মজলিসুল উলামা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য

ইসলাম পূর্ব অজ্ঞতার যুগে মুহাম্মদ সা. অধঃপতিত সমাজে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামক যুব সংগঠন করে যুব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে শান্তি আনয়নে সচেষ্ট হন। বর্তমান পৃথিবীতে বর্বরতা, অশ্লীলতা, বিশৃঙ্খলা, অধর্ম, অনাচার ও কুসংস্কারের সয়লাব সমাজকে আধুনিক অসহনীয় দুর্ভোগে পরিণত করে চলেছে। আজকের আধুনিক জাহেলিয়া যুগে অনুরূপ সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে হিলফুল ফুজুলের আলোকে অঙ্গ সংগঠন ‘আন্‌জুমনে নওজোয়ান বাংলাদেশ’ নামে আল্লামা আবদুল জব্বার রহ. একটি যুব সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। যুবক বয়সেই সেবাকর্মের মাধ্যমে সমাজসেবক হিসেবে গড়ে উঠাই এ সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। হুজুর কেবলা জীবদ্দশায় এ সংগঠনের যুবকদের সাথে নিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে তিনি নিজেই অনুশীলন দিয়েছেন। উলামায়ে কেরাম নবী রাসূলের উত্তরসূরী। তাঁরা সমাজে সবচেয়ে বেশী মর্যাদার অধিকারী। মহাকবি আল্লামা ইকবালের ভাষায়-

جسطرح احمد مختار ہیں نبیوں میں امام اسکی امت بھی ہے امام اقوام

অর্থাৎ- যে রকম আহমদ মোখতার (সা.) নবীদের মধ্যে ইমাম, তেমনি তাঁর উম্মতও জাতির ইমাম।

বিশেষ করে আলেমদের বেলায় একথা বেশি প্রযোজ্য। অথচ উলামায়ে কেরাম আজ অবহেলিত ও অপাংক্তেয়। হুজুর কেবলা উলামাদের এ দুর্গতি উপলব্ধি করেন। উলামায়ে কেরামদের মর্যাদা সচেতন করার জন্য দীর্ঘদিন থেকে চিন্তা সাধনা করতে থাকেন। তিনি লক্ষ্য করেন, বহুধা বিভক্ত উলামায়ে  কেরামদের সমাজবিমুখ ও সমাজ সচেতনতার অভাবই এর মূল কারণ। জন্মগ্রহণের পর নাম রাখতে আর মৃত্যুর পর জানাযা-দাফনে উলামাদের ডাকা হয়। সমাজের মানব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত কোন কাজে তাদের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় না। এ বাস্তব উপলব্ধিতে হুজুর কেবলা রহ. বাংলাদেশের সুযোগ্য আলেমদের আহ্বান করেন। অনেক আলোচনা পরামর্শ করে ‘মজলিসুল উলামা বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। হুজুর কেবলা রহ, দীর্ঘ সাংগঠনিক জীবনের এটি শেষ সংগঠন। সময়ের আবর্তনে অনেক পরিবর্তন ঘটে চলছে। শুধুমাত্র গতানুগতিক ওয়াজ-নসিহত করে উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব শেষ নয়। বরং যুগের দাবী পূরণে তাদেরকে সেবামূলক কর্ম সাধন করতে হবে। প্রত্যেক এলাকায় মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, ব্যবসায়ী অর্থাৎ স্ব স্ব কর্মস্থলে থেকে তহবিল গঠন করে মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। এরূপ জীবন দর্শন প্রদান করে হুজুর কেবলা রহ. উলামায়ে কেরামদের দায়িত্ব সচেতন হয়ে মর্যাদা রক্ষার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হুজুর কেবলার ধ্যান-ধারণা চিন্তা ভাবনা সর্বোপরি জীবন দর্শন ছিল শরীয়ত ও ত্বরীকত সমন্বিত একটি সমাজ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মানবজাতি পূর্ণতা লাভে ধন্য হয়ে ইহজগত ও পরজগতে শান্তি লাভ করতে পারবে। প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হুজুর কেবলা স্বেচ্ছায় কষ্ট বরণ করে সকলকে সুখে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যে মডেল স্থাপন করেছেন, তা যুগান্তরে দেশ-দেশান্তরে প্রতিনিধির গৌরব প্রাপ্তদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে।


মোহাম্মদ আবদুল খালেক

সাহিত্যিক ও প্রবীণ শিক্ষক (অব.), বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *