আমি এখানে কয়েকটা দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি। চট্টগ্রাম ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে এক সভা আহ্বান করা হয় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে। ঐ সভা আহ্বান করেন বায়তুশ শরফের হুজুর আহ্বায়ক হয়ে এবং অধ্যক্ষ এ. এ. রেজাউল করিম চৌধুরী ও মাওলানা শামসুদ্দীন সাহেব যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে। প্রায় ৬০/৭০ জন চট্টগ্রামের খ্যাতিমান ইসলামী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হবার পর যখন বায়তুশ শরফের পীর সাহেব হলে প্রবেশ করেন তখন উপস্থিত কয়েক ব্যক্তি দ্রুত অগ্রসর হয়ে মঞ্চের আসনে তাঁকে বসাতে সচেষ্ট হলেন।
কিন্তু তিনি হঠাৎ করে মঞ্চের ফ্লোরে বসে গেলেন। কয়েকজন তাঁকে চেয়ারে বসতে আবদার, অনুরোধ করলে তিনি স্পষ্ট জবাব দিলেন, আমি এখানে শান্তিতে বসেছি, সভা শুরু হোক তখন বসব। আমি ঐ সভায় আমন্ত্রিত একজন হয়ে তাঁর এ আমিত্ববোধ পদদলিত করতে দেখে সত্যিই তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ বেড়ে গিয়েছিল।
হযরত সৈয়দ সাহেব রহ. স্মরণে বিশাল আকারের শোকসভার উদ্যোগ নেন বায়তুশ শরফের মরহুম হুজুর, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন আকীদার বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়েছিলেন। এ শোকসভায় আমার উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। শোকসভায় সভাপতির চেয়ার পরিহার করে তিনি ফ্লোরে বসে গিয়েছিলেন। এ শোকসভায় তিনি সভাপতির ভাষণে একাধিকবার উচ্চারণ করেছেন আমি আবদুল জব্বারকে কেউ চিনবে না যতক্ষণ না বায়তুশ শরফের আবদুল জব্বার বলা না হয়। আমি কিছুই নই। বায়তুশ শরফের মাধ্যমে আমার পরিচয়।
সাতকানিয়ার একজন প্রাক্তন ওস্তাদ তাঁর সাথে ধনিয়ালাপাড়া বায়তুশ শরফে সাক্ষাতে গেলে তিনি সোফা থেকে উঠে ফ্লোরে বসে গিয়ে ঐ ওস্তাদকে নাকি তাঁর আসনে তথা সোফাতে বসিয়েছিলেন যা আমি ঐ সময় উপস্থিত থাকা এক ব্যক্তি থেকে শুনেছি। আমাদের দেশের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ সেকালের ওস্তাদকে হয়ত পাশে চেয়ারের ব্যবস্থা করে বসাবে। কিন্তু ওস্তাদকে চেয়ারে বসিয়ে নিজে ফ্লোরে বসবে এমন অবস্থা দেশে বিরল বলা চলে। এককথায়, তিনি আমিত্ববোধকে পদদলিত করতে পেরেছিলেন বলে তাঁকে আল্লাহ্ পাক এত মর্যাদা ও সম্মান দান করেছেন। সাথে সাথে পীর-মুরিদী অর্গলকে ডিঙ্গিয়ে তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ্পাক সমাজের ও জাতির অত্যাবশ্যক খেদমতের আঞ্জাম দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। জানিনা, আমাদের দেশে দ্বিতীয় আরেকজন এমন আছে কিনা। আল্লাহ্পাক রাব্বুল ইজ্জত তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
আহমদুল ইসলাম চৌধুরী
বিশ্ব পর্যটক, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও কলামিস্ট, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply