১৯৫৬ সালে আমি পাঁচলাইশ ওয়াজেদিয়া আলিয়া মাদরাসায় প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হই। তখন থেকে ১৯৬৯ইং পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় হুজুর কেবলার অতি নিকটে থাকার সুযোগ হয়েছে। তিনি কামিল ক্লাসে আবু দাউদ শরীফ পড়াতেন।
স্বাস্থ্যবান, সুন্দর কণ্ঠস্বরের অধিকারী একজন আদর্শ শিক্ষক। শুধু তাই নয়- তাঁর সাথে অনেক সময় ওয়াজের মাহফিলে গিয়েছি। রাত দু’টোর সময় বাসায় ফিরে আমাদেরকে আদেশ দিলেন- তোমরা তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়। এক-দেড় ঘণ্টা পর হঠাৎ চোখ খুলে দেখছি হুজুর কেবলা তাহাজ্জুদের নামাযে ব্যস্ত এবং আল্লাহ্ ধ্যানে মগ্ন। ১৯৮৩ সালে হুজুর কেবলা মাসকাট সফরে আসেন। তখন বাংলাদেশ বিমানের (মাসকাট) ম্যানেজার ছিলেন জনাব ইউছুফ আলী সাহেব। তাঁর বাসায় একদিন আলোচনা প্রসঙ্গে একজন বললেন- অনেক ওলামায়ে কেরাম, বুদ্ধিজীবি ও গণ্যমান্য ব্যক্তি হুজুর কেবলার সাথে দেখা করতে এসেছেন কিন্তু অমুক ‘আলেম’ আসেননি। হুজুর কেবলা বললেন- ‘আমি তাঁর সাথে দেখা করতে যাব, তোমরা আমাকে নিয়ে চল।’ এর চেয়ে উদার হৃদয়ের অধিকারী আর কে হতে পারে?
আজ শুধু আলোচনা ও লিখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে হুজুর কেবলার প্রদর্শিত পথে আমাদেরকে কাজ করে যেতে হবে এবং যিনি (বায়তুশ শরফে) তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর নেতৃত্বে একতাবদ্ধ হয়ে যদি দ্বীন ও ত্বরীকতের খেদমত আঞ্জাম দিতে পারি- তাহলে আমরা হুজুর কেবলার রূহানী ফয়েজ ও বরকত লাভে সমর্থ হব। আল্লাহ্ আমাদেরকে তাওফীক দান করুন। আমীন।
মাওলানা জাফর আহমদ জাহানাবাদী
সাবেক উপাধ্যক্ষ, রাঙ্গুনিয়া আলমশাহপাড়া আলিয়া মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
সভাপতি, আ.ই.বা মাসকাট, ওমান শাখা।
Leave a Reply