আমি ১৯৬০ এর দিকে সরাসরি তাঁর ছাত্র থাকার সময় হতে তাঁর তিরোধান পর্যন্ত তাঁকে যেভাবে দেখেছি, তিনি ছিলেন রাসূলে পাক সা. এর উত্তম উত্তরসূরী। তিনি ছাত্র-শিক্ষকদের, আলেম-ইমামদের এবং পীর-মাশায়েখদের জন্য একজন উজ্জ্বল ও অনুসরণযোগ্য শুধু নমুনাই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন ঐক্যের প্রতীক, নির্ভীক মুজাহিদ ও সমাজ সংস্কারক। বর্তমানে অন্যান্য পীর আউলিয়াদের মধ্যে যা সাধারণতঃ দেখা যায় না। তিনি ফেরকাবন্দীর ঊর্ধ্বে ছিলেন; ছিলেন উদার এবং অবিসংবাদিত ঐক্যের প্রতীক। এই ঐক্যকে ধরে রাখার জন্যই পলোগ্রাউন্ডের বিশাল মাঠে তাঁর জিন্দা লাশের ছিল নীরব আহ্বান। নতুবা কার ধারণা ছিল এতবড় সুবিশাল ময়দানে তাঁর জানাযার ব্যবস্থা করতে হবে এবং মুসল্লিদের স্থান সংকুলানের জন্য এর তিন দিকের আরো ত্রিগুণ জায়গার প্রয়োজন হবে। আমি ঢাকার ময়দানে মরহুম হাফেজ্জী হুজুরের জানাযায় উপস্থিত ছিলাম এবং উপস্থিত ছিলাম। এসব জানাযা ও জনসমাবেশকে পীর সাহেবের জিন্দা লাশ হার খোদ এ পলোগ্রাউন্ড ময়দানে পাক আমলে কারামুক্ত শেখ সাহেবের প্রথম জনসভায় মানিয়ে দিলেন। লক্ষ লক্ষ উম্মতে মুহাম্মদী সা.কে এক স্থানে জমায়েত করে নীরবে নিজের আমল ও আকীদার উদাহরণ পেশ করে বলে গেলেন, ‘আমার ন্যায় সার্থক ছাত্র হও, শিক্ষক হও, সাগরেদ হও, মোরশেদ হও, আলেম হও, আউলিয়া হও, মুজাহিদ হও, সমাজ সংস্কারক হও, দুনিয়ার পদবী হও বা দ্বীনের পাগল হও, ঐক্য ও সুন্নতের নমুনা হও। তবেই নাজাত, তবেই মরণোত্তর বৃহত্তর জানাযা।
অধ্যক্ষ সালাহউদ্দীন আল ইমামী
সাবেক অধ্যক্ষ, দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply