১৯৯১-এ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় চলে এলাম। এর মধ্যে দ্বীন-দুনিয়ার মাধ্যমেই বায়তুশ শরফ এর খোঁজ খবর পেতাম। একদিন দাওয়াত পেলাম, নিউ এয়ারপোর্ট রোডে বায়তুশ শরফ ঢাকার উদ্যোগে হাসপাতালের দ্বারোদঘাটন এবং আন্জুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর ৪০তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসসহ অনেকেই আসছেন। আমিও গেলাম। খুব সুন্দর অনুষ্ঠান হলো। হুজুরের প্রতিষ্ঠিত যুব সংগঠন ‘আন্জুমনে নওজোয়ান’ কর্তৃক আয়োজিত পুস্তক পদর্শনী দেখলাম। জানতে পারলাম, সারা দেশে তাঁর সেবা কার্যক্রম। মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সেলাই শিক্ষা কেন্দ্র, হাসপাতাল, ক্লিনিক ইত্যাদির তথ্য ও পরিসংখ্যান জ্ঞাত হলাম সেখানেই। দেখলাম, পীর সাহেব রচিত ও অনূদিত কিছু প্রকাশনা।
এরইমধ্যে বেশ ক’বার মদীনা ভবনে দেখা হয় দ্বীন-দুনিয়ার নির্বাহী সম্পাদক জনাব মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ্র সাথে। বহুবার সাক্ষাতে ও পত্রযোগে অনুরুদ্ধ হয়েও লেখা দিতে পারি না বলে দ্বীন দুনিয়া কর্তৃপক্ষের সামনে ক্ষুণ্ণন্তাবোধে বিব্রত হই। ৯৬-এর মধ্যভাগে একবার সম্ভবতঃ ঈদুল ফিতরের আগে আগে দ্বীন দুনিয়ার খামে একটি পত্র আসে মুসলিম জাহানের ঠিকানায়। খুলে বিস্মিত হই-সম্পাদক প্রবীণ শিক্ষাবিধ জনাব এ. কে. মাহমুদুল হক সাহেবের ফরোয়ার্ড লেটারসহ পীর সাহেব হুজুরের তরফ থেকে ‘হাদিয়া’। ‘ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ্, পক্ষে কলমযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার জন্যে আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনাসহ’ পাঁচশ টাকা তিনি আমার নামে পাঠিয়েছেন। আমি এক অপার্থিব প্রাপ্তির জ্যোতির্ময় অনুভবে আপ্লুত হই যেন। কলম চালিয়ে অনেক টাকাই আমরা উপার্জন করেছি, উপহার উপঢৌকনও কম পাচ্ছি না কিন্তু পীর সাহেব হুজুরের ৫০০ টাকার মানগত মূল্যস্তর অনেক অনেক ঊর্ধ্বে।
দ্বীন দুনিয়ায় লেখা দেয়া আমার আর হয়ে ওঠেনি। ক’মাস আগে শিশু সাহিত্য বিষয়ক এক সেমিনারে, প্রবন্ধ পড়তে চট্টগ্রাম গেলে দেখা হয় জাফর উল্লাহ্ সাহেবের সাথে। অনেক বিষয়ই কথা হয়, লেখালেখির বিষয়েও। কিন্তু তখন কি আমরা কেউই জানতাম যে অল্পদিনের মধ্যেই ইহলোক ত্যাগ করে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন দ্বীন-দুনিয়ার প্রতিষ্ঠাতা বায়তুশ শরফের প্রাণপুরুষ পীর সাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ.।
–উবায়দুর রহমান খান নদ্ভী
মহা-পরিচালক, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া, বাংলাদেশ। নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান, সম্পাদকীয় উপদেষ্টা: মাসিক জাগো মুজাহিদ, সহযোগী সম্পাদক: মাসিক আল-হক, সদস্যঃ রাবেতায়ে আলম আল-ইসলামী, পরিচালক: ইসলামী চেতনা বিকাশ কেন্দ্র, ঢাকা; গ্রন্থকার ও কলাম লেখক।
Leave a Reply