বায়তুশ শরফের পীর ছাহেব শাহ্ আবদুল জব্বার রহ. প্রথমতঃ হাদিসবেত্তা বা মুহাদ্দিস হিসাবে দীর্ঘদিন ওয়াজেদিয়া মাদ্রাসায় অধ্যাপনা করেন। তিনি এতদসংগে পীরে কামেল মরহুম মগফুর আখতর ছাহেব রহ. এর শিক্ষা-তরবিয়তের বরকতে আধ্যাত্মিক জ্ঞান চর্চায় কামালিয়াত হাসিল করেন। অতঃপর তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বায়তুশ শরফ ‘আন্জুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ’ একটি বহুমুখী শিক্ষা, দীক্ষা, মুদ্রণ, সাংবাদিকতা, পেশাগত প্রশিক্ষণ, যিক্র মাহফিল, যুব আন্দোলন, আদর্শ মাদ্রাসা প্রকল্প, বাণিজ্য কেন্দ্র, চিকিৎসালয়, এতিমখানা, নওমুসলিম পুনর্বাসন ইত্যাদি বহুধারায় বিকাশ লাভ করেছে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলাসহ সুদূর আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে অসংখ্য মসজিদ কমপ্লেক্সে বায়তুশ শরফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
পীর মাশায়েখগণ মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামী জীবনব্যবস্থা সাধনেও তাঁরা ব্রতী হন। আল্লাহ্ পথে মানুষকে ডাকা, কুরআন ও রাসূল সা. এর প্রদর্শিত জীবন-পদ্ধতিতে মানুষকে চলতে উদ্বুদ্ধ করাই তাঁদের করণীয় কাজ। এ লক্ষ্যে মূলতঃ একটি আদব শিক্ষার প্রতিষ্ঠানকে গণমুখী মানব কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপায়ণ শেখ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ. এর অনন্য ব্যক্তিত্বের অবদান। নিজের আরাম আয়েশ কুরবান করে, পরিবার পরিজনের ভাবনা-চিন্তা ত্যাগ করে, মুর্শিদে বরহকের প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে, আল্লাহর বান্দাদের খেদমতের জন্য এবং গঠনমূলক ইসলামী পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নের জন্য এই মানব দরদী, দৃঢ়চেতা, উদারমনা, সিদ্ধান্তে অটল, প্রগতিশীল, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, শিরক, কুফর ও বিদয়াতের বিরুদ্ধে জিহাদকারী, ধর্ম ও কর্মের সমন্বয়-সাধনকারী, ইসলাম ঐক্যের প্রবক্তা, ঐতিহ্যময় ও ব্যতিক্রমধর্মী বিরাট ব্যক্তিত্ব ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাঁর প্রতিটি মুহূর্তে ও সমগ্র শক্তি-সামর্থ ব্যয় করে গেছেন ইসলাম ও মানবতার খেদমতে। ফলশ্রুতিতে বায়তুশ শরফে ইসলামি পুনর্জাগরণের যে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে তা দ্বারা সারা মুসলিম জাহান আলোকিত হবে ইনশাআল্লাহ্। বায়তুশ শরফে অলৌকিক কিংবা অবাস্তব কোন ব্যাপার নেই। অসত্য এবং অনৈসলামিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপোষহীন। তাঁর ঔরসজাত সন্তান হাফেজ আবদুর রহীম আল্লাহর পথে শহীদ হবার পরও তাঁকে দ্বীনি হজ্বের পথ থেকে এক বিন্দু পিছনে পড়তে দেখা যায়নি।
গোলাম কীবরিয়া
সাধারণ সম্পাদক, আন্জুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ
প্রাক্তন চেয়ারম্যান, চিটাগাং পোর্ট ট্রাস্ট।
Leave a Reply