তাঁর সাংগঠনিক প্রতিভা ও দূরদৃষ্টি ছিল বিস্ময়কর

বায়তুশ শরফের পরম সম্মানিত পীর ছাহেব হাদিয়ে যামান শাহ্ সূফী আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ. ২৫ মার্চ ‘৯৮ সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে তাঁর খানকাহ্ শরীফে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন- ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজেউন- এ খবর লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিস্ময়ে হতবাক করে দিয়েছিল, আকুল কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল নিকট- সুদূরের ধনী ও দরিদ্র নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা।

তাঁর ওফাত শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক মানুষের জন্য নয় বরং সমগ্র দেশ তথা মুসলিম মিল্লাতের জন্য কত বড় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে তার পরিপূর্ণ অনুধাবন করতে হয়ত অনেক সময় লাগবে।

তিনি ছিলেন মূখ্যত একজন শেখ-এ-ত্বরীকত বা পীর ছাহেব। পীর ছাহেব সম্বন্ধে এ দেশের শিক্ষিত সমাজ এমন কি অনেক আলেম-ওলামার, বিরূপ ধারণা রয়েছে। এর কারণ অবশ্যই আছে। পীর ছাহেব নাম ধারণ করে নিজের দুনিয়াবী স্বার্থ সিদ্ধি করে যাচ্ছে এমন লোক অনেক। বর্তমানে তা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু একটা ব্যাপার সব শিক্ষিত ব্যক্তির বোঝা উচিত যে, সংসারে ঐ জিনিসই নকল হয় যা জনপ্রিয় এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, কিন্তু এটা কোন রকমেই আসল জিনিসের দোষ নয়। সত্যিকারের পীর মুর্শিদগণ মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র। তাঁদের দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, মানুষ তাঁদের বিশ্বাস করে, ভক্তি করে। কোন স্বার্থপর সুযোগ সন্ধানী লোক এ সুযোগ নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য গ্রহণ করেছে বলে সকল পীর ছাহেব সমালোচনার পাত্র হওয়া উচিত নয়। বরং একজন শিক্ষিত ব্যক্তির উচিত সত্যিকারের পীর মুর্শিদ কোন জন এবং কে পীর মুর্শিদ নামধারী ভণ্ড তা নিজ বুদ্ধি বিবেক দিয়ে যাচাই করা। এটা তেমন কোন কঠিন কাজ নয়। অন্ততঃ একজন শিক্ষিত লোকের জন্য।

বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে, মানুষ যখন ভোগবিলাস আর স্বার্থপরতার মোহে আচ্ছন্ন তেমন এক যুগে বায়তুশ শরফের পীর ছাহেব, আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় হুজুর রহ. প্রমাণ করে গেলেন- একজন সত্যিকারের পীর মুর্শিদ কত মহৎ হতে পারেন ও জাতির জন্য কত উপকার সাধন করতে পারেন।

আধ্যাত্মিক সাধনার পথ এত সহজ নয়। এটি পিতা বা পিতামহের কাছ থেকে পাওয়া যায় এমন সম্পদও নয়। চরম ত্যাগ তিতিক্ষা ও সাধনার মাধ্যমে এ সম্পদ অর্জন করতে হয়। বায়তুশ শরফের প্রতিষ্ঠাতা আমাদের মহান হযরত কেবলা রহ. ও তাঁর উত্তরাধিকারী আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় হুজুর কেবলা রহ. এর জীবনে তাঁর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আধ্যাত্মিক সম্পদ অর্জনের জন্য তাঁরা কঠিন সাধনা করেছেন, পরিশ্রম করেছেন অত্যন্ত একাগ্রতার সাথে, চরম ত্যাগের পথ অবলম্বন করে। কঠিন সাধনার মাধ্যমে আল্লাহ্র নৈকট্য যিনি হাসিল করতে পেরেছেন তিনিই শুধু দুনিয়াবী সম্পদ আর আরাম আয়েশের লোভ সংবরণ করতে পারেন। কারণ, তিনি যে সম্পদ লাভ করেছেন তার সম্মুখে দুনিয়াটা মূল্যহীন।

বায়তুশ শরফের মরহুম পীর ছাহেব আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় হুজুর রহ. অসাধারণ চারিত্রিক গুণাবলী নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আর তা হাজার গুণে বিকশিত হয়েছিল তাঁর মহান শেখের শিক্ষা ও সান্নিধ্যের বরকতে। তিনি ছিলেন বিশাল জ্ঞান, সুতীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাঁর সাংগঠনিক প্রতিভা ও দূরদৃষ্টি ছিল বিস্ময়কর। তাঁর চরিত্রের সকল গুণাবলীকে তিনি নিয়োজিত করেছিলেন মানুষের কল্যাণে- দুনিয়াবী ও আখেরাতের মঙ্গল সাধনে। আর তাঁর নিজের ও পরিবারের জন্য রেখেছিলেন হুববে শেখ, হুববে রাসূল ও হুববে এলাহি।


মোহাম্মদ আমান উল্লাহ্ খান

বিশিষ্ট জীবনীকার ও ইতিহাসবিদ হযরত কেবলা রহ. এর মহিমাময় জীবনী এর লেখক।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *