ডাক্তারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

এক শীতের মওসুমে আমাদের শ্রদ্ধেয় হুজুর আল্লামা শাহ্ আবদুল জব্বার রহ. এর টাইফয়েড জ্বর হয়েছিল। ডাক্তার বলেছিলেন ঠাণ্ডার কারণে তার বারবার জ্বর আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। তাই তিনি যেন শেষ রাত্রে না উঠেন এবং শরীরে ঠাণ্ডা না লাগান। যদি শেষ রাত্রে ওঠা হয় তাহলে শরীরে ঠাণ্ডা লেগে যাবে যার কারণে রোগ ভালো হবে না। ডাক্তার সাহেব এ কথা বলার পরও তার শরীরে ভীষণ জ্বর থাকা সত্বেও তিনি রাত তিনটার দিকে উঠে তাহাজ্জুদের নামায পড়তেন এবং যিক্র করতেন।

আর এক সময় তাঁর ভীষণ ডায়রিয়া হয়েছিল। বেশি পায়খানা এবং বমি হওয়ার কারণে তাঁর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় এবং বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর চিকিৎসার জন্য তিনজন ডাক্তার আনা হয়েছিল। তারা বলেছিলেন, তাঁর ঘুম কম হওয়াতে ডায়রিয়া হয়েছে। তারা তাঁকে ঘুমের ঔষধ ও স্যালাইন দিয়ে ঘুমিয়ে রাখেন এবং কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন তিনি যেন দিনের দশটার পূর্বে ঘুম থেকে জাগ্রত না হন। একথা বলে তিনজন ডাক্তার রাত দু’টার সময় চলে যায়। আমি অধম হুজুর কেবলার পাশে ছিলাম। দেখতে পেলাম রাত তিনটার দিকে হুজুরের ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে তিনি উঠে অযু করেন এবং বসে বসে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করেন। তিনি তাহাজ্জুদ নামায আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েননি বরং হাতে তাসবীহ নিয়ে শুয়ে যিক্র করতে থাকেন।


মাওলানা তাহেরুল ইসলাম

প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ও খতিব, মসজিদ বায়তুশ শরফ, কক্সবাজার।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *