তোমরা সত্যবাদীগণের সাথী হও

আবুধাবি সফরকালে। ১৯৯২ সালে আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার

বাংলাদেশি ভাইদের নিয়ে ঘরোয়া মাহফিলে প্রদত্ত বয়ান। বয়ানটি বাংলাদেশ বিমানের সাবেক জি. এম. (মার্কেটিং) মরহুম ইউসুফ আলী সাহেবের কাছে সংরক্ষিত ভিডিও ক্যাসেট থেকে অনুলিখন করেন তাঁর। দৌহিত্র হাফেজ আবু নোমান মোহাম্মদ ছফি উল্লাহ। -সম্পাদক

بِسْمِ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِهِ اللَّهِ ، أَمَّا بَعْدُ!

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল করীমে আমাদেরকে নবী করীম-এর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেন,

إِنَّ اللهَ وَمَلَيكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ নবীর প্রতি রহমত নাযিল করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও নবীর জন্য রহমতের দোয়া করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবীর জন্য রহমতের দোয়া কর এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।”

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَبَارِكْ وَسَلَّمْ.

আল্লাহ রব্বুল আলামীনের শোকরিয়া, তিনি রবিউল আউয়াল মাসের শুভাগমন উপলক্ষে আমাদেরকে ঈমানী ও দীনী মাহফিলে বসার তওফিক দান করেছেন। আল-হামদু লিল্লাহ। বরকত হিসেবে আমরা নবী করীম-এর জীবনীর ওপর সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

আমাদের এক ভাই নবী করীম-এর রুহ মোবারকের ওপর সওয়াব পৌঁছানো ও তার মুরব্বিগণের জন্য ঈসালে সওয়াবের নিয়তে এই মাহফিলের আয়োজন করেছেন। সকলেই বলুন, আল-হামদু লিল্লাহ। এ ধরনের মাহফিলের আয়োজন করা আমাদের দীনী কর্তব্য। কারণ যে জাতে পাকের বদৌলতে আমরা ঈমান পেয়েছি, যে জাতে পাকের বদৌলতে আমরা দীন পেয়েছি, যে জাতে পাকের বদৌলতে আমরা কুরআন পেয়েছি তাঁর শোকরিয়া আদায় করা কি আমাদের কর্তব্য নয়?

আমরা দুনিয়ায় একজন আরেকজনের কাছ থেকে সামান্য উপকৃত হলে তার শোকরিয়া আদায় করি। কেউ আমার বোঝা বা সামানা উঠাতে সাহায্য করলে তাকে বলি ভাই বহুত শোকরিয়া। রাস্তা পারাপারের সময় ওভার ব্রিজে উঠতে কেউ সহযোগিতা করলে তাকে বলি ভাই বহুত শোকরিয়া। কেউ কোনো বিপদে সাহায্য-সহযোগিতা করলে তার শোকরিয়া আদায় করি। তদ্রূপ ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার পর ওষুধ-পত্র লিখে দিলে ডাক্তারের শোকরিয়া আদায় করি।

এভাবে মানুষ একজন অপরজনের প্রতি শোকরিয়া আদায় করে। যার দ্বারা যে উপকার লাভ করা হয় তার শোকরিয়া আদায় করতে হয়। মানুষ মানুষের শোকরিয়া আদায় করবেই। কেননা এ দুনিয়ার জীবনে একজন অপরজনের কাছ থেকে উপকৃত লাভ করে। আমরা মাতা-পিতার মাধ্যমে দুনিয়া দেখেছি, তবে আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তাআলা। আর মাধ্যম হলেন মাতা-পিতা। তাই আজীবন মাতা-পিতার শোকরিয়া আদায় করতে হবে এবং আজীবন তাঁদের জন্য মাগফিরাত কামনা করতে হবে। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল করীমে তাঁদের জন্য দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন,

رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيْنِي صَغِيرًا

‘এবং বল, হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের প্রতি দয়া করো যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।”

হে রব্বুল আলামীন! আমি কিছুই বুঝতাম না, কিছুই জানতাম না, খেতে পারতাম না, পেশাব-পায়খানা করতে জানতাম না। আমি অসহায় ছিলাম, আমার কোনো শক্তি ছিল না। আমার মাতা-পিতা আমাকে এগুলো শিখিয়েছেন, বুঝিয়েছেন, পেশাব-পায়খানা করিয়েছেন। আমি গোশত চিবিয়ে খেতে পারতাম না, তাঁরা যত্নসহকারে চিবিয়ে চিবিয়ে আমাকে গোশত খাইয়ে দিয়েছেন। দাঁত উঠা পর্যন্ত মাতা আমাকে তাঁর জন্য পান করিয়েছেন। আমি ভালো-মন্দ পার্থক্য করতে জানতাম না, রাতে পেশাব করে বিছানা ভিজিয়ে দিতাম। বিশেষ করে শীতের রাতে যতবারই বিছানা ভিজিয়েছি মা সাহেবা এগুলো পরিষ্কার করে দিয়েছেন। এজন্যই আল্লাহ রব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন,

وَقُلْ رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيْنِي صَغِيرًا

‘এবং বল, হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের প্রতি দয়া করো যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।”

হে রব্বুল আলামীন! ছোট বেলায় যখন আমি কিছু বুঝতাম না, কিছু পারতাম না। তাঁরা যেভাবে আমাকে দয়া করেছেন, মায়া করেছেন। অতএব তোমার দয়া তাঁদের প্রতি বর্ষণ করো। আল্লাহ রব্বুল আলামীন মাতা-পিতার শোকরিয়া আদায় করা শিখিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের জন্য দোয়া করতে হবে এবং বেঁচে থাকলে তাদের খেদমত করতে হবে। আর দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে কবরের বাসিন্দা হয়ে গেলে চিরজীবন তাঁদের জন্য মাগফিরাত কামনা করতে হবে আর দোয়াই হলো একমাত্র সম্বল। নবী করীম ইরশাদ করেন,

مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ لَمْ يَشْكُرِ اللَّهَ» .

‘যে ব্যক্তি মানুষের শোকরিয়া আদায় করে না সে আল্লাহরও শোকরিয়া আদায় করে না।’২

এ শোকরিয়া আদায়স্বরূপ যদি কিছু ঈমানী আলোচনা করা হয়, কিছু দোয়া-দরুদ পাঠ করা হয়, উপস্থিত মেহমানগণের জন্য খাবারের এন্তেজাম করা হয়, যদিও এগুলো ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদা না হয়, তবুও মুস্তাহাব হিসেবে ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে করলে সওয়াব পাওয়া যাবে, লাভহবে, আল্লাহ খুশি হবেন। আর যাঁদের জন্য করা হবে তাঁদের শোকরিয়া আদায় করা হবে। আল-হামদু লিল্লাহ। এজন্যই ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে নবী করীম-এর জীবনী আলোচনা করা হয়, তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করা হয়, মুনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার দরবারে পৌঁছানো হয়। আল-হামদু লিল্লাহ।

ভাইয়েরা আমার! এ দুনিয়া অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। মানুষ এক আল্লাহকে চিনত না, জানত না, তাঁর পরিচয় ভুলে গিয়েছিল। আম্বিয়ায়ে কেরাম এসে যুগে যুগে মানুষকে আল্লাহর পরিচয় সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছেন। এক নবী হতে অপর নবী পর্যন্ত মাঝখানে সময়ের যে ব্যবধান থাকত, তখন মানুষ আবার অন্ধকারে ডুবে যেত, আম্বিয়ায়ে কেরাম-এর শিক্ষা ভুলে যেত, তাঁদের দেখানো পথ হতে বিচ্যুত হয়ে যেত। এভাবে হযরত ঈসা দুনিয়া হতে বিদায় নেওয়ার পর প্রায় পাঁচশত বছর অতিবাহিত হয়।

তারপর আগমন করেন সাইয়েদুল আম্বিয়া, শাফিউল মুজনিবীন, মুহাম্মদ মুস্তফা। এই সময়ের মধ্যে মানুষ আবার নবীর শিক্ষা ভুলে গিয়েছিল, গাছ-পালা, পাথর-টিলা, মাটি-মূর্তি ইত্যাদির পূজা-অর্চনা শুরু করে দিয়েছিল। তারা ঘরে ঘরে মূর্তি বানিয়ে নিয়েছিল। আরবের কাফিররা মূর্তির নামে কুরবানি করত, বিশেষ করে মক্কার কাফিররা। যে মক্কার জমিনে এসেছেন আল্লাহর নবী মুহাম্মদ মুস্তফা। তারা কাবাঘরের তাওয়াফ করত। কিন্তু কিভাবে? তাদের মনগড়া রীতি অনুযায়ী স্ত্রী-পুরুষ একসাথে উলঙ্গ অবস্থায়, বস্ত্রহীন হয়ে, গান-বাজনা বাজিয়ে, শিস দিয়ে, হাততালি মেরে। আল্লাহ তাআলা তাদের এ ভ্রান্ত তাওয়াফ সম্পর্কে ইরশাদ করেন,

وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلَّا مُكَاءً وَتَصْدِيَةٌ *

‘আর কাবার নিকট তাদের নামাজ বলতে শিস দেওয়া ও হাততালি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই ছিল না।”

তাছাড়াও কাবার তাওয়াফ করতে হলে খাদেমদের অনুমতি লাগত। আপনারা তো জানেন, খাদেমরা যেখানেই থাকে কিছু কামায়ই করার জন্য থাকে, তারা কিছু পেতে চায়! খাদেম মানে পয়সা খোঁজা, তারা পয়সা খোঁজায় ব্যস্ত থাকে। আমাদের ইরাক সফরের সময় যখন কারবালায় গিয়েছিলাম, সেখানেও খাদেমরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। একটা পাথর দেখিয়ে বলল, এখানে হযরত হুসাইন এ-কে শহীদ করা হয়েছে, এই যে দেখুন রক্ত! রক্ত তো নয়, বরং রক্তের মতো রং! এরপর অন্য জায়গা দেখিয়ে বলল, এখানে আলী কাররামাহুল্লাহু ওয়াজহাহুকে শহীদ করা হয়েছে।

অন্য আর এক জায়গা দেখিয়ে বলল, এখানে তিনি বিশ্রাম করতেন। এখানে অমুককে শহীদ করা হয়েছে, ওখানে তমুককে শহীদ করা হয়েছে। এরপর বলল, এখানে কিছু দান করুন, ওখানে কিছু দান করুন। আমাদের বাংলাদেশেও আমরা যখন বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদে গিয়েছিলাম, খাদেমরা আমাদেরকে একটা পিলার দেখিয়ে বলল, এখানে হুযুর বসতেন, এই পিলারের নিকট তিনি নামাজ আদায় করতেন, এখানে তিনি তিলাওয়াত করতেন। এখানে কিছু পয়সা দান করুন। এগুলো উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করলাম।

সেই জাহিলিয়াতের যুগে, অন্ধকারের যুগেও কাবার খাদেমরা তাওয়াফ করতে আসা লোকজনকে বলত, তোমরা যে কাপড় পরে হাট-বাজারে দুনিয়াদারি করে এসেছ, তোমাদের এই কাপড় পরে কাবার তাওয়াফ করা যাবে না। তাহলে এখন কি করতে হবে? খাদেমরা বলত, আমাদের কাছে তাওয়াফ করার যে কাপড় আছে সেগুলো পরিধান করে তাওয়াফ করতে হবে এবং এগুলোর জন্য ভাড়া দিতে হবে। আর যারা পয়সা দিতে পারত না, ভাড়া দিতে পারত না, খাদেমরা নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য বলত, তোমাদের দুনিয়াদারি করা কাপড় পরে তো তোমরা তাওয়াফ করতে পারবে না। হয়তো আমাদের কাছ থেকে কাপড় ভাড়া নাও আর তা না হলে তোমরা উলঙ্গ হয়ে তাওয়াফ কর। নাউযু বিল্লাহ!

তারা মূর্খতার কারণে, জাহিলিয়াতের কারণে, এক আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল। কাবা ঘর ও এর আশে-পাশে তিনশত ষাটটি মূর্তি স্থাপন করেছিল। তারা এগুলোর নামে কুরবানি করত এবং পশুর রক্ত এনে মূর্তিগুলোর ওপর ঢেলে দিত। তাদের বাপ-দাদারা যেভাবে হজ করত তারাও সেভাবে হজ করত। তারা মিনায় গিয়ে বাদ্য বাজাত, তাদের বাপ-দাদা পূর্ব-পুরুষদের গল্প করত।

একজন বলত, আমার বাপ-দাদা এমন ছিল তেমন ছিল। আরেকজন বলত, আমার বাপ-দাদা তোদের বাপ-দাদার চেয়েও বড় ছিল, শ্রেষ্ঠ ছিল। এভাবেই মিনায় বসে তাদের পূর্ব-পুরুষদের গল্প করে সময় পার করত এবং এগুলোই ছিল তাদের হজ। তারা এগুলো কেন করত? যেহেতু তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, এক আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল। ভারতবর্ষের একজন কবি আল্লামা আলতাফ হোসেন তাঁর কবিতায় উল্লেখ করেছেন,

قبیلے قبیلے کا بت اک جدا تھا ہو کسی کا ہیل تھا کسی کا صفا تھا

‘তারা ঘরে ঘরে খোদা বানিয়ে নিয়েছিল, আর তাদের খোদার নাম ছিল হুবল, উসাব, উজ্জা, লাত ও মানাত।”

প্রত্যেক গোত্রের পৃথক পৃথক খোদা ছিল। এক গোত্রের সাথে অপর গোত্রের ঝগড়া-বিবাদ দেখা দিলে তারা বলত, শত্রুদের খোদা আমাদের কাজে আসবে না, সে আমাদের কোনো উপকার করবে না। তাই তারা নিজেদের জন্য পৃথক খোদা বানিয়ে নিত। আর এভাবেই তারা আসল খোদার পরিচয় ভুলে গিয়েছিল। আল্লাহ যেই উদ্দেশ্যে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁকে চেনার জন্য, তাঁর ওহদানিয়াত তথা একত্ববাদ স্বীকার করার জন্য, তাঁর বন্দেগি করার জন্য, মানুষ এগুলো ভুলে বহু খোদার পূজা করতে লাগল।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

‘আমি জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই।”

আমি অগণিত মাখলুক সৃষ্টি করেছি, কিন্তু মানুষ ও জিন এই দুই জাতিকে সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদত করার জন্য, আমার মারিফাত বা পরিচয় লাভকরার জন্য। কিন্তু তারা তাদের রবকে ভুলে গিয়ে অন্ধাকারে নিমজ্জিত হয়ে গেল, পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ল। কিতাবে এসেছে, এ অবস্থায় আল্লাহ রাগে-গোসসায় মানুষকে ধ্বংস করে দিতেন।

তখন সমস্ত মাসুম মাখলুক গাছ-পালা, কীট-পতঙ্গ, পশু-পাখি সবকিছুই আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করেছে। রব্বুল আলামীন, তুমি আমাদের ওপর দয়া কর, মেহেরবানি কর, মানুষের পাপাচারের কারণে দুনিয়া ধ্বংস করে দিয়ো না। মানুষ তোমাকে ভুলে মূর্খতার মধ্যে ডুবে আছে। তোমার দয়া ব্যতীত আর কোনো উপায় নেই। তুমি তো দুনিয়া ধ্বংস করে ফেলবে। তখন আল্লাহ বলেন,

إِنَّ رَحْمَتِي غَلَبَتْ غَضَبِي».

‘আমার রহমত আমার গজবের ওপর প্রাধান্য পেল।’২

এসব মাসুম মাখলুকের দোয়ার বদৌলতে আল্লাহ তাআলা জগতবাসীর নিকট শফীউল মুজনিবীন, রহমাতুল লিল আলামীন মুহাম্মদ মুস্তফা-কে সমস্ত দুনিয়াবাসীর জন্য রহমত, পথ-প্রদর্শক, হিদায়েতস্বরূপ এবং গোনাহগার বান্দাদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। আল-হামদু লিল্লাহ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَ كِتَبٌ مُّبِينٌ) ‘নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নূর ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে।”

তাফসীরে এই ‘নূর’ শব্দ দ্বারা হযরত মুহাম্মদ -কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, তাঁকে নূর বলা হয়েছে। যার অর্থ হলো ‘আলো’। তিনি আলো হিসেবে দুনিয়ায় এসেছেন। পৃথিবীবাসী অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, মূর্খতা-পাপাচারে লিপ্ত ছিল। আল্লাহ তাআলা হযরত মুহাম্মদ-কে নূরে নুবুওয়াত তথা হিদায়েতের আলো দ্বারা দুনিয়া আলোকিত করার জন্য পাঠিয়েছেন। এ নূর যখন প্রকাশিত হলো সর্বপ্রথম খাদিজাতুল কুবরা হযরত মুহাম্মদ-এর ওপর ঈমান এনেছিলেন। তাঁর পূর্বপুরুষ বাপ-চাচারা আসমানি কিতাবের পণ্ডিত ছিলেন। তিনি তাঁদের কাছে শুনেছিলেন হিদায়েতের বাণী নিয়ে একজন নবী আগমন করবেন। তাই তিনি সেই প্রতিক্ষিত নবীর অপেক্ষায় ছিলেন।

বয়স্কগণের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনি কালিমা لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ পড়ে ইসলামে দাখিল হয়ে ছিলেন। এরপর বয়স্ক পুরুষগণের মধ্যে সর্বপ্রথম সিদ্দীকে আকবর আবু বকর কালিমা أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُ পড়ে ইসলামে দাখিল হন। তিনি মক্কার কাফিরদের সাথে ছিলেন, কিন্তু তাদের মূর্তিপূজার প্রতি তাঁর মধ্যে সন্দেহ ছিল। তাঁর জীবনীতে পাওয়া যায়, তিনি কখনও মূর্তির সামনে মাথা নত করেননি। যদিও তিনি অন্ধকার যুগে মুশরিকদের মাঝে লালিত-পালিত হয়েছিলেন, তাদের মাঝে ছিলেন, তারপরও তিনি এগুলোর পূজা করেননি।

তাঁর মধ্যে সত্য অন্বেষণের আগ্রহ ছিল। যখনই আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের দাওয়াত আসল বয়স্ক পুরুষগণের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম ইসলামে দাখিল হন। আলোর দিশা পাওয়া মাত্রই কোনো প্রকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই তিনি তা কবুল করে নেন। অতপর যুবকগণের মধ্যে আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু কালিমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

এরপর যখন হিদায়েতের আলো আস্তে আস্তে প্রসারিত হতে থাকল, চর্তুদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল, মানুষের মধ্যে তখন চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়ে গেল। এতদিন অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকার কারণে তাদের মধ্যে নিজেদের হাতে বানানো মূর্তিপূজার ব্যাপারে কোনো ধরনের দ্বিধা-সংশয় ছিল না, সত্য-মিথ্যা যাচাই করার আগ্রহ ছিল না। যখন হিদায়েতের আলোয় চর্তুদিকে আলোকিত হতে লাগল, তখন তারা তাদের পূর্বপুরুষ বাপ-দাদাদের দেখাদেখি যে মূর্তির পূজা-অর্চণা করত সেগুলোর বাস্তবতার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে দিল।

নবী করীম-এর চাচা আবু জাহল কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তাদের নেতা ছিল, সেও মূর্তিপূজা করত। নবী করীম-এর ওপর তার ভীষণ রাগ ছিল। তাঁকে বলল, তুমি এতদিন পর এগুলো কিসের দাওয়াত দিচ্ছ? আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এসব মূর্তির পূজা করতে দেখেছি। আবু জাহল যেহেতু মক্কার নেতা ছিল, তাই তার মূর্তি ছিল পীতলের, সবচেয়ে দামি। অন্যদের মূর্তিগুলো ছিল পাথর, মাটি, তামা, লোহা ইত্যাদির।

মানুষ যখন সত্য ধর্ম কবুল করতে শুরু করল, নবী করীম-এর দিকে ঝুঁকে যেতে লাগল, সে একটি লাঠি নিয়ে তার মূর্তির সামনে গিয়ে দাঁড়াল এবং তাকে বলল, তোমাকে এতদিন ধরে কত আদর-যত্ন করেছি, তোমার জন্য দুধ, সন্দেশ ইত্যাদির ব্যবস্থা করেছি। আর এখন সবাই মুহাম্মদ -এর দিকে ঝুঁকে পড়ছে, আমার সরদারি, নেতাগিরি এগুলো তো থাকবে না। এখন তো মনে হচ্ছে তুমি সবচেয়ে নিকৃষ্ট, তুমি সবচেয়ে খারাপ, তোমার পূজা-অর্চণা এগুলো মিথ্যে।

আবু জাহলের গর্ব-অহমিকা সব শেষ হলে গেল। দুনিয়ায় যারা ক্ষমতায় থাকে তারা যেমন, ক্ষমতা চলে যাওয়ার ভয় করে, তেমনিভাবে আবু জাহলও তার ক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় করছিল।

ভাইয়েরা আমার! আমাদের নবী করীম হায়াতুন নবী, তিনি তাঁর রওযায় জীবিত আছেন। এটি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আকীদা। তাঁর সেই নূর থেকে এখনো হিদায়েতের আলো বিতরণ হচ্ছে। আর সেই নূর থেকে হিদায়েত পেতে হলে আমাদেরকে আল্লাহর অলীগণের সান্নিধ্য লাভ করতে হবে। যেহেতু এখন আমরা নবী করীম-কে দেখি না, তাঁর সান্নিধ্য পাই না, তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে পারি না, তাঁর সুহবত পাই না। তিনি তাঁর রওযা পাকে জাহেরিভাবে শায়িত আছেন। কিন্তু বাতেনিভাবে রাত যত গভীর হয় তাঁর হিদায়েতের নূর তত বেশি আলো বিতরণ করতে থাকে। সুবহানাল্লাহ।

একজন আল্লাহর অলী বলেন,

گہری اندھیری اور تاریکیوں میں دیکتا ہے رات وہی کا سودا تیری گلی میں۔ ‘রাত যত গভীর হতে থাকে বুজুর্গানে দীনের বেচা-বিক্রি তত বেড়ে যেতে থাকে এবং তাদের ঈমান ও মারিফাতের বাজার সরগরম হয়ে ওঠে।’ হযরত মা আয়িশা এই বলেন,

0

وَشَمْسِي خَيْرٌ مِنْ شَمْسِ السَّمَاءِ

لَنَا شَمْسُ وَلِلْآفَاقِ شَمْسٌ

. وَشَمْسِي تَطْلُعُ بَعْدَ الْعِشَاءِ

فَإِنَّ الشَّمْسَ تَطْلُعُ بَعْدَ فَجْرٍ

‘সকল দুনিয়াবাসীর জন্য সূর্য রয়েছে একটা, আর আমি একা একটি সূর্য পেয়েছি। দুনিয়াবাসী পেয়েছে আকাশের সূর্য যা দিনে উদয় হয়। আর আমি পেয়েছি হিদায়েত, ঈমান, মা’রিফতের সূর্য। যখন নবী করীম সকল কাজ-কর্ম শেষ করে এশার পর আমার কামরায় তাশরীফ আনেন তখন সেই সূর্য উদিত হয়।’ সুবহানাল্লাহ।

সেই সূর্য কি শুধুমাত্র মদীনায় আলো বিতরণ করে? একজন আশেকে রাসুল বলেন,

سنا ہے تم کہ وہ آتا رہتا ہے مدینے میں غلط ہے غلط ہے رہتا ہے وہ عاشق کے سینہ میں

‘যদি বলা হয়, নবী করীম শুধুমাত্র মদীনায় থাকেন, তাহলে মিথ্যা হবে। কেননা তিনি সকল আশেকানের অন্তরে রয়েছেন এবং তাঁর আলো সব জায়গায় বিতরণ হতে থাকে।’

যদিও হিদায়েত ও মা’রিফতের মরকাজ বা কেন্দ্র মদীনার রওযা মোবারকে। কিন্তু সেখান থেকে বিতরণ হচ্ছে বাগদাদে বড়পীর শায়খ মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানী ৯-এর কবরে, খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী এ-এর নিকট, নিযামুদ্দীন আউলিয়া-এর নিকট, বাংলাদেশের হযরত শাহ জালাল ইয়ামানী-এর নিকট, দেশ-বিদেশের যত আউলিয়ায়ে কেরাম আছেন তাঁদের সকলের নিকট এ হিদায়েতের আলো বিতরণ হয়।

এগুলো হলো মারিফাতের বিভিন্ন স্টেশন, এখানে জমা থাকে। যেভাবে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে বিভিন্ন জায়গায় জমা হয়ে সেখান থেকে বিতরণ করা হয়। যারা আল্লাহর অলীগণের সাথে সম্পর্ক গড়বে তারা ঘরে থাকুক বা অফিসে থাকুক, হিদায়েতের এ সিলসিলা তথা তরীকতের তারের মাধ্যমে তাদের কাছেও পৌছতে থাকবে। আল-হামদু লিল্লাহ।

ভাইয়েরা আমার! আল্লাহর রহমত দুই প্রকার। যথা- আম রহমত ও খাস রহমত। অর্থাৎ তিনি রহমান ও রহীন। তাঁর প্রথম রহমত সবার জন্য আম। মুসলমান-অমুসলমান, কাফির-মুশরিক সবার জন্য তিনি ‘রহমান’। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকার রহমত শুধুমাত্র তাঁর খাস বান্দাগণের জন্য, তিনি তাঁদের জন্য ‘রহীম’। যাঁদের মধ্যে রহমত তালাশের আগ্রহ আছে তাঁদের জন্যই এ রহমত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَنْ يَشَاءُ

‘তিনি তাঁর অনুগ্রহের জন্য যাকে ইচ্ছা একান্ত করে নেন।”

হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন, إِذَا تَقَرَّبَ الْعَبْدُ إِلَيَّ شِبْرًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِذَا تَقَرَّبَ مِنِّي ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ

مِنْهُ بَاعًا، وَإِذَا أَتَانِي مَشْيَا أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً».

‘বান্দা যখন আমার দিকে এক বিঘত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হই। আর সে যখন আমার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে দুই হাত নিকটবর্তী হই। সে যখন আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।’২

তাই যে আল্লাহর রহমত পাওয়ার আশায় তাঁর দিকে অগ্রসর হয়, আল্লাহর সুহবত পেতে চায়, আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায়, নিজের অস্তিত্ব বিলীন করে দিয়ে গর্ব-অহংকার চূর্ণ করে তাঁকে পাওয়ার জন্য, হিদায়েত লাভকরার জন্য চেষ্টা করে। আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর অনুগ্রহের জন্য বেছে নিয়ে তাঁর রহমত দিয়ে নিজের দিকে টেনে নেন। সুবহানাল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

قَدْ جَاءَ كُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَ كِتَبٌ مُّبِينٌ

‘নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নূর ও সুস্পষ্ট

কিতাব এসেছে।”

আল্লাহ তাআলা কিতাব নাযিল করেছেন সহীহভাবে তিলাওয়াত করার জন্য, বোঝার জন্য, আমল করার জন্য। নবী করীম ইরশাদ করেন,

لِكُلِّ آيَةٍ مِّنْهَا ظَهْرٌ وَبَطْنُ». প্রত্যেক আয়াতের শব্দের জাহেরি ও বাতেনি অর্থ রয়েছে।

জাহেরি ও বাতেনি উভয় প্রকার ইলমের কেন্দ্র হচ্ছে নবী করীম।

জাহেরি অর্থ সাধারণভাবে ইলমদারিগণ বুঝতে পারেন। কিন্তু বাতেনি অর্থ যারা বুঝতে পারেন, তারা হলেন ‘হুকামা’ এবং তাঁরা জাহেরি ও বাতেনি উভয় প্রকার অর্থ বুঝতে পারেন। মাওলানা রুমী এ তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে বলেন,

بجو

معانی قرآن از قرآن بجو اور نہ یابی از اہل دل

‘কুরআনের ইলম কুরআন দ্বারা নিজে বুঝতে পারলে বুঝে নাও, আর না পারলে যারা আহলে ইলম তথা যারা কলব তৈরি করেছেন আল্লাহর যিকির-আযকার করে, নুবুওয়াতের ইলমের মিরাস যারা অর্জন করেছেন এবং জাহেরি ও বাতেনি ইলমের জ্ঞান যাদের মধ্যে আছে তাদের কাছ থেকে কুরআন বুঝতে চেষ্টা কর।’ সুবহানাল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصُّدِقِينَ

‘হে ঈমানদানগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীগণের সাথে থেকো।’২

আল্লাহর এ ভয় এমনি এমনি আসবে না। আল্লাহর ভয় অন্তরে আসার জন্য সাদিকীন তথা সত্যবাদীগণের সাথী হতে হবে, তাঁদের সান্নিধ্য লাভকরতে হবে। তাফসীরে রুহুল বয়ানে وَكُونُوا مَعَ الصَّدِقِين )সাদিকীনের সাথী হয়ে যাও) এ আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘সাদিকীন হলেন মুহাক্কিক আলেমগণ ও তরীকতের মাশায়েখ। তোমরা তাঁদের সান্নিধ্য লাভ করো।”

নামাজের প্রতি রাকাআতে আমরা তিলাওয়াত করি এবং আল্লাহ তাআলার কাছে দরখাস্ত করি, اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ )আমাদেরকে সরল পথ দেখান।) এখানে ‘সিরাতাল মুস্তাকীম’ বা সরলপথ কোনটি? কেউ বলেন, শুধুমাত্র আম্বিয়ায়ে কেরাম-এর পথ। এ একটি মাত্র রাস্তাই যদি ‘সিরাতাল মুস্তাকীম’ হয়ে থাকে তাহলে পরের আয়াতে আল্লাহ তাআলা উয়া (আল্লাযী) শব্দটি একবচনের পরিবর্তে বহুবচন । (আল্লাযীনা) শব্দটি ব্যবহার করেছেন কেন? রাস্তা একটি হলে আল্লাহ তাআলা উ (আল্লাযী) একবচনের শব্দ উল্লেখ করতেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيِّنَ وَالصِّدِّيقِينَ

وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَبِكَ رَفِيقًا

‘আর যারা আল্লাহ ও রাসুলের হুকুম মান্য করবে, তারা আল্লাহর নিয়ামাত প্রাপ্ত নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণের সাথী হবেন। আর তারা কতই না উত্তম সঙ্গী।”

আর ‘সালিহীন’ তথা সৎকর্মশীলগণ কারা? তাফসীরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তাঁরা হলেন আউলিয়ায়ে কেরাম, বুজুর্গাণে দীন, পীর-মাশায়েখ, নেক্কার বান্দাগণ। আমাদেরকে তাঁদের সুহবত লাভ করতে হবে, তাঁদেরকে অনুসরণ করতে হবে, তাঁদের সাথে থাকার আমল করতে হবে। আর যারা এই রাস্তা অবলম্বন করে তাঁদের প্রসংশা করে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا

‘আর তারা কতই না উত্তম সঙ্গী।’২

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কবুল করুন এবং আমল করার তওফিক দান করুন। আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।

رَبَّنَا تَقَبَّلُ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ وَ تُبْ عَلَيْنَا ۚ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ .

‘আমাদের থেকে কবুল করো, নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।… এবং আমাদের ক্ষমা করো। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী, দয়ালু।”

গ্রন্থনায়: হাফেজ আবু নোমান মোহাম্মদ ছফিউল্লাহ


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *