মরহুম পীর ছাহেব গত বিশ বছর যাবৎ ঐতিহাসিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের উদ্বোধন করেছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে কে আজ তাফসীর মাহফিলের উদ্বোধন করবে?
আজ হতে আঠার-বিশ বছর আগে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং এর কথা যখন কল্পনাই করা যেত না, তখন তিনিই বায়তুশ শরফে সর্বপ্রথম ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং এর উপর প্রথম সেমিনারের আয়োজন করেন। বাংলাদেশের প্রথম চালুকৃত সুদবিহীন, ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক পরিচালিত বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক “ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড” এর তিনি প্রতিষ্ঠাতা স্পন্সর ডাইরেক্টর এবং আমৃত্যু এ ব্যাংকের শরীয়াহ্ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন।
বাংলাদেশে অনেকগুলো বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তন্মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র একটি। আর তা হল আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে যখন আলাপ আলোচনা শুরু হয় তখন আমাদের বসার জন্য, আলাপ আলোচনা করার জন্য বায়তুশ শরফ ব্যতীত আর কোন জায়গা ছিল না। বায়তুশ শরফ থেকেই এ প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু। কারণ মরহুম পীর ছাহেব জানতেন ইসলামী রাষ্ট্রের পূর্বে রাষ্ট্র পরিচালনার কারিগর তৈরী করা দরকার। যোগ্যতা সম্পন্ন লোক তৈরী না হলে ইসলামী রাষ্ট্র চালানো কঠিন হবে। তাই তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ভাবাদর্শকপুষ্ট মেধাবী কারিগর তৈরীর লক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পত্তন করেছিলেন। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে হাত দেই তখন দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ভিসি ব্যাঙ্গ করে বলেছিলেন, এটা তো পাগলদের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয় কি যেন-তেন কথা! কিন্তু হুজুর ছিলেন অটল। তাঁর দোআ ও সহযোগিতায় এ বিশ্ববিদ্যালয় সুনামের সাথে তিনটি বছর অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
মরহুম পীর ছাহেব ছিলেন শহীদের গর্বিত পিতা, যেদিন তাঁর মেঝ ছেলে শহীদ হাফেজ আবদুর রহীম শাহাদাত বরণ করে ঘটনাক্রমে সেদিন যোহর নামায আমি বায়তুশ শরফে পড়ি। নামাযের পর হুজুরসহ এক প্রোগ্রামে যাওয়ার কথা। নামাযের পূর্বেই দুঃসংবাদ পাই। নামায শেষে তিনি খাওয়া-দাওয়া খেয়ে যখন বিশ্রামের জন্য বসলেন তখন তাঁর পাশে বসে আমি উচ্চারণ করলাম পবিত্র কুরআনের সে আয়াত- ‘লিকুল্লি আজালিন কিতাব, ‘ইযা জাআ আজালুহুম লা ইয়াস তা’খিরুন সাআঁতাও ওয়ালা ইয়াস্তাকদিমুন।’
অর্থাৎ- যখন নির্ধারিত সময় এসে যাবে তখন সকলকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। এক মুহুর্তেও আগ-পর করা হবে না। তিনি ঘটনা বুঝতে পারলেন। কিন্তু আশ্চর্য! কোনরূপ উহঃ আহঃ চিৎকার তিনি করলেন না। শুধু তাঁর দু’চোখ বেয়ে টপ-টপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখলাম। কি অসম্ভব ধৈর্যশীল পিতা ছিলেন তিনি!
মানুষ মারা গেলে তার সব নেক আমল বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র তিনটি আমল তখন তার কবরে ছাওয়াব পৌঁছাতে থাকে। ১. সৎ সন্তান ২. সদকায়ে জারিয়া ৩. দ্বীনি এলম। মরহুম পীর ছাহেব কেবলার এ তিনটি আমলই জারী রয়েছে। যা সচরাচর সকলের মাঝে পাওয়া দূর্লভ।
-মাওলানা মুহাম্মদ শামসুদ্দীন
সভাপতি, ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply