বায়তুশ শরফের শ্রদ্ধেয় পীর হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ. এর নামাযে জানাযা পড়তে গিয়ে আমি উপলব্ধি করেছি যে, তিনি সিদ্ধ পুরুষ ছিলেন। তিনি কামেল ছিলেন। মানুষ পাগলের মত ছুটেছে ঐদিন তাঁর নামাযে জানাযায়। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম প্রমাণ করেছে তিনি হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আখতর সাহেব রহ. এর যোগ্য উত্তর সূরী ছিলেন।
পাঠক সমাজ, অনেকে লক্ষ্য করে থাকবেন একটা রাজনৈতিক মিটিং হওয়ার আগে সারা শহর জুড়ে মাইক দিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। এলাকায় এলাকায় গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় জনসভায় মানুষ নিয়ে আসার জন্য। লক্ষ টাকার বিনিময়ে মানুষ জোগাড় করা গেলেও কাজটি কষ্টসাধ্য। কিন্তু বিনা প্রচারণায়, বিনা মাইকে, বিনা খরচায় এত লোক সমাগম আমি জীবনে একটিও দেখিনি। জানাযায় যে এত লোক হতে পারে তাও আমার ধারণার বাইরে ছিল।
আমি ভাগ্যবান ব্যক্তি যে, এত বিপুল জনসমাগম দেখেছি এবং জানাযার নামায আদায় করার সুযোগ হয়েছে। এই স্মৃতি ভুলার নয়। এই স্মৃতি সারা জীবন বহন করার ইচ্ছা রইল।
হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আখতর সাহেব রহ. এর কিছু কথা এখানে না বললে আমার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আমার মামা জনাব শামসুল হক সাহেবের হাত ধরে, পীরে কামেল হযরত মাওলানা আখতর সাহেব রহ. এর কাছে গিয়ে দেখেছি তিনি অদৃশ্য বস্তু দেখার ক্ষমতা রাখতেন। একজন আগন্তুকের পকেটে কি আছে বা একজন ভক্ত আসার পথে কি দৃশ্য অবলোকন করছেন তা দেখার ক্ষমতা রাখতেন।
হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার সাহেব রহ. এর সান্নিধ্যে আসার আমার সুযোগ না হলেও তাঁকে নানামুখী প্রতিষ্ঠানে আমি বারবার আবিষ্কার করেছি। সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখলে আমার বুকের ছাতি স্ফিত হয়। চট্টগ্রামের সন্তান মাওলানা শাহ্ আবদুল জব্বার রহ. এর প্রতিষ্ঠান দেখে যেন মনে হয় আমার নিজের প্রতিষ্ঠান। দেখতে ভালো লাগে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানাগুলো। ভাবলে অবাক হতে হয় এত প্রতিষ্ঠান তিনি চালালেন কি করে? আমারও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আছে। কয়েকটি চালাতে গিয়ে আমি মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু অবিশ্রান্তভাবে তিনি এত প্রতিষ্ঠান গড়েছেন যা সত্যিই অবাক লাগে। এই গর্বের ধন, নিরহংকারী মানুষটিকে হারিয়ে চট্টগ্রাম একজন সত্যিকারের আধ্যাত্মিক পথ প্রদর্শককে হারাল। তাঁর শূন্যতা পূরণ কখনো সম্ভব নয়।
নূরুল ইসলাম বিএসসি, এম.পি.
মাননীয় মন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
Leave a Reply