তাকে আমি প্রথম দেখি ১৯৭৭ সালে হজ্বের ফ্লাইটে। তখনো তার সাথে আমার পরিচয় হয়নি। মক্কা শরীফে দেখলাম বাবে উম্মে হানীতে লোকেরা তার কাছে ভীড় জমাতো, এটা দেখে বুঝতে পারতাম যে লোক তাকে অত্যন্ত মহব্বত করতেন। এতো অল্প বয়স্ক একজন লোককে কেন্দ্র করে মানুষের এই ভীড় দেখে আমি আশ্চর্যান্বিত হতাম। এর পরের বছর যখন আমি মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাই তখন থেকেই প্রতি বছরই দেখতাম ঐ একই স্থানে তাঁকে কেন্দ্র করে আল্লাহ্ পাকের নূরানী বান্দাদের ভীড় লেগেই থাকত। বায়তুশ শরফের পীর ছাহেব শুধু একজন ব্যতিক্রমধর্মী পীরই ছিলেন না তিনি ছিলেন একাধারে আলেম, সংগঠক, দাতা, নির্মাতা, সমাজের খাদেম, সংস্কারক, গরিবের বন্ধু, বিদআতের বিরুদ্ধে এক নাঙ্গা তরবারি। তিনি ছিলেন নেতা, পথিকৃত, এক কথায় তিনি ছিলেন নিজেই এক বিশাল প্রতিষ্ঠান। এই উম্মতের জন্য তার অবদান অনস্বীকার্য, তিনি ছিলেন ঐক্যের আলামত, ঐক্যের পতাকা। এই পতাকা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। এই পতাকা সহজে পাওয়ার নয়। যাকে এক বাক্যে একজন আলেমে দ্বীন, একজন সংগঠক, একজন নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া যেতো, তিনি ছিলেন মরহুম আবদুল জব্বার রহ.। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই কিন্তু সারাদেশব্যাপী বিশাল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন। একজন মানুষের ইন্তেকালের পর যে তিনটি আমল জারী থাকে তিনটি আমল মরহুম পীর ছাহেব রহ. দুনিয়ায় রেখে গেছেন।
মাওলানা কামাল উদ্দীন জাফরী
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ জামেয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসা, নরসিংদী, ঢাকা।
সদস্য সচিব, শরীয়াহ্ সুপারভাইজরী কমিটি, ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লি.
Leave a Reply