তখন পীর সাহেব সেখানে হস্তক্ষেপ করেছেন…

মরহুম মাওলানা আবদুল জব্বার সাহেবের সাথে আমার পরিচয় আজ থেকে প্রায় ১০ বছর পূর্বে। আমার বন্ধু অধ্যাপক ড. মুঈনুদ্দীন আহমদ খান সাহেবের মাধ্যমে তাঁর সাথে যোগাযোগ হয়েছিল। আমার গবেষণার বিষয় ‘তাওহীদের দর্শন’ এর উপর একটি প্রবন্ধ পাঠের জন্য তিনি আমাদের বায়তুশ শরফ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার কতিপয় বন্ধুও তাতে উৎসাহ জুগিয়েছেন। আমি সেখানে তাওহীদের উপর আলোচনা পেশ করার চেষ্টা করেছিলাম। তাওহীদকে সাধারণত আমরা মনে করি একটি ধর্মীয় বিষয়, কিন্তু আমি আমার গবেষণায় তাওহীদের দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য দেখাতে চেষ্টা করেছি। আমি আলোচনা করেছিলাম আমার গবেষণার আলোকে। সেখানে একজন আলোচক আমার বক্তব্যের অর্থ সঠিকভাবে না বুঝে, তার দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করতে থাকলে, এক পর্যায়ে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তখন পীর সাহেব সেখানে হস্তক্ষেপ করেছেন। সে প্রেক্ষাপটে সেখানে পীর সাহেবের বক্তব্য ছিল যে, একটা বিতর্ক যদিও হয়েছে বক্তারা কেমন উপকৃত হয়েছেন জানি না তবে এতে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি। উভয় পক্ষ যে যুক্তি তর্ক পেশ করলেন তাতে আমাদের জ্ঞান অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কথাও প্রমাণিত হয়েছে যে, আমাদের আরো জানার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি মানুষের শিক্ষা দেয়ার জন্য যথেষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। এখন তাঁর যারা অনুসারী আছেন তাদের দায়িত্ব হচ্ছে যে, ‘আমাদের হুজুর যেটা অসমাপ্ত রেখে গেছেন সেটাকে আমরা সমাপ্ত করব। মানুষের মধ্যে জ্ঞান বিতরণ করব, মানুষকে ভালোবাসবো মানুষকে আলোকপ্রাপ্ত করব। তিনি ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ এবং সত্যিকার অর্থে যারা আলোকিত মানুষ তারা শুধু নিজেরাই আলোকিত থাকতে চান না, অন্যকে ও আলোকিত করতে চান।


-ড. আবদুল জলিল মিয়া

অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *