‘মানুষের সেবা ভিন্ন তরিকত নয়’, শেখ সাদী (রহ.) এর এই বাণীর সার্থক রূপায়ন ঘটেছিলো মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (রহ.) এর জীবনে। তিনি অর্থ বিত্তের মালিক ছিলেন গড়ে উঠেছে বায়তুশ শরফ পরিচালিত সকল মসজিদ (বাংলাদেশের প্রায় ছলেন না, তাঁর ঐশ্বর্য ছিলনা। কিন্তু তাঁর হাতেই প্রতিটি জেলায় অবস্থিত এর সংখ্যা শতাধিক) মাদ্রাসা, এতিমখানা, স্কুল, কলেজ, হাসপাতালসহ বৃহদায়তন সকল প্রতিষ্ঠান। কীভাবে অর্থ-বিত্তহীন একটি ব্যক্তির পক্ষে এসব করা সম্ভব হল। এর পেছনে অদৃশ্য প্রভুর করুণা আছে, আছে এক নিবেদিত বান্দার বিশুদ্ধ নিয়ত, ফরিয়াদ, তাঁর মুর্শিদের দোয়া ও অজস্র ভক্তবৃন্দের বাস্তব সহায়তা। এসব কিছুর সম্মিলনে পরিণত হয়েছে শাহসূফী মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ. যিনি শুধু একজন ব্যক্তি নয় একটি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের নাম শাহসূফী মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহ.- মেধা ও মনস্বিতায় উজ্জ্বল এক ব্যক্তিত্ব।
পাশ্চাত্য দেশ ভ্রমণে তিনি গভীরভাবে বস্তুতান্ত্রিক সভ্যতার উৎকট দিক, সেই সভ্যতার যাঁতাকলে পিষ্ঠ মানুষের মানসিক যন্ত্রণা ও হাহাকারকে পর্যবেক্ষণ করেন। ধনগর্বে স্ফীত এই সভ্যতার সমূহ বিপদ সম্পর্কে তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।
তিনি সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার পতন সম্পর্কেও ভবিষ্যৎবাণী করেন। কারণ এটি ছিল মানুষের ফিতরৎ বা স্বভাবের পরিপন্থি জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা। তিনি পাশ্চাত্য সমাজের বিদ্বৎ মহলে আল্লাহমুখী জীবন গড়ার আহ্বান জানান। “উপমহাদেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা” প্রবন্ধে তিনি এ উপমহাদেশে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির শাসন শোষণ নিপীড়ন নির্যাতনের বস্তুনিষ্ঠ চিত্র ও স্বাধীনতার লড়াইয়ে মুসলিম সাধারণ জনগণ ও আলেম উলেমা সমাজের আত্মত্যাগের সত্য ইতিহাস যা বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গিয়েছিল তা উদ্ধার ও প্রকাশ করেন। কারবালা সংগ্রামের সত্যিকার ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে তিনি ইসলামের ইতিহাসের সত্য তথ্য উদঘাটন করেন। এই মহামনীষীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মধারাসমূহ প্রবহমান রাখা এবং আরও সমৃদ্ধ করার মধ্যে দিয়েই তাঁর প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শনের কাজ সমাধা করা যাবে। তিনি তাঁর হাতের প্রজ্বলিত মশালটি আরেক প্রতিভা দীপ্ত মনীষীর হাতে অর্পণ করে গেছেন। যিনি তাঁর কর্মযজ্ঞের উত্তরাধিকারী তিনি হলেন বারুল উলুম শাহ্সূফী মাওলানা মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন রহ.। বায়তুশ শরফের সকল অনুরাগীর সমবেত প্রচেষ্টায় সেই আলোক মশালটি আরো উজ্জ্বলতর, উচ্চকিত হোক, তার আলোক প্রভায় বাংলার সর্ব দিক দিগন্ত উদ্ভাসিত হোক। বায়তুশ শরফের প্রতি ইঞ্চি জমিতে মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের পবিত্র কদমের ছোঁয়া লেগে আছে, শ্রেণি কক্ষের প্রতি প্রকোষ্ঠে তাঁর পবিত্র মুখ নিঃসৃত বাণী, শিক্ষার সবক রুদ্ধবাণীরূপে বিরাজিত আছে। যে কোন সংবেদী হৃদয় অভিনিবেশে কানপাতলে সেই পবিত্র কদমের পদধ্বনি রুদ্ধবাণীর বাত্ময়রূপ শুনতে পাবে। পরম করুণাময় মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (রহ:) কে চিরশান্তির নিকেতনে অধিষ্ঠান করুন। আমীন।
মাহবুবর রহমান চৌধুরী
বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক, চট্টগ্রাম।
Leave a Reply