শাহপীর আউলিয়ার মাজার প্রাঙ্গনে মাহফিলে ইছালে সাওয়াবের গোড়াপত্তন
-অধ্যাপক শাব্বির আহমদ
প্রারম্ভিকতাঃ পীর-আউলিয়ার পূণ্যভূমি চট্টগ্রাম- শত শত বছর ধরে চট্টগ্রামবাসী এই অহংকারকেই লালন করে আসছে। কিন্তু এই পীর-দরবেশ বা আউলিয়া কোথা থেকে চট্টগ্রামে এসেছেন, কে কোথায় শায়িত আছেন, তাঁদের প্রকৃত পরিচয় কি- এসব কিছুর প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত পাওয়া না গেলেও অনুসন্ধানী দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন গবেষক ও ইতিহাসবিদ তাঁদের রচিত গ্রন্থে যতটুকু সম্ভব তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সৃজন ও সমীক্ষার ক্ষেত্রে মানুষ সবসময় খুঁজে বেড়ায় অতীতকে। অতীতের সবকিছু নির্বিচারে গ্রহণ করা না গেলেও অতীত পাথেয় হয় পথ চলার। চট্টগ্রামের বার আউলিয়ার পরিচয়, অবস্থান এবং মাজার সম্পর্কে বিভিন্ন গবেষক ও ঐতিহাসিক তাঁদের রচিত গ্রন্থে প্রাচীনতম ঐতিহাসিক বিভিন্ন গ্রন্থের সহযোগিতা ছাড়াও জনশ্রুতি নির্ভর অনেক তথ্য-উপাত্ত সংযোজন করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। অনেক গবেষক নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন, অনিচ্ছা সত্বেও জনশ্রুতি নির্ভর অনেক তথ্য-উপাত্ত সংযোজন না করলে বেশ কয়জন অলি-দরবেশের আধ্যাত্মিক জীবন সম্পর্কে অনেককিছু অপূর্ণতা-ই থেকে যেতো। কারণ, সময় সবকিছুকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে পালায়, কিন্তু পারে না একেবারে মুছে দিতে; নিজের অজান্তেই রেখে যায় চিহ্ন। এই চিহ্নটুকু ধারণ করেই যুগে যুগে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ঐতিহাসিকরা।
আলোচ্য শিরোণামে লেখাটি লিখতে গিয়ে আমি বেশ কিছুদিন ধরে চট্টল গবেষক আবদুল হক চৌধুরী, ড. আহমদ শরীফ, জামাল উদ্দিন রচিত চট্টগ্রামের ইতিহাস গ্রন্থ, উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইতিহাস বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. আবদুল করিম রচিত চট্টগ্রামে মুসলিম শাসন, ড. গোলাম সাকলায়েন রচিত ‘বাংলাদেশের সূফী-সাধক’সহ বিশিষ্ট গবেষক ও ঐতিহা-ি সক প্রফেসর ড. মুইন উদ্দিন আহমদ খান, প্রফেসর ড. শব্বির আহমদের বিভিন্ন সেমিনারে দেওয়া বক্তব্য অধ্যয়ন করে নিশ্চিত হয়েছি যে, ‘চট্টগ্রাম বার আউলিয়ার দেশ’। অর্থাৎ বারজন অলি-দরবেশ চট্টগ্রামে এসে ইসলাম ধর্ম প্রচার করে থিতু হয়েছেন। প্রত্যেক লেখক ও গবেষক স্বীকার করেছেন যে, এসব বার আউলিয়ার অন্যতম ছিলেন বর্তমান লোহাগাড়া উপজেলা সদরের দরবেশহাট সংলগ্ন হযরত শাহপীর (রাহ.)।
ঐতিহাসিকদের মতে, ১৩৪০ খ্রীষ্টাব্দে সোনারগাঁও এর স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম জয় করার অনেক পূর্বে ১২ জন সুফী, পীর-আউলিয়া আরব, বাগদাদ ও পারস্য হতে চট্টগ্রামে আসেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, অষ্টম-নবম শতাব্দীতে চট্টগ্রামের সাথে আরব, পারস্য ও বাগদাদের বণিকদের যোগাযোগ ছিল এবং নবম শতাব্দী তাব্দী থেকে চট্টগ্রামে মুসলমানদের আগমন শুরু হয়।
লোহাগাড়ায় হযরত শাহপীর (রাহ:) এবং চকরিয়ায় হযরত শাহ ওমর (রাহ:) দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রথম ইসলাম ধর্ম প্রচারক বলে ধারণা করা হয়। হযরত শাহপীর (রাহ:) লোহাগাড়ার দরবেশ হাট এলাকায় অবস্থান নিয়ে ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু করেন। অন্য তথ্য মতে, তিনি ইরাক হতে চট্টগ্রাম হয়ে লোহাগাড়ায় আসেন এবং দরবেশ হাটে অবস্থান নেন। ওই সময়ে দরবেশ হাট এলাকা বন-জঙ্গলে ভরপুর ছিল। সেখানে হিংস্র পশু ছিল। এই হিংস্র পশুরা হযরত শাহপীর (রাহ:)-কে শ্রদ্ধা করতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, হযরত শাহপীর (রাহ:) হযরত শাহ ওমর (রাহ:) এর ভাগ্নে। হযরত শাহপীর (রাহ.) এর পূর্ণ নাম শাহ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। তিনি হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রাহ:) এর বংশধর ছিলেন। বায়তুশ শরফের বর্তমান রাহবার আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভীকে তাঁর মরহুম আব্বা হুজুরের বরাত দিয়ে এক আলোচনায় বলতে শুনেছি, বায়তুশ শরফের প্রাণপুরুষ হযরত শাহ মাওলানা মীর মুহাম্মদ আখতরুল কাদেরী (রাহ.) ১৯৬৫/৬৬ সালের দিকে হযরত শাহপীর আউলিয়ার মাজার যেয়ারতের পর দীর্ঘক্ষণ মোরাকাবা শেষ করে বের হয়ে প্রিয় শাগরেদ আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.)-কে হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রাহ:) এর রূহানী সন্তান হিসেবে আখ্যায়িত করেছি-ে লন। অনেক ঐতিহাসিক মতে, হযরত শাহপীর (রাহ.) ছিলেন বার আউলিয়ার সর্দার এবং তিনি ইরাকের একটি প্রদেশের বাদশা ছিলেন। তিনি ইয়েমেনের বাদশার পুত্র ছিলেন। আরেক মতে, তিনি বাদশাহী ও রাজকীয় পরিবেশ ত্যাগ করে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ইয়েমেন থেকে চট্টগ্রামে আসেন। তিনি প্রায়-ই বন-জঙ্গলে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। তাঁর বহু কারামতের কথা এখনো লোকেমুখে শোনা যায়। জনশ্রুতি রয়েছে, বর্তমানে যেখানে মাজার রয়েছে সেই স্থানে হযরত শাহপীর (রাহ:) শেষ বয়সে চিল্লায় পড়ে আল্লাহর জিকির ও ইবাদাত বন্দেগীতে মগ্ন থাকতেন। তিনি এ চিল্লা থেকে আর ইহজগতে ফিরে আসেননি। পরবর্তীতে বহুবছর পর তাঁর চিল্লাস্থানকে ভক্তরা মাজার পরিণত করেন। প্রতিদিন অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান তাঁর মাজার যেয়ারতে আসেন। মাজারের উত্তর পাশের পুকুরে একসময় অসংখ্য গজাল মাছ ছিল। তাঁর তিনজন ব্যক্তিগত খাদেম ছিলেন। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ সুফিয়া মাদ্রাসার উত্তরে ঐতিহ্যবাহী বহরমী পরিবারের দাবী, তারা উক্ত তিন খাদেমের উত্তরসুরী। উক্ত বহরমী পরিবারের দাবী, হযরত শাহপীর আউ-ি লয়া প্রথমে তাদের বাড়িতেই অবস্থান নিয়ে এলাকায় ধর্মপ্রচার করেছিলেন। এই বংশের লোকেরাই বংশ পরম্পরায় প্রায় সাড়ে সাতশত বৎসর শাহপীর আউলিয়ার মাজার ও মসজিদ পরিচালনা করে আসছেন। ওবায়দুর রহমান বহরমী দীর্ঘদিন মোতয়াল্লির দায়িত্ব পালন শেষে ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন।
খুব বাল্য থেকেই শাহপীর আউলিয়ার মাজার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলাম। নিজ বাড়ি গারাংগিয়া থেকে দরবেশহাট হয়ে কলাউজান নানার বাড়ি (খতিব মঞ্জিল) ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় মুরব্বিদের সাথে রিক্সায় করে গেলে মাজারের সম্মানার্থে নেমে পড়তাম, হেঁটে গেলে একটু দাঁড়িয়ে যেয়ারত করতাম। একা থাকলে সংলগ্ন পুকরের গজাল মাছের জন্য খাদেমের কাছ থেকে খাদ্য কিনে খাওয়াতাম এবং মাছের গায়ে হাত বুলিয়ে দেওয়াকে মুরব্বিদের দেখাদেখি পূণ্য মনে করতাম। ১৯৯৫/৯৬ সালের দিকে দুষ্কৃতকারী কর্তৃক পুকুরে বিষ ঢেলে গজাল মাছের বিনাশ সাধনের চেষ্টা করলেও এখনো প্রচুর গজাল মাছ দেখা যায়। বাল্য বয়সে বেশ কয়েকবার বার্ষিক ওরশ ও মেলা দেখতে গিয়েছিলাম আশির দশকের শেষে চট্টগ্রাম শহরমুখী হওয়ার পর ঐদিকে খুব একটা যাওয়া হয়নি। স্মর্তব্য, সাতকানিয়া লোহাগাড়া মানুষ ওরশ সংস্কৃতির সাথে খুব বেশি সম্পৃক্ত না থাকলেও মির্জারখীল দরবারে, দক্ষিণ শুকছড়ি আবদুল খালেক শাহ দরবারে, দরবেশহাট শাহপীর আউলিয়ার মাজারে এবং পদুয়া পেঠান শাহ’র মাজারে খুব ঝাঁকঝমকপূর্ণভাবে বার্ষিক ওরশ অনুষ্ঠিত হয় যুগ যুগ ধরে। আলোচ্য পরিসর যেহেতু শাহপীর আউলিয়ার মাজার নিয়ে সেহেতু আলোচনা এখানেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই।
চট্টগ্রামের বার আউলিয়ার
অন্যতম হযরত শাহপীর আউলিয়া (রাহ.) এর মাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবৎ ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ, তরীকত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ কিছু প্রভাবশালী লোকের পরিচালনায় ওরশের নামে মেলা বসিয়ে সংঘটিত করতো উচ্ছৃঙ্খল কর্মকান্ড। নারী পুরুষের অবাধ সমাগম ছাড়াও মদ, জুয়া, হাউজির আসর বসতো। সেমা মাহফিলের নামে চলতো গানের তালেতালে উদ্দাম নৃত্য। ওরশকে কেন্দ্র করে কিছু স্বার্থান্বেষী লোক পকেট ভর্তি করতো। নিজ থানা এলাকায় ওরশের নামে বার আউলিয়ার অন্যতম হযরত শাহপীর আউলিয়ার মাজারে এরকম শরীয়ত বিরোধী অনৈসলামিক কর্মকান্ড বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার, সমকালীন মুজাদ্দিদ শাহসুফি আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.)-কে প্রচন্ড পীড়া দেয়। হক্কানি পীর-মশায়েখরা শুধুমাত্র সাধারণ মানুষকে দ্বীনি তা’লিম দিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেন না; বরং পবিত্র কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের সংগ্রাম আজীবন চালিয়ে যান। ইসলামের দুঃসাহসী সিপাহসালার শাহসুফি আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) শরীয়াত বিরোধী কর্মকাণ্ডকে কখনো প্রশ্রয় দেননি। যেখানে সম্ভব হয়েছে তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন হেকমতের সাথে। নিজ এলাকা বড়হাতিয়ায় জমিদার ছিদ্দিক মিয়ার বলিখেলা আর গরুর লড়াই নামে অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড উচ্ছেদ করা ছিল প্রথম অগ্রাধিকার। ১৯৭৭ সালে সুদীর্ঘ ৪০ বৎসর ধরে চলে আসা ছিদ্দিক মিয়ার গরুর লড়াই বন্ধ করে সেখানে ঐতিহাসিক জবলে সীরত মাহফিলের গোড়াপত্তন ছিল আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) এর সংগ্রামী জীবনের সোনালী অধ্যায়। অত্যন্ত জটিল ও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বিনা রক্তপাতে গরুর লড়াই আর বলিখেলা বন্ধে তাঁর সুক্ষ্ম, দুরদর্শী, বিজ্ঞোচিত ও দুঃসাহসিক ভূমিকার কথা তখনকার সময়ে সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়ায়। রূপকথার কাহিনীর মতো আলোচনা চলে এখনো।
হাদিয়ে যামান আল্লামা শাহ
মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) এবার উদ্যোগী হন, লোহাগাড়া দরবেশহাট শাহ্পীর আউলিয়া (রাহ.) এর মাযারে ওরশের নামে নাচ-গান, মদ, জুয়াসহ শরিআত বিরোধী কার্যকলাপ বন্ধে।
প্রথমে তিনি হযরত শাহপীর আউলিয়ার মাজার ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির মোতাওয়াল্লি যথাক্রমে মরহুম মাওলানা ছাদে আলম বহরমী, মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান খান বহরমী, মরহুম ওবায়দুর রহমান বহরমী ভ্রাতাত্রয়কে ডেকে নিয়ে ওরশের নামে যতোসব অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের কুফল তুলে ধরে কিভাবে শরীয়ত সম্মতভাবে মাহফিল পরিচালনা করা যায় তা নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন। বহরমী পরিবারের মোতাওয়াল্লী কমিটির সদস্যরা সন্তুষ্টচিত্রে হুজুরের প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও আর্থিক লোভ সামলাতে না পেরে স্থানীয় স্বার্থান্বেষী কিছু লোকের বিরোধিতা সত্বেও নিজের ইস্পাতদৃঢ় সিদ্ধান্ত, সর্বোপরি মোতাওয়াল্লী পরিবারের সহযোগিতায় ১৯৭৯ সালে যুগের মহান সংস্কারক আল্লামা শাহ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহ.) শতাধিক আলেম ওলামাসহ বিরাট এক কাফেলা নিয়ে হযরত শাহপীর আউলিয়ার মাজার প্রাঙ্গনে মাহফিলে ইছালে সাওয়াবের আয়োজন করেন। এরপর থেকে প্রতি বৎসর ২৩ ফেব্রুয়ারি বায়তুশ শরফের উদ্যোগে বার্ষিক মাহফিলে ইছালে সাওয়াবের আয়োজন হয়ে আসছে। সারারাত ব্যাপী বিশেষায়িত বক্তা দ্বারা ওয়াজ মাহফিল ছাড়াও তরীকতে কাদেরিয়ার যিকির আযকার শেষে ফজরের নামাজের পূর্বে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ২০২১ সাল থেকে রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (ম.জি.আ.) হযরত শাহপীর আউলিয়ার বার্ষিক ফাতেহার আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৭৪৮তম বার্ষিক মাহফিলে ইছালে সাওয়াব মাহফিল। আল্লাহ পাক, এই ইছালে সাওয়াব মাহফিল কেয়ামত পর্যন্ত জারি রাখুন- আ-মী-ন।
লেখক পরিচিতিঃ
শিক্ষক, কলামিস্ট ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।
প্রকাশনায়:
আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার ফাউন্ডেশন
বায়তুশ শরফ জিলানী মার্কেট, আল্লামা শাহ আবদুল
জব্বার রাহ, সড়ক (ডি. টি. রোড), ধনিয়ালাপাড়া,
Leave a Reply