তিনি নির্দ্বিধায় হক কথা বলতেন

ফাজিল পড়াকালীন ষাট গম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনদিনব্যাপী শিরক ও বিদ’আত বিরোধী মাহফিলে অংশগ্রহণকালীন শ্রদ্ধেয় শাহ্ আবদুল জব্বার রহ.কে নিয়ে একটি মাইক্রোতে দক্ষিণ খানপুর হাফেজ আইউব আলীর হিফজুল কুরআন মাদরাসার মাহফিলে রওনা হই। মনে হয় বারাকপুর থেকে যেতে নদীতে ব্রীজ হয়নি তাই সি.এন্ড.বি বাজার হয়ে পুলেরহাট বাজার পার হয়ে কাউন্সিল মাঠে সবুজ ঘাসে ঢাকা মনোরম পরিবেশে থামাতে বললেন মাইক্রো। নেমে বললেন এখানে আছর নামায আদায় করবো। সকলে কাতার করে দাঁড়ালাম। আমাকে আদেশ করলেন ইমামতি করতে। ভীত কম্পিত দৃষ্টিতে হুজুরের চেহারার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আবার বললেন- যাও। আদেশ পালন করা আদব মনে করে ইমামতি করলাম ভয়ে ভয়ে।

আমার অনুভূতিতে জাগ্রত হলো তিনি যে তথা কথিত কোন পীর নন। সারা বিশ্বের এক সংস্কারক, তাই তিনি হাতে ধরে অনেককে দায়িত্বশীল রূপে গঠন করতে চেয়েছেন। বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারী যারা তাদের কর্মকাণ্ডও হয় বিশালতাপূর্ণ। একটি বড় বট বৃক্ষের নিচে যেমন মানব, দানব, পশু, পাখি অবস্থানের সুযোগ পায় আজ বায়তুশ শরফও তার তুল্য। সর্বস্তরের মানুষ এ দরবারে অবস্থান করছে।

আমার জীবদ্দশায় শ্রেষ্ঠ এই আলেমেদ্বীনকে দেখেছি তিনি যখন কোন মাহফিলে বয়ান করতেন তখন কুরআন সুন্নাহর দলীল ভিত্তিক হক কথা বলতে বিন্দুমাত্রও কুণ্ঠিত হতেন না। দ্বীনের সঠিক কথা বললে কে কষ্ট পাবেন, কে সন্তুষ্ট হবেন তা তিনি না দেখে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির একনিষ্ঠতা তথা ইখলাছের সাথে সঠিক কথা বলতেন বিধায় তার হাতে বায়তুশ শরফের এত অগ্রগতি ও উন্নতি। জীবনে তাঁকে খুবই কম হাসতে দেখেছি, কারণ বিশ্ব নবী ও তার জিন্দেগীতে কম হাসতেন। অবশ্য প্রয়োজনে মুচকি হাসতেন।

শ্রেষ্ঠ এই সাধক জিন্দেগী গঠন করেছিলেন সাহবায়ে কেরামগণের আদলে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মরহুম শাহ্ আব্দুল জব্বার সাহেবের মত ব্যক্তির খুবই প্রয়োজন কিন্তু পাওয়া খুব বিরল। কখনও কখনও দেখেছি মাহফিলে এম.পি মন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিনি জজবা নিয়ে কথা বলছেন এবং চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন যত বড় মানের ব্যক্তি তার সামনে থাকুক তিনি নির্দ্বিধায় হক কথা বলেই যেতেন। আজ রাজনৈতিক বিপর্যয়ের এই ক্ষণে শাহ্ আব্দুল জব্বার (রহঃ) বেঁচে থাকলে হয়তো জাতীয় মুরব্বীর দায়িত্ব পালন করতেন। সুরাহা সমস্যার পথের দিশা দিতে পারতেন এটাই আমার বিশ্বাস। কারণ পক্ষ বিপক্ষের সকলের কাছে যার গ্রহণযোগ্যতা ছিল আকাশসম সুউচ্চ। আরবীতে একটি কথা রয়েছে “মাউতুল আলিমি মাওতুল আলমে” আলিমের মৃত্যুতে জগতের মৃত্যু ঘটে।


-প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা মোশাররফ হোসাইন

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুফাস্সির কুরআন


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *