বায়তুশ শরফের মরহুম পীর ছাহেব ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। দেশ-জাতি ও কালের কল্যাণে নিজের সারা জীবন উৎসর্গ করে গেছেন তিনি।
আধুনিক পদ্ধতিতে ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে বহু মাদরাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পাশাপাশি আধ্যাত্যিক-নৈতিক উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য খানকাহ ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। সমাজের অনাথ ও এতিমদের শিক্ষিত এবং স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে অনন্য ভূমিকা রাখেন। ইসলামি অর্থ ব্যবস্থা রূপায়ণে ও বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন সফল পুরোধা। মুসলিম ঐক্য সাধন ও তাদের কল্যাণে প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন তিনি। বাংলাদেশে বায়তুশ শরফের পীর আলেম সমাজের জন্য গৌরবের। তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের শরিয়ত সম্মত বাস্তব অনুসারী ও আধ্যাত্মিক পীর ছিলেন। দ্বীন ও মাজহাবের একজন নিরলস নিঃস্বার্থ ব্যক্তি হিসেবে তিনি একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।
কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থে সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে কাপুরুষের ন্যায় আচরণ করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে।
সমাজসেবক ও সংগঠক হিসেবে তাঁর প্রতিটি কাজ অত্যন্ত সুনিপুণ ও সুসংগঠিত। আমরা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাঁর অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পারব ইনশাআল্লাহ্। আল্লাহ্ যেন তাঁকে উপযুক্ত প্রতিদান দেন সেই মুনাজাত করি।
আলেম হিসেবে তিনি ছিলেন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সুশিক্ষিত। মুসলিম উম্মাহ্র ঐক্য প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। সর্বপ্রকার হানাহানি, দলাদলি ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে থেকে নিঃস্বার্থভাবে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করে গেছেন। সমাজের দিশেহারা লোকদের জন্য তিনি একজন সঠিক দিশারী ছিলেন। সুতরাং তিনি সকল দিক দিয়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে গেছেন। তিনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে ছিলেন সফলকাম। তাঁর ইন্তেকালে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
মাওলানা মুহাম্মদ মুসলেহ উদ্দীন
অধ্যক্ষ, সোবহানীয়া আলীয়া মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply