একজন নিখাদ মানুষ ও মানুষ গড়ার সফল কারিগর

মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ. ছিলেন একজন নিখাদ মানুষ এবং মানুষ গড়ার সফল কারিগর। বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত সত্য যে, আমাদের দেশে ইসলাম এসেছে পীর বুযুর্গদের মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমানে যা দেখছি তার অভিজ্ঞতা তেমন সুখকর নয়। পীর মুরিদীর এই সুন্দর ধারাটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশে পীরের যে সিস্টেম চলছে তা বংশানুক্রমিক। ‘পীরের ছেলে পীর হয়’ এটাই বর্তমান প্রচলিত নিয়ম। বায়তুশ শরফের মাওলানা মরহুম আবদুল জব্বার রহ. প্রচলিত ধারার বিপরীতে এমন একটা চমৎকার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, শুধু বাংলাদেশে নয় গোটা দুনিয়ায় যেখানেই বায়াত মুরিদের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের অনুশীলন হয়, আমি বিশ্বাস করি এ থেকে তাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। এটা মস্ত বড় একটি সিস্টেম, এটা উস্তাদ সাগরেদের প্রশ্ন, ওস্তাদের ছেলে হলেই ওস্তাদ হওয়া যায় না, ওস্তাদের ছাত্ররাই ওস্তাদ হয়। ওস্তাদ হতে হলে যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। অনুরূপভাবে পীরের ছেলে পীর হতে হলে তাকেও যোগ্য ও গুণবান হতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে সেটা হয় না। মরহুম মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. দুনিয়া থেকে চলে গেছেন বটে, hereditary (বংশানুক্রমিক) system তবে রেখে যাননি। যেভাবে রাসূল-এ-করীম সা. রেখে যাননি। রাসূল সা. যে রকম খেলাফত রেখে গেছেন, তেমনি মাওলানাও রেখে গেছেন খেলাফত। যাতে যোগ্যদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়। মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. যে কাজটি করেছেন, উনি রূহের উৎকর্ষ সাধন করেছেন। রূহকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখার নিমিত্তে যা প্রয়োজন তার ব্যবস্থা তিনি করেছেন। একই সাথে দেহের জন্য যা দরকার তাও তিনি করেছেন। লাশ হয়ে কবরে যাবার আগে মানুষকে এই বিশ্বচরাচরে বাস করতে হয়। পার্থিব জীবন পরিচালনার জন্য আমরা পথ নির্দেশনা পাই, হযরত মুহাম্মদ সা. এর জীবনে। মহানবী সা. সমাজে যে অন্যায় অনাচার, অবিচার ছিল তার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। তারও আগে যুবকদের সংঘটিত করে গঠন করেছিলেন, ‘হিলফুল ফুজুল’ তেমনি গঠন করেছেন হযরত পীর সাহেব আন্জুমনে নওজোয়ান বাংলাদেশ। যে কাজের মাধ্যমে তিনি মানুষের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন।


-ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান

ভাইস চ্যান্সেলর, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, অধ্যাপক আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *