লেখক আর কেউ নন

প্রায় এক যুগ আগের কথা।

আমি তখন ‘আল ইত্তেহাত’ [পরে উম্মাহ ডাইজেস্ট] পত্রিকাটি সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করছি। সিদ্ধান্ত হলো, ১৯৮৬ সালের নভেম্বর সংখ্যাটি সীরাতুন্নবী সংখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি কাজ শুরু করলাম। নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করতে পেরে আল্লাহ্ শুকরিয়া আদায় করেছিলাম। তখন সেই ১৯৮৬ সালে ঢাকাতেও কম্পিউটারের প্রচলন ছিল না। পত্রিকা কম্পোজ এবং ছাপা হতো লেটার প্রেসে। আজ এক যুগ পরে ১৯৮৬ সালের ‘আল ইত্তেহাদ’ এর সীরাতুন্নবী সা. সংখ্যা হাতে নিয়ে রীতিমত বিস্মিত হলাম। কারণ, এ সংখ্যার সূচী ক্রমের প্রথম প্রবন্ধটি হলো- ‘হযরত মুহাম্মদ সা. খুলুকে আজীম’। লেখক আর কেউ নন-মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ.।

হযরত মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. এর সাথে আমার কয়েকবার আলাপ করার সৌভাগ্য হয়েছিল। তিনি ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ্ বাংলাদেশ’ এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় মসজিদে সাদারতের মুখপাত্র ছিলেন। এজন্য তিনি মাঝে মাঝে ‘ইত্তেহাদ’ অফিসে আসতেন। সীরাতুন্নবী সা. সংখ্যাটি প্রকাশের পর আমি তাঁর হাতে একটি কপি তুলে দিয়েছিলাম। ১৬০ পৃষ্ঠার এই সংখ্যাটি দেখে তিনি সেদিন কী- যে খুশি হয়েছিলেন সে কথা বর্ণনাতীত। তিনি আমার জন্য প্রাণ খুলে দোয়াও করেছিলেন। এরপরও কয়েকবার তাঁর সাথে আমার কথা হয়েছে। কিন্তু যতবারই তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছি, ততোবারই লক্ষ্য করেছি তাঁর সারল্যে ভরা উদার অথচ প্রগাঢ় দৃষ্টি। স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা আর তাকওয়ার উজ্জ্বলতায় তাঁর চেহারাটি ঘিরে যেন জোছনার প্লাবন বয়ে যেত।

এই সুন্দর-সুশৃঙ্খল জ্ঞানী-পণ্ডিত যোগ্যতম মানুষটি আজ আর নেই- একথা উচ্চারণ করতেই হৃদয়ের ভেতর হাহাকারের রোল কেবলই আছড়ে পড়ছে। তাঁর এই শূন্যতা অপূরণীয়। অপূরণীয় কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়; বরং এশিয়া মহাদেশের জন্য। তাঁর মৃত্যুতে আমাদের তথা এদেশের মুসলমানের জন্য যে ক্ষতি হলো, কামনা করি- আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন সে ক্ষতি পুষিয়ে নেবার তৌফিক দান করুন। আর তাঁর দীদার হোক- জান্নাতুল ফেরদৌস।


কবি মোশাররফ হোসেন খান

প্রতিষ্ঠিত কবি ও সাহিত্যিক

প্রাক্তন নির্বাহী সম্পাদক, মাসিক নতুন কলম ও সম্পাদক

মাসিক নতুন কিশোর কণ্ঠ, ঢাকা।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *