আল্লামা শাহ্ আবদুল জব্বার রহ. যে কতগুণে গুণান্বিত ছিলেন আমার এই ক্ষুদ্র লেখনীতে প্রকাশ করতে পারব না। তবু আমার এই ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা বুঝেছি তার কিঞ্চিত প্রকাশ করে আল্লাহ্র শোকরিয়া আদায় করতে চাই এজন্য যে, আমি তাঁর স্নেহ লাভ করেছি।
হুজুর কেবলা গুণীজনের খুব বেশি সম্মান প্রদর্শন করতেন। সেই জন্য প্রতি বছর গুণীজনদের সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য বিরাট সভার আয়োজন করতেন। আমার মনে হয় অন্য কোথাও এটা তেমন করা হয় না। তিনি মাদ্রাসার শিক্ষার সাথে কারিগরি শিক্ষার প্রবর্তন করেছিলেন। সেটা তাঁর বড় দূরদর্শিতার প্রমাণ। তিনি প্রায়ই বলতেন মাদ্রাসা থেকে ছাত্ররা বের হয়ে যেন কারও কাছে হাত পাততে না হয় এবং কারও মুখাপেক্ষী হতে না হয়। তার ব্যবস্থা করতে হবে। বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠান করে গেছেন যেটা আমাদের সবার কাছে জানা আছে। তার মধ্যে চিকিৎসার বিষয়ে বেশি খেয়াল রাখতেন। সেই জন্য বহু চিকিৎসালয় স্থাপন করে গেছেন, যাতে গরিব দুঃখীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পেতে পারে। চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফে ২টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে গেছেন। আমরা ২/৩ জন ডাক্তার এটাতে নিয়োজিত আছি। দাঁতের চিকিৎসার জন্যও একটি প্রতিষ্ঠান তিনি করে গেছেন। ঢাকা বায়তুশ শরফে একটা আধুনিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান করে গেছেন যেখানে সারা বছর রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পায়। কক্সবাজারে একটা বড় শিশু হাসপাতাল করে গেছেন এবং সার্বক্ষণিক ডাক্তার নিয়োজিত আছেন। সম্প্রতি কক্সবাজারে এক বড় চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এটা উদ্বোধন করা হবে। তাঁর চেষ্টাতেই এটা সম্ভব হচ্ছে। নিজে জায়গা দান করে গেছেন। এটা শুধু একটা দিকের কথা বলা হল। আরও অনেক কিছু করে গেছেন।
-ডা. মোহাম্মদ ফজলুল বারী
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply