অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে কোন প্রতিবাদী কর্মসূচিতে তিনি আলেম ওলামাদের সাথে আমাদের মতো নাখান্দা গুনাহগার ইংরেজি শিক্ষিতদের সমন্বয় ঘটাতেন। তিনি ছিলেন জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। নাস্তিক-মুরতাদ-ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তাঁর সোচ্চার কণ্ঠ আজো আমাদের কর্ণ কুহরে ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয়।
কলিজার টুকরো সন্তান হাফেজ আবদুল রহিমের শাহাদাতের ঘটনায় তিনি এতটুকুও বিচলিত হননি। তিনি ছিলেন শহীদের গর্বিত পিতা। শাহাদাতের নজরানা পেশকারী হাফেজ আবদুর রহিমের রক্তমাখা লাশ তাঁর কর্ম উদ্যোমকে এতটুকুও থমকে দেয়নি। তিনি ছিলেন আলেম ওলামা পীর মাশায়েখদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। মরহুম পীর সাহেব প্রচলিত ধরনের কোন পীর ছিলেন না।
প্রয়োজনে তিনি খানকা থেকে রাজপথে নেমে এসেছেন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে। ইসলাম, মুসলমান ও কোরআন সুন্নাহ সম্পর্কে কটূক্তির প্রতিবাদে তাঁকে রাজপথে তৌহিদী জনতার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মিছিলে শরিক হতে দেখেছি। আবার এ পীরে কামেলকে পবিত্র শবে কদর ও শবে বরাতের গভীর রজনীতে মুনাজাতে অঝর নয়নে আল্লাহ্র দরবারে ফরিয়াদ করতে দেখেছি। বিশ্ব বরেণ্য এ পীরে কামেল আরাম আয়েশে জীবন কাটানোর সুযোগ থাকলেও তিনি কঠোর সাধনা, ত্যাগ ও পরিশ্রমের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন।
বায়তুশ শরফের সাথে মরহুম শাহ্সূফী হযরত মাওলানা মীর আখতর সাহেবের সময়কাল থেকেই আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক। তাঁর আদরের মেয়ের জামাই দৈনিক মিছিল পত্রিকার (তমিজ মার্কেট) এর সম্পাদক শ্রদ্ধেয় এম.এ কুদ্দুছ জেঠা আমার আব্বার ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন। তাঁর সুবাদে পীর সাহেব এর মেয়ের জামাইর বন্ধু হিসেবে আমার আব্বাজান মরহুম আলহাজ্ব আবু মোহাম্মদ য়্যাহয়্যা এডভোকেটকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। পরবর্তীতে আমার আব্বার বন্ধু মরহুম এডভোকেট আবদুল হালিম ও মরহুম এডভোকেট সফিকুল ইসলাম বায়তুশ শরফের ভূ-সম্পত্তি অর্জন ও রক্ষায় প্রভূত আইনী খেদমত করে গেছেন।
মরহুম আবদুল জব্বার রহ. সাহেব হুজুর এর স্নেহধন্য মুরিদ আমার তালই মরহুম হাজী নুর আহম্মদ সাহেবের সাথে আত্মীয়তার কারণে তিনি আমাদের আরো ঘনিষ্টজনে পরিণত হন। আমার ছোট বোন এডভোকেট জান্নাতুল নাঈম রুমানার স্বামী মুহাম্মদ জামালুদ্দিনকে তাঁর সুললিত কণ্ঠে হামদ নাতে রাসূল সা. শুনে বিমুগ্ধ হতেন। আমার বোনের বিয়েতে হুজুর আমাদের মাছুয়া ঝর্ণা লেনস্থ বাসায় এসে দোয়া দিয়ে যান এবং বিবাহ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থেকে আব্দ পাঠ করান। আমার তালই হুজুরের নির্দেশে সীতাকুণ্ড পাহাড়ে বিশাল কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলেন। সেখানে গরুর দুধ, মাছ, মুরগী, শাক-সবজী, বেকার যুবকদের জন্য হাতে কলমে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলেন। তাছাড়া তিনি ছিলেন দুর্গত মানুষের পরম বন্ধু।
বর্তমান সময়ের প্রধান কবি আল মাহমুদ তাঁর লিখিত “এখানে কোন গীরের কবর গাহ লাল কাপড়ে ঢাকা নেই” প্রবন্ধে লিখেছেন, “বায়তুশ শরফের মহান পীর হয়রত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ.কে প্রথম দেখে আমি অভিভত হয়েছিলাম এই ভেবে যে, এমন একজন সাধারণ মানুষ কিভাবে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশের মত মসজিদ ভিত্তিক এক বিশাল ইসলামী সমাজ কল্যাণ সংগঠনের কর্মধারাকে নিয়ন্ত্রণ করেন। যে সব বৃহদাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, স্কুল ও দাতব্য চিকিৎসালয় তাঁর নেতৃত্বে, নির্দেশে ও পরিচালনায় গড়ে উঠেছে। যা বাংলাদেশের একাধিক মেট্রোপলিটন শহরগুলোর কর্মব্যস্ততাকে ভেদ করে ক্রমাগত আকাশের দিকে মাথা তুলছে, আর মানুষের হৃদয়ে শিকড় চালিয়ে দিচ্ছে অবলীলায়। সবকিছুর কেন্দ্র তো এই ছোট খাটো মানুষটি, যিনি নিরহংকারী, বিনয়ী ও আল্লাহ্ কাছে সর্ব বিষয়ে অবনত মস্তক।”
এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান
আইনজীবী, কলামিস্ট, মানবাধিকার ও সুশাসনকর্মী।
Leave a Reply