তিনি ছিলেন স্বল্পভাষী ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন। এক্ষেত্রে একটি ঘটনার কথা না বলে পারছি না। হুজুর ছিলেন চট্টগ্রাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। উক্ত ট্রাস্টের একজন নগণ্য সদস্য হিসেবে সুযোগ হয়েছে হুজুরের সাথে কাজ করার। হুজুর উপস্থিত থাকলে বরাবরই ট্রাস্ট সভায় সভাপতিত্ব করতেন। ট্রাস্টের এমনি একটি সভায় একবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তি করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, পরপর দুই অধিবেশনে এটি আলোচিত হয়। উপস্থিত বিদগ্ধ ও পণ্ডিত সদস্যরা এর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক আলোচনা করেছেন। কিন্তু হুজুর ছিলেন নির্লিপ্ত। মন দিয়ে কেবল শুনেছেন সকলের কথা। আমার মনে ব্যাকুলতা জেগে উঠলো-দেখি হুজুর কি বলেন! সুদীর্ঘ সময় পরে সবার আলোচনা শেষে স্বল্প কথায় তিনি অভিমত ব্যক্ত করলেন, ‘ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদেরও ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষায় গড়ে তোলা প্রয়োজন। যদি ছাত্রীদের জন্য হিজাবের ব্যবস্থা থাকে এবং তাদের আলাদাভাবে বসানো হয় তাহলে তাদের ভর্তির ব্যাপারে আপত্তি কোথায়?’ হুজুরের এ স্বল্প বক্তব্য সম্বলিত অভিমত ব্যক্ত হওয়ার পর সমন্ত আলোচনার অবসান ঘটে এবং ছাত্রী ভর্তির অনুকুলেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আলহামদুল্লিাহ্, আজ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ছাত্রীদের জন্য নিজস্ব ক্যাম্পাস ও ছাত্রী নিবাসের ব্যবস্থা রয়েছে।
-অধ্যক্ষ মোহাম্মদ তাহের
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখক
প্রিন্সিপ্যাল, শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ্ ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply