গণ আকাঙ্ক্ষার নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি

বাংলার মুসলমানদের আজ বড় দুর্দিন। রাজা গণেশের উত্তরসূরীরা আজ বাংলার অসহায় মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়ে পুনরায় তাদেরকে ‘যবন হরিদাসে’ পরিণত করতে চায়!

ইহুদী-নাসারা গোষ্ঠী আজ শকুনের মতো উড়ে বেড়াচ্ছে বাংলার আকাশময়। উপমহাদেশে ইসলামের প্রথম প্রবেশদ্বার চট্টগ্রামকে ওরা ইসলামাবাদের মর্যাদা থেকে বিচ্যুত করে তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার নিয়ে একটা নতুন ইসরাঈলের গোড়াপত্তন করতে চায়। ওরা চায় বাংলার অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ বর্গীদের ন্যায় লুণ্ঠন করে নিতে।

মুসলিম উম্মাহ্ বিগত প্রায় দু’শো বছর যাবত সুদের জুলুমে অস্তিত্ব সংকটে পতিত। এই ভয়াবহ সুদের নির্যাতন থেকে সমগ্র উম্মাহ্ তথা অসহায় মানব সমাজকে রক্ষা করার সংকল্প নিয়ে বর্তমান শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথে একদল নিবেদিত প্রাণ মুসলিম অর্থ বিজ্ঞানী অবিরাম সাধনা শুরু করেছিলেন। ফলে ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা অস্তিত্ব লাভ করে। মধ্যপ্রাচ্যসহ দুনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের গরিব জনগণের জন্য একটি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে কোন্ মর্দে মুজাহিদ সামনে এগিয়ে আসবেন? আল্লাহর উপর ভরসা করে এই গণ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন বায়তুশ শরফের পীর মাওলানা আবদুল জব্বার রহ.।

ইসলামী ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি উচ্চাভিলাসী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে এগুলোর সফল বাস্তবায়নের প্রধান কাণ্ডারী বায়তুশ শরফের পীর ছাহেবের নিজের জীবনযাত্রা সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে, তা অনুধাবন করে বার বার মহাকবি ইকবালের সেই মহান দরবেশের কথাই মনে পড়ে; যিনি ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ঘুটঘুটে আঁধার রাতে তাঁর আদর্শের চেরাগখানি অতিকষ্টে জ্বালিয়ে রেখে দিকভ্রান্ত মানুষকে পথের দিশা বলে দিতেন। কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এই মহানায়ক তাঁর নিজের বা পরিবার-পরিজনের জন্য শহরাঞ্চলের কোথাও একটু আশ্রয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানাধীন প্রত্যন্ত গ্রাম মিয়াজীপাড়ার পৈত্রিক ভিটেটুকুতেই তিনি তাঁর জীবনসঙ্গীনী ও সন্তানদের রেখে গেছেন বলে শুনেছি।

ইসলামি সাহিত্য সম্ভারে বাংলা ভাষার দৈন্য সম্পর্কে পূর্ণমাত্রায় ওয়াকিবহাল ছিলেন বায়তুশ শরফের মরহুম পীর ছাহেব। তিনি নিজেও ছিলেন একজন সুলেখক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রথম শ্রেণির মাসিক পত্রিকা দ্বীন-দুনিয়া এবং প্রকাশনাসমূহ যুগের একটি প্রধান চাহিদা পূরণের পথে কতবড় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ, তা বিজ্ঞজন ছাড়া কেউ অনুধাবন করতে পারবে না। সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তাঁর চেতনা যে কত গভীর ছিল, তার কিছুটা অনুভব করা যায় প্রতি রবিউল আউয়ালে আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনা ও বায়তুশ শরফ পুরস্কার প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে। তাঁর মরমী ব্যক্তিত্বের প্রভাবেই সমকালীন বাংলার সর্বপ্রধান কবি আল মাহমুদ, আবদুল হালীম খাঁ, কবি যয়নুল আবেদীন মাহবুব, কবি আবদুল গণী খান, কবি আবু ইউসুফ, আতাউর রহমান, কবি নূরুল ইসলাম কাব্যবিনোদ প্রমুখ অনেক প্রধান সাহিত্যসেবী অকুতচিত্তে বায়তুশ শরফের প্রতি অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন।


-মাওলানা মুহিউদ্দীন খান

দেশবরেণ্য আলেমে দ্বীন, আপোষহীন কলম সৈনিক

সম্পাদক, মাসিক মদীনা, ঢাকা।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *