জীবনে অনেক পীর বুজর্গের দরবারে যাবার সুযোগ আমার হয়েছে। কিন্তু এমন একজন বুজর্গ পীর আমার শত বছরের জীবনে বিরল। ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফে তিনদিন ব্যাপী একটি জাতীয় সেমিনার উদ্বোধন করার সুযোগ আমার হয়েছিল। তখন আমি তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখে যে উপলব্ধি আমার হয়েছে তা হলো তিনি মানুষ দেখেই বুঝতে পারতেন ভাল না মন্দ। ভালো গুণীজন হলে আন্তরিক সমাদর করতেন। খারাপ হলে বুঝতে দিতেন না। আমি তাঁর মধ্যে গোঁড়ামীর লেশমাত্রও দেখিনি। তিনি বড়ই উদারপ্রাণ ছিলেন। তাঁর জন্য জনৈক ব্যক্তি খুব সুন্দর একটা চেয়ার বানিয়েছিলেন। গতানুগতিক ধারার আলোকে আমার ধারণা ছিল তিনি নির্ধারিত সজ্জিত চেয়ারটিতে বসবেন। আমি অবাক হলাম তখনি যখন তিনি আমাকে সেই চেয়ারটিতে বসতে জোর অনুরোধ করলেন। আমি সেই ব্রিটিশ আমল থেকে দেখে আসছি অনেক বুজর্গ ইংরেজি পড়াকে কুফর মনে করতেন। যিনি ইংরেজি শিক্ষিত ছিলেন তাকে খুব নাজুক অবস্থায় পড়তে হত। তাদের ধারণা ছিল ‘ইংরেজরা যেহেতু এ অঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্য করতে এসেই রাজ্য ক্ষমতা কেড়ে নেয়। সুতরাং তাদের ভাষা সংস্কৃতি কেন গ্রহণ করবো।’ এ ক্ষেত্রে বায়তুশ শরফের মরহুম পীর হযরত শাহ্ মাওলানা আবদুল জব্বার সাহেব রহ. ছিলেন স্যার সৈয়দ আহমদের মত উদার চিত্তের অধিকারী। তিনি ইংরেজি ভাষা জানাকে তদানীন্তন পীর সাহেবদের মত কুফর মনে করতেন না। বরং তিনি কাফেরকে মুসলমান করার আন্তরিক প্রয়াসী ছিলেন। তাঁর এই সুন্দর সাবলীল আচরণটি আমাকে মুগ্ধ করেছে।
প্রফেসর এমিরেটাস ড. সিরাজুল হক
(ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্র একমাত্র কন্যার জামাতা)
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
Leave a Reply