আল্লাহ্ পাকের পরম ইচ্ছায় ১৯৯৬ সালের রবিউল আউয়ালের গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমাকেও সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য দাওয়াত পত্র পাঠালেন। মাসিক মদীনা সম্পাদক সাহেবও পত্র লিখলেন যে, ঐ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান মেহমান হিসেবে যাবেন; চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় যে ঢাকা হয়ে তার সঙ্গে যাই। নির্দিষ্ট সময়ে আমরা দু’জন একসঙ্গে চট্টগ্রাম উপস্থিত হলাম। সন্ধ্যায় বাদ মাগরিব সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হলো। মঞ্চে পীর সাহেবের সাথে পরিচয় হলো। দেখলাম সত্যিই তিনি একজন খাস তাসাউফ পন্থী ও কামেল দরবেশ। তাঁর মধ্যে খুঁজে পেলাম আল্লাহ্র রাসূলের পরিপূর্ণ সুন্নত। নিরহংকার দিব্যজ্ঞানী, আধ্যাত্মিক জগতের একজন খালেস তাপস। কবি আবদুল হালীম খাঁ’র চিঠির বর্ণনায় এক বর্ণও বাড়িয়ে লেখা ছিলো না। হুবহু মিলে গেলো। বাস্তবিক, প্রত্যক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলাম যেমন ওস্তাদ তেমনি সাগরেদ। বায়তুশ শরফের প্রতিটি মানুষই হুজুর কেবলার আদর্শে তৈরি এক একটি মডেল। মেহমানদের সেবা ও সম্মান তারা সত্যিই করতে জানেন। হুজুরসহ সবার আচার ও ব্যবহারে আমি মুগ্ধ হয়ে ফিরে এসেছি। শারিরীক অসুস্থতার কারণে খুব স্বল্প সময় তাদের সোহবতে থাকতে পেরেছি। এই সময়েই আমি অনুধাবন করে এসেছি বায়তুশ শরফের হুজুরের পূত দরাজ হস্তে যখন আমার প্রথম প্রকাশিত বই- ‘এখানে রাত্রি নামে’ অর্পণ করলাম তখন তিনি খুবই খুশি হলেন এবং আমার জন্য দোয়া করলেন। তাঁর সোহবত ছিল বড়ই মধুর। শুধু শারিরীক কারণে আমাকে অতি দ্রুত ফিরে আসতে হয়। আসার মুহূর্তে যোহরের নামাযের পরে আমার সুস্থতার জন্য সমবেত মুসল্লিসহ দোয়া করলেন। হুজুর তখন মসজিদের দক্ষিণ পাশে বসে তসবীহ্ জপছিলেন। সালাম জানিয়ে বিদায় আরজ করলাম। একট হেসে বললেন- আপনাকে পেয়ে আমরা খুশি হয়েছি। আর ক’দিন থেকে গেলে হয় না? অজুহাত দেখিয়ে বিদায় নিয়ে চলে এলাম। কিন্তু আজো মনে পড়ে- আপনাকে পেয়ে আমরা খুশি হয়েছি। আর ক’দিন থেকে গেলে হয় না? দুর্ভাগ্য আমার। তাই একজন পরশ পাথরের সংস্রব ছেড়ে এসেছি। ইসলামের প্রবেশদ্বার ও বারআউলিয়ার পদ স্পর্শিত চট্টলার পূতভূমি ছেড়ে চলমান বাসে বসেও মনটা আমার পেছনে দৌড়াচ্ছিলো। মনে পড়ছিলো হুজুরের মোবারক চেহারা।
কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা নওগাঁ, রাজশাহী।
Leave a Reply