।
Leave a Reply