প্রায় ১২ বছর আগের কথা। বার্জার কোম্পানীর এক অফিসার ছিলেন আমার আন্তরিক বন্ধু। একদিন আমাকে বলেন, জীবনের বিরাট একটা অংশ তো হেলা-ফেলায় কাটিয়ে দিলাম। পরকালের কি গতি হবে সে চিন্তায় অস্থির।
তাই স্বস্ত্রীক আল্লাহ্ কোন ওলীর হাতে হাত রাখতে চাই। আপনি কি আমাকে সে ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দেবেন? আমি বললাম, ব্যাপারটি তো গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিলও। কারণ, বর্তমান যামানায় পীরের অভাব নেই। আস্তানা সাজিয়ে অনেকে বসে আছেন মুরীদের অপেক্ষায়। আবার অনেক ভক্ত জোগাড়ের জন্য লোক নিযুক্ত রেখেছেন বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু সত্য পীর কারা, তাদের আলামত কি ইত্যাদি বিষয়ে সাধারণ লোকের জ্ঞান না থাকায় বাতিল পীরদের জালে এমনভাবে আটকা পড়ে যে, শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা পাওয়া যায় না। বন্ধুবরকে বললাম, কয়দিন পর দেখা করুন। আমিও চিন্তা করি, আপনিও চিন্তা করুন। ঠিক ক’দিন পরেই তিনি এসে হাজির। বললেন, এক অদ্ভুদ স্বপ্ন দেখেছি। আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আপনি ব্যাখ্যা দিবেন। তিনি বললেন, “আজ রাতে স্বপ্ন দেখি কোথায় যাচ্ছিলাম। বেশ কিছুদূর অগ্রসর হয়ে দেখি একটি মাজার তখন আমার মনে হল মাজারটি প্রিয় নবী হযরত রাসূলে করীম সা. এর। লোকজনের মুখেও তাই শুনতে পেলাম। তাই আমি খুব আদব ইহতিরামের সাথে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সে দিকে চলি। খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াই আর কবরের দিকে গভীরভাবে দৃষ্টি দিই। কিন্তু কি আশ্চর্য! আমার চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। হঠাৎ কবরের উপর শুন্যে ভেসে উঠল বায়তুশ শরফ এর পীর সাহেবের চেহারা। এক অভাবিত ব্যাপার। কিছু বুঝে উঠার আগেই স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।”
বললাম, ভাই আর ভাবনা কিসের? স্ত্রী সহকারে কালকেই তাঁর খেদমতে হাজির হয়ে যান এবং তাঁর হাতে হাত রেখে আত্মশুদ্ধিতে নিয়োজিত হোন। আমার এ ব্যাখ্যা তার মনপূত হল। আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে কথা দিলেন পরদিন তার সমীপে হাজির হবে।
এ ঘটনার পর তাঁর প্রতি অন্তরে অসীম ভক্তি শ্রদ্ধা সৃষ্টি হল। ফলে অবকাশ পেলে তাঁর সমীপে হাজির হতাম। তাঁর গাম্ভীর্য কচি শিশুর মত সরলতা, কুরআন হাদিসের গভীর জ্ঞান, চরিত্রের অকৃত্রিমতা, বিরাট বিরাট কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হয়েও সাধারণ লোকদের সাথে সহজ সরল মেলা-মেশা এসব দেখে দারুণভাবে মুগ্ধ হতাম।
হাফিজ আবু জাফর ছাদেক
মাসিক নির্বাহী সম্পাদক, দাওয়াতুল হক, চট্টগ্রাম পেশ ইমাম,
জমিয়াতুল ফালাহ্ জামে মসজিদ, দামপাড়া, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply