তাঁর প্রযুক্তি মনস্কতার স্মৃতি মনে পড়ে

আন্তর্জাতিক ইসলমী বিশ্ববিদ্যালয় এর সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রায় সকল ঘটনাপ্রবাহের সাথে আমি সম্পৃক্ত, সাক্ষী ও জ্ঞাতজন। চট্টগ্রামে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নপূরণের পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব ছিলেন চট্টল মনীষা মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। তাঁর স্বপ্নকে আলোর মুখ দেখাতে অগ্রসেনানী আলোকবর্তিকার মত ভূমিকা পালন করেন সর্বজননন্দিত মানবহিতৈষী বায়তুশ শরফের মরহুম পীর সাহেব শাহ্সূফী হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ.। তাঁর আন্তরিক উদ্যোগে সর্বপ্রথম ১৯৯২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ‘চট্টগ্রামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনিবার্য গুরুত্ব’ বিষয়ে এক সেমিনার আয়োজন করা হয়। পীর সাহেব হুজুরের সভাপতিত্বে সেমিনারে চট্টগ্রামের তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ ও গুণীজনদের মধ্যে মঞ্চে আসন অলংকৃত করেছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি উপমহাদেশের খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ মরহুম প্রফেসর ড. আবদুল করিম, চট্টগ্রাম ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সাবেক সভাপতি মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ শামসুদ্দিন, মরহুম প্রিন্সিপ্যাল এ. এ. রেজাউল করিম চৌধুরী, মরহুম প্রফেসর ড. মুঈনুদ্দীন আহমদ খান, মরহুম মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী, মরহুম মুহাম্মদ বদিউল আলম প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

এই সেমিনারের ঐতিহাসিক গুরুত্ববহ আউটপুট ছিল শাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ.-কে আহবায়ক করে ৬১ সদস্যের ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম’ বাস্তবায়ন কমিটি। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনসহ বিভিন্ন স্থানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটির একাধিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ পথ-পরিক্রমা শেষে গঠন করা হয় ‘চট্টগ্রাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট’। হযরত মাওলানা আবদুল জব্বার রহ.-কে ট্রাস্টের সভাপতি করা হয়। ১৯৯৫ সালের ১৯ এপ্রিল ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম’ এর বোর্ড অব ট্রাস্টের উদ্যোগে চট্টগ্রাম স্টেশন রোডস্থ হোটেল মিসকায় আয়োজিত সুধী সমাবেশে পীর সাহেব হুজুরের বক্তব্য এখনো আমার হৃদয়ে মননে মস্তিষ্কে গেঁথে আছে। তিনি বলেছিলেন, ‘যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তা বাস্তবায়নে যেন ব্যত্যয় না হয়। আর আমার বক্তব্য স্পষ্ট, এই বিশ্ববিদ্যালয় উম্মাহর জন্য হলে আমি আছি আর কোন দল বা গোষ্ঠীর জন্য হলে আমি নেই।’

উল্লেখ্য, ঐ সময়ে বায়তুশ শরফের মরহুম পীর সাহেবকে ট্রাস্টের সভাপতি করা হলেও যাবতীয় আর্থিক লেনদেন হতো ট্রাস্টের তৎকালীন সেক্রেটারী মরহুম বদিউল আলম সাহেবের স্বাক্ষরে। ১৯৯৫ সালের জুন মাসে পীর সাহেব হুজুরের হাতে ৩টি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনের মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. ১৯৯৫ সালের ১৫ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং কম্পিউটারের ওই দুর্মূল্য ও দুষ্প্রাপ্যের সময়ে প্রথম কম্পিউটারটি তিনিই প্রদান করেছিলেন। একজন পীরের এই সুদূরপ্রসারী প্রযুক্তি-মনস্কতার স্মৃতি মনে পড়লে এখনো আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি।


-প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, এম.পি।

চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাস্টি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *