আরব আমিরাতের আল-আইনে প্রদত্ত ভাষণ

মহান আল্লাহ তাআলার হামদ এবং সাইয়েদুল মুরসালীন রাহমতুল লিল-আলামীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা-এর ওপর রাশি রাশি দরুদ পাঠ করার পর পরম শ্রদ্ধেয় পীর সাহেব কেবলা সুদূর বাংলাদেশ থেকে আবুধাবীর প্রবাসী মুমিন ভক্ত-মুরিদানের সাথে সাক্ষাৎ (১৪, ১২, ৯৪) লাভ করতে সক্ষম হওয়াতে আল্লাহ-এর অসীম শোকরিয়া আদায় করে বলেন, আল-হামদু লিল্লাহ। তিনি আরও শোকরিয়া আদায় করেন যে, শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও অসুস্থ শরীর নিয়ে অসংখ্য ভক্ত-মুরিদানের সম্মুখে কথা বলতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যার রিযিক যেখানে আছে তাকে সেখানে যেকোনো উপায়ে যেতে হবে। কারণ রিযিকের মালিক মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন।

প্রমাণস্বরূপ তিনি নিম্নের আয়াতটি তিলাওয়াত করেন, وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللهِ رِزْقُهَا وَ يَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَبٍ

مبين

‘পৃথিবীর সকল প্রাণীর রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর। তারা কোথায় থাকে এবং তার রিযিক কোথায় রাখা হয়েছে তিনি অবগত আছেন। সবকিছু একটি সুস্পষ্ট কিতাবে (বর্ণিত) রয়েছে।”

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলার ওপর রিযিকের দায়িত্ব তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু সেই রিযিক সারা বিশ্বে বণ্টন করে দিয়েছেন তিনি। কার রিযিক কোথায় রয়েছে, কে কোথায় অবস্থান করবে তা আল্লাহ ভালো জানেন। যার রিযিক সেখানে যেকোনো উপায়ে তার সেখানে যেতেই হবে। এর দ্বারা বোঝা যায় আপনারাও আল্লাহর হুকুমে এখানে এসেছেন, না হয় ঘরে বসে বসে আপনারা রিযিক লাভ করতে পারতেন। আমিও অসুস্থ অবস্থায় আমার রিযিকের টানে আসতে বাধ্য হয়েছি। বিষয়টি আরও সহজ ও স্পষ্ট হওয়ার জন্য শরহে আকায়িদে নাসাফী গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আহলুস সুন্নত ওয়াল জামাআতের আকীদা হল এই, যার জন্য যে রিযিক নির্ধারিত করা হয়েছে বা বণ্টন করা হয়েছে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে মৃত্যু বরণ করবে না। তা অন্য কেউ গ্রহণও করতে পারবে না। অতঃপর হুযুর কেবলা একটি হাদীস বর্ণনা করেন যা ইমাম গাযালী ইয়াহইয়াউ উলুমিদ্দীনে বর্ণিত আছে, রাসুল পাক ইরশাদ করেছেন, ‘আমার উম্মতগণের যদি এক সপ্তাহ পর্যন্ত সত্যিকার নায়েবে রাসুল আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ না হয় তার ঈমান প্রায় মৃতের ন্যায় হয়ে যায়।’ এ রেওয়ায়ত শোনার পর করুণাভাণ্ডার মুসলিম জননী মহিয়সী হযরত আয়িশা সিদ্দিকা আরজ করলেন, ওগো আল্লাহর রাসুল যদি তা হয় আমার দুর্বল অসহায় সন্তানদের কি অবস্থা হবে? সকল উম্মত তো নায়েবে রাসুলের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাবে না। সাথে সাথে উম্মাহাতুল মুমিনীন আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন,

اللَّهُمَّ شَكٍّتْ أَرْزَاقَ الْعُلَمَاءِ فِي الْقُرْبَى وَالْأَمْصَارِ. ‘হে প্রভু! তুমি সত্যিকার নায়েবে রাসুল আলেমদের রিযিকসমূহ গ্রামে, শহরে ছড়িয়ে দাও।’

অর্থাৎ তাদের রিযিক এক দেশে, এক জেলায়, এক গ্রামে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দাও। যাতে করে সকল মুসলমান নর-নারী তাদের সান্নিধ্য লাভ করার সুযোগ পায়। অতঃপর হুযুর কেবলা প্রবাসী পিপাসী ভক্ত-মুরিদানের উদ্দেশ্যে বলেন, মানুষকে দুটি জিনিস দ্রুত গতিতে টেনে নিয়ে যায়। একটি হল রিযিক অপরটি মওত। জনৈক বুযুর্গ বলেছেন,

دو چیز آدمی را کشد زور زور * یکی آب و دانه دگر خاک گور ‘দুটি জিনিস মানুষকে দ্রুত গতিতে টেনে নিয়ে যায় একটি দানাপানি অপরটি কবরের মাটি।’

তাই প্রকৃত নায়েবে রাসুল ওলামা মসজিদের ইমামগণকে লোকেরা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ঘরে দাওয়াত করে। এমনও হয়ে থাকে হুযুরকে দাওয়াত করেও পাওয়া যায় না।

মৃত্যু সম্পর্কে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্দেশ্যে হুযুর কেবলা বলেন, মৃত্যু অবধারিত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মৃত্যুর হাত থেকে কোনো প্রাণী রেহাই পাবে না। নিম্নোক্ত আয়াতটি দলিলস্বরূপ পেশ করেন, أَيْنَ مَا تَكُونُوا يُدْرِكْتُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ

অর্থাৎ তুমি যদি লোহার সিন্দুকে আবদ্ধ থাক অথবা এমন একটি কক্ষে ঢুকে থাক যার কোনো দরজা জানালা নেই, আলো-বাতাস ঢুকতে পারে না। তারপরও মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে পারবে না। জীবন ও মরণের মালিক আল্লাহ। যাকে ইচ্ছা বাঁচান এবং যাকে ইচ্ছা মারেন। হায়াত ও মওতের উদ্দেশ্য সম্পর্কে হুযুর কেবলা বলতে গিয়ে একটি আয়াত পেশ করলেন,

خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيُوةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا

‘আল্লাহ তাআলা হায়াত এবং মওত সৃষ্টি করেছেন। এ উদ্দেশ্যে তোমরা কে সৎকাজ কর আর কে অসৎকাজ কর তা পরীক্ষা করার জন্য।”

আল্লাহ আমাদেরকে জীবনে যেন ভালো কাজ করার এবং আল্লাহ তাআলার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তওফিক দান করেন, আমীন।

এ প্রসঙ্গে পীর সাহেব কেবলা আল্লাহর প্রিয় বান্দা বিশ্ববরেণ্য হাকিম হযরত লোকমান-এর ওফাত সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আল্লাহ তাআলা হযরত আজরাইল-কে আদেশ করলেন, হে আজরাইল তুমি লোকমানের প্রাণ কবজ করে নিয়ে আস। এদিকে হযরত লোকমান কৌশল অবলম্বন করে নিজের আরও অবিকল দশটি ছবি বানিয়ে শোয়ায়ে রাখলেন। তিনিসহ এগারজন হলে যেন আজরাইল সহজে চিনতে না পারেন। আজরাইল আগমন করে দেখলেন যে, এগারজন লোকমান। এ দৃশ্য দেখে আজরাইল হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে চিন্তা করতে লাগলেন আসলে লোকমান তো একজন। হযরত আজরাইল বললেন, এক লোকমানের প্রাণ কবজ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, সেই লোকমান খুঁজে বের করতে আমি তো ধাঁধায় পড়ে গেছি।

আমি মানুষ নই ফেরেশতা। সোজাসোজি তোমার হুকুম পালন করি। এখানে তো সোজা নেই বাঁকা হয়ে গেছে। জীবনে কারও প্রাণ কবজ করতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে আসিনি, বিফল হইনি। আজকেই প্রথমবারের মতো ঘটে গেল। এখন আমি কি করি?

وَمَكَرُوا وَ مَكَرَ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمُكِرِينَ )

‘তারা (আল্লাহর সাথে) প্রতারণা করে। আল্লাহ হল সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী। আল্লাহর কাছে আবেদন করার পর আল্লাহ তাআলা বললেন, কাজটা আদৌ পেঁচানো কাজ নয়, অতি সহজ। আবার যাও। গিয়ে বলবে, اللام عَلَيْكُمْ। সালাম দেওয়ার সাথে সাথে আসল লোকমান বলে ওঠবে, وَعَلَيْكُمْ لَامُত্র।। কেননা নবীগণ অলীগণ কখনও ওয়াজিব তরক করতে পারেন না। নবী-অলী তো দূরের কথা সাধারণ মুমিনরাও পারে না, নকল লোকমানগুলো চুপ থাকবে। সালাম যে করবে সে আসল লোকমান, সালাম করার সাথে সাথে তার জান কবজ করে নিয়ে আসবে।

যার মৃত্যুর হুকুম যেখানে সেখানে কিভাবে আল্লাহ তাকে নিয়ে যান সে প্রসঙ্গে পরম শ্রদ্ধেয় হুযুর কেবলা উল্লেখ করে বলেন, সাধারণ মানুষকে আল্লাহ তাআলা মৃত্যু সম্পর্কে অগ্রিম জানান না, কিন্তু আল্লাহর প্রিয় বান্দাদেরকে অগ্রিম জানান এবং কিছু নিদর্শন তাদেরকে উপলব্ধি করার শক্তি দান করেন। আজরাইল এসে এক ব্যক্তিকে হুকুম দিল আগামীকাল তোমার জান কবজ করার হুকুম হয়েছে। সে উত্তর দিল, আমি এখন মরতে পারব না। কারণ এখন আমার অনেক কাজ কর্ম অসম্পন্ন রয়ে গেছে। আজরাইল ফিরে গেল। আল্লাহ তাকে পূর্নবার পাঠালেন। হে আজরাইল এ! তুমি সে লোকটিকে অগ্রিম খবর দিয়ে আস যে অমুক দিন অমুক সময়ে তোমার প্রাণ কবজ করা হবে। তুমি যথাসময়ে প্রস্তুত থাকবে। অতঃপর সে একটি নিরাপদ স্থান খোঁজ করার জন্য অস্থির হয়ে গেল। লোকটি সোলাইমান ৪৯-এর যুগের ছিল। পৃথিবীর সবকিছুর ওপর সোলাইমান এ-এর কর্তৃত্ব ছিল। বাতাস পর্যন্ত তার অধীনে ছিল। তাই লোকটি তাঁর শরণাপন্ন হয়ে বলল, হুযুর! আপনি বাতাসের মাধ্যমে আমাকে অনেক দূর দেশে নিয়ে যান যেখানে মলকুল মওত নাগাল না পায়।

তার পরদিন আজরাইল সোলাইমান-এর নিকট এসে বললেন, আস-সালামু আলাইকুম। সোলাইমান তাকে বললেন, আজকে আপনার দায়িত্ব কোন স্থানে কোন ব্যক্তির? আজরাইল উত্তরে বলল, আজ অমুক শহরে অমুক ব্যক্তির জান কবজ করার জন্য আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন। সোলাইমান প্রশ্ন করলেন, হে আজরাইল! তাকে কি পূর্বে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছিল? তিনি বললেন হ্যাঁ। হযরত সোলাইমান বললেন, আমি তো আজ বাতাসের মাধ্যমে তাকে অনেক দূরে পৌছিয়ে দিয়েছি যেন তুমি তাকে ধরতে না পার। আজরাইল বললেন, হুযুর! আল্লাহ পাক আমাকে সেই স্থানেই তার জান কবজ করার জন্য আদেশ করেছেন। আপনি আমার বিরাট উপকার করেছেন, দয়া করেছেন, অন্যথায় আমার অনেক কষ্ট হত। অন্য পন্থা অবলম্বন করতে হত।

দৈনন্দিন জীবনে ইসলামী আইন-কানুন মেনে চলার গুরুত্ব বর্ণনা করে পরম শ্রদ্ধেয় হুযুর কেবলা বলেন, হুযুর-কে সামনে রেখে অর্থাৎ তাঁর আদর্শের অনুসারী হয়ে দুনিয়াদারি করা জীবন যাপন করা সম্পূর্ণ ইবাদত। কেননা নবী করীম সারা বিশ্বের শিক্ষক। ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের যাবতীয় বিষয়ে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন। নবী করীম ইরশাদ করেছেন,

إِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلَّما .

‘আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।”

খাওয়া-দাওয়া, প্রশ্রাব-পায়খানা, অযু-গোসল ইত্যাদি নবী করীম শিক্ষা দিয়ে গেছেন। সেই অনুযায়ী চলা সম্পূর্ণ ইবাদত।

বর্তমান যুগের খাওয়া-দাওয়ার নিয়ম-পদ্ধতির ওপর মর্মাহত হয়ে তিনি বলেন, এখন দেখা যায় মুসলমানের ছেলেরা পাইকারিভাবে বাম হাতে খাওয়া ও পান করা শুরু করেছে। আরও মনে করে এটা একটা গৌরবের বিষয় ও ভদ্রতার উচ্চস্থান। অথচ শরীয়তে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, নবীর শিক্ষার পরিপন্থী কাজ। যাবতীয় মন্দ ও গন্ধ কাজ করা হয় বাম হাতে। শরীয়তের কথা আপাতত বাদই দিলাম। বিবেকের একটি বিচার তো আছে, যে হাত দ্বারা মন্দ কাজ ও ময়লা পরিষ্কার করা হয় তা দিয়ে খাওয়া-পান করাটা কি বিবেকে বাধা দেয় না? কেউ কেউ বলে থাকে, উভয় হাত আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন, বাম হাতে খাওয়াতে কি অসুবিধা? তার উত্তরে হুযুর কেবলা বলেন, ছাগল ও আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি এবং শুয়োরও আল্লাহর সৃষ্টি। তাই বলে কি কেউ শুয়োর খায়? হালুয়াও আল্লাহর বানানো পায়খানাও আল্লাহর প্রস্তুতকৃত, তাই বলে কি কেউ পায়খানা খায়?

টেকনাফের হযরত মাওলানা জমির উদ্দীন এ-এর এক উক্তি নকল করে আরও স্পষ্টভাবে শ্রদ্ধেয় পীর সাহেব কেবলা বলেন, হযরত মাওলানা জমির উদ্দীন এ একবার আমাকে বলেছিলেন, হুযুর আমাকে এক মইগ্যা (ঠাকুর) এমন এক প্রশ্ন করেছে যার উত্তর সহজে কুরআন-হাদীস থেকে বের করা যায় না। প্রশ্নটি হল এই মৌলভী সাহেব হুযুর! ‘তোমরা মানু। মুসলমানরা মানুষে মারিয়েদে ইবা খাইয়ে আল্লায় মারিয়েছে ইবা না খাইয়ে। অর্থাৎ আল্লাহর হুকুমে যেটা মরে গেছে সেটা খায়না মানুষে হত্যা করে তা তারা খায়। তিনি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলেন কি উত্তর দেবেন। পরিশেষে যথাযথ এক উত্তর তার বুদ্ধিতে আসল। হে মইগ্যা! তুমি মানুষের বানানো টিউবওয়েলের পানি কেন খাও আল্লাহ তোমাতে যে টিউবওয়েল বানিয়ে দিয়েছে, নিয়মিত যার থেকে পানি বের হয় অর্থাৎ প্রশ্রাব সে টিউব ওয়েলের পানি কেন খাওনা। যেমন প্রশ্ন তেমন উত্তর। আল্লাহ পাক বলেছেন,

وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ

‘এমন জন্তু ভক্ষণ করবে না যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে যবেহ করা হয়নি।”

লন্ডন সফরকালে হালাল-হারাম পার্থক্য করে খাওয়া-দাওয়া করার জন্য লন্ডনস্থ বাংলাদেশী যুবসমাজকে সম্বোধন করে হুযুর কেবলা নসিহত করে বলেন, হে যুবসমাজ! হোটেল-রেস্তোরায় এখানে দুই নম্বর বেশি চলে। একটু দেখে শুনে খাবে। তারা বলল, জি হুযুর! আমরা তো ঠিক আছি। আমাদের কিছু বন্ধু-বান্ধব আছে তারা দুই নম্বরকে এক নম্বরে নিয়ে গেছে। অর্থাৎ শুয়োরের মাংস হল এক নম্বর, আরও বলে গরু-ছাগল যিনি সৃষ্টি করেছেন শুয়োরও তিনি সৃষ্টি করেছেন। অতএব ভক্ষণ করতে অসুবিধা কি? হুযুর কেবলাও তাদেরকে এক যুক্তি শিক্ষা দিয়ে বলেন, হে যুবকরা! তাদেরকে বলবে, তার বোন মেয়ে লোক, অন্য নারীও মেয়ে লোক। তার বোনকে বিয়ে দিতে হবে, তার জন্যও বউ আনতে হবে। বর্তমানে বোনকে বিয়ে দিতে অনেক টাকা-পয়সার প্রয়োজন, তার জন্য বউ আনতেও অনেক অর্থের প্রয়োজন। এখন এত টাকা-পয়সা খরচ না করে তার বোনকে সে নিজেই বিয়ে করে বসলে কোনো অর্থ ব্যয় হয় না। কেননা তার বোনকে যিনি সৃষ্টি করেছেন অন্যান্য মহিলাকেও সে স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন অথচ তারা এ রকম করে না। যারা শুয়োরের মাংস খায় তাদের লজ্জা-শরম থাকে না। তার স্ত্রী-কন্যা বেগানা পুরুষের সাথে যেখানে-সেখানে চলে যায় তার বোন অন্য পুরুষের সাথে অবাধে মেলামেশা করে। সুতরাং তোমরা হালাল জিনিস খাও। আল্লাহ তাআলাও ইরশাদ করেছেন, [12:08, 9/6/2026] Abu Bakar Tamim: يَأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَتِ

‘হে নবীগণ! তোমরা পবিত্রবস্তুসমূহ ভক্ষণ কর।১

অতঃপর হালাল পন্থায় রুজি-রোজগার করা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কাজ-কারবার ইত্যাদি করা সম্পর্কে পরম শ্রদ্ধেয় হুযুর কেবলা প্রবাসী মুসলমান ভাইদের উদ্দেশ্যে হিদায়তী ভাষণে বলেন, বৈধভাবে আয় উপার্জন, ব্যবসা-বাণিজ্য করা সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত। পার্থিব জীবনে যা কিছু কর না কেন সব কাজে আল্লাহকে স্মরণ রাখতে হবে। মাওলানা জালালউদ্দীন রুমী কি সুন্দরভাবেই না বলেছেন, কথাটি

نمی گویم که از دنیا جدا باش * بہر کاری که باشی با خدا باش

আমি তোমাকে দুনিয়া ত্যাগী হওয়ার জন্য বলি না। অর্থাৎ তুমি দুনিয়ায় বসবাস কর এবং কাজ কারবার কর। পৃথিবীর যেখানেই থাক না কেন সেখানেই সর্বদা আল্লাহর কথা স্মরণ রাখ, আল্লাহর যিকির জারি রাখ। তাঁর একথা পবিত্র কুরআনের সাথে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে। সুরা জুমায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلوةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ

تُفْلِحُونَ

‘অতঃপর তোমরা যখন নামাজ সমাপ্ত কর তখন পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো। অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির কর, যাতে তোমরা সফল কাম হও।’২

রজবের চাঁদে মি’রাজের ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল বিধায় এ প্রসঙ্গে হুযুর

কেবলা বলেন, আল্লাহ তাঁর হাবীবকে উম্মে হানীর ঘর থেকে আরশে পাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য হযরত জিবরীল-কে প্রেরণ করলেন। জিবরীল তাঁকে মদীনা মুনাওয়ারা হয়ে মসজিদে আকসায় নিয়ে গেলেন। সেখানে ইমামুল আম্বিয়া হয়ে দুই রাকআত নামাজ আদায় করলেন এবং সমস্ত নবীর সাথে সাক্ষাৎ করে সোজা সপ্তম আকাশ অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহায় গিয়ে উপনীত হন। সেখান থেকে জিবরীল বিদায়ের জন্য প্রার্থনা করে বললেন, যা কবির ভাষায়:
[12:09, 9/6/2026] Abu Bakar Tamim: اگر یکسر موی برتر برم ہی فروغ تجلی بسوزد پرم ‘আমি যদি এক চুল পরিমাণ ওপর দিকে গমন করি তাহলে আল্লাহর তাজাল্লীর তাপে আমার ডানা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।১

সেখান থেকেই জিবরীল বিদায় নিয়ে গেলেন। রফরফ দ্বারা সাইয়েদুল আম্বিয়া ঊর্ধ্বগমন করলেন। অতঃপর হুযুরে পাক আরশে আযীমে গিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করলেন।

ثمَّ دَنَا فَتَدَلَّى لَنْ فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى ، فَأَوْلَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَولى

‘আল্লাহর অতিনিকটে গেলেন দুই ধনুকের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী হয়ে গেলেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর বান্দাকে যা বলার ছিল তা বলে দিলেন। আরশে মুআল্লা থেকে ফিরে আসার পথে হযরত মুসা-এর সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার পর মুসা রাসুল পাক-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ওহে আখেরি নবী আপনাকে আল্লাহ কি উপহার দিয়েছে? হুযুর উত্তরে বললেন, পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ লাভ করেছি। মুসা তাঁকে নামাজের সংখ্যা হ্রাস করার জন্য বারংবার আল্লাহর দরবারে পাঠানোর পর পাঁচ ওয়াক্ত স্থির করালেন। এরপরও মুসা আপত্তি করলেন, তখন হুযুর বললেন, হে মুসা! এখন আল্লাহর দরবারে যেতে আমার লজ্জা বোধ হয়, আমি আর যাব না।

হযরত মুসা প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ-কে বারবার আল্লাহর দরবারে পাঠিয়ে নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত করার রহস্য কী? এ সম্পর্কে উল্লেখ করে আধ্যাত্মিক গুরু শ্রদ্ধেয় হুযুর কেবলা বলেন, হযরত মুসা দর্শন লাভ করার জন্য আগ্রহ করে বলেছিলেন, দেখা দেন)। আল্লাহ উত্তর দিয়েছিলেন, বারবার আল্লাহর بِّিرَ )হে প্রভু আমাকে

لن تَرِينِي وَلَكِنِ انْظُرُ إِلَى الْجَبَلِ

وَلَمَّا جَاءَ مُوسَى لِمِيقَاتِنَا وَ كَلَّمَهُ رَبُّهُ قَالَ رَبِّ أَرِنِي أَنْظُرْ إِلَيْكَ قَالَ لَنْ تَرَانِي وَلَكِن انْظُرُ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرينِي فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكَّا وَ خَرَّ مُوسَى صَعِقًا فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَنَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ . ‘হে মুসা! তমি আমাকে কখনও দেখতে সক্ষম হবে না, বরং পাহাড়ের (তুর) দিকে তাকাও।

অতঃপর পাহাড়ের দিকে তিনি তাকালেন,

فَلَنَا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكَّا وَخَرَّ مُوسَى صَعِقًا فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحْنَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ

وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ .

‘যখন আল্লাহ তাআলা পাহাড়ের ওপর তাজল্লী প্রদান করলেন পাহাড় থর থর করে কম্পমান হল। মুসা বেহুশ হয়ে পড়ে গেলেন। যখন তিনি হুশ হলেন তখন বললেন, রব্বুল আলামীন আমি তওবা করলাম কখনও আর একথা বলবো না। আমি তো আসলে মুমিন।’২

হযরত মুসা বলেন, সাইয়েদুল আম্বিয়া সরাসরি আল্লাহর দর্শন ও মিলন লাভ করেছেন আর তিনি লাভ করেননি। তিনি মনে করেন আখেরি নবীর চেহারা-সুরতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার দর্শন করার ন্যায় দর্শনের তৃপ্তি লাভ করবেন। তাই তিনি বারংবার তাঁকে আল্লাহর নিকট পাঠালেন এবং নবী পাকের চেহারা মোবারক দেখার সুযোগ লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ।

মি’রাজ রজনীতে উপঢৌকন স্বরূপ যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ রাসুল পাক এনেছিলেন তা হল আমাদের ঈমানি রুহানি খোরাক। রহমতুল্লিল আলামীন আমরা গোনাহগার দুর্বল উম্মতের জন্য দৈনিক পাঁচবার মিরাজের ব্যবস্থা করেছেন,

الصَّلَاةُ مِعْرَاجُ الْمُؤْمِنِينَ».

‘নামাজ মুমিনের জন্য মি’রাজ-স্বরূপ।’

নামাজ আল্লাহর নির্ধারিত ফরজ,

إِنَّ الصَّلوةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَبًا مَوْقُوتًا

‘মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে নামাজ ফরজ করা হয়েছে।”

আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব ও যিকিরের ফযিলত সম্পর্কে শ্রদ্ধেয় হুযুর কেবলা বলেন, কলব পরিষ্কার করা প্রত্যেক মুমিনদের জন্য একান্ত কর্তব্য। কলব পরিষ্কার হলে নামাজের স্বাদ ও উপকার পাওয়া যাবে। কলব কিভাবে পরিষ্কার করা যায় এ প্রশ্নের জবাবে পীর সাহেব কেবলা বলেন, কলব পরিষ্কার করার জন্য একটি যন্ত্র আছে যা রাসুল পাক ইরশাদ করেছেন,

إِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ صِقَالَةٌ، وَإِنَّ صِقَالَةَ الْقُلُوْبِ ذِكْرُ اللَّهِ ».

‘প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি হাতিয়ার থাকে কলব পরিষ্কার করার জন্য হাতিয়ার হল আল্লাহ তাআলার যিকির।”

হযরত মাওলানা জালালউদ্দীন রুমী ৯৯ এ হাদীসের তরজমা করতে গিয়ে মসনবী শরীফে কি সুন্দর না বলেছেন,

رو تو زنگار از رخ او پاک کن و بعد آزاں نور را ادراک کن

‘কলবের ময়লা আবর্জনা, কালিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর রেত দ্বারা পরিষ্কার করো। অতঃপর সেই কলবের আলো দ্বারা আল্লাহকে অনুধাবন করো।’২

হুযুর কেবলা আক্ষেপ করে বলেন, আমরা তো এখন কলবকে বরবাদ করে ফেলেছি, ময়লা-আবর্জনার স্তুপে পরিণত করেছি, সম্পূর্ণরূপে অন্ধকার করে রেখেছি। তিনি অত্যন্ত আবেগবান হয়ে ভক্ত-মুরিদানকে সম্বোধন করে বলেন, ওহে আমার শ্রোতাগণ, তরীকতপন্থি ভাইগণ, দুনিয়াদারি কর, কাজ-কারবার, ব্যবসা-বাণিজ্য কর তাতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু কলব যেটা আছে দেহের ভেতর তা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কারও জন্য নয়। অন্য কিছু সেখানে স্থান দেওয়া আদৌ জায়েয নয়। কলবের আবর্জনা যদি পরিষ্কার হয়ে যায় তা আয়নায় পরিণত হয়ে যাবে। সাইয়েদুত তায়েফা হযরত জুনাইদ বাগদাদী বলেছেন,

قَلْبُ الْمُؤْمِنِ مِرْأَةُ الرَّبِّ.

‘মুমিনের কুলব হল আল্লাহকে দেখার আয়না-স্বরূপ।’

বাহ্যিক দৃষ্টিতে আল্লাহকে দেখা যায় না। অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে আল্লাহকে দেখতে হয়। স্বয়ং আল্লাহর স্বীকৃতি প্রাপ্ত নবী মুসা-এর দৃষ্টি আল্লাহকে দেখতে সক্ষম হয়নি। মুসা তো শুধু বেহুশ হয়েছিলেন আর আমরা তো জলে পুড়ে ছাই হয়ে যেতাম। তাই বায়আত মুরীদের মাধ্যমে যিকির-আযকারের মাধ্যমে কলব পরিষ্কার করে যদি নামাজ পড়া হয় তা হলে الصَّلَاةُ مِعْرَاجُ الْمُؤْمِنِين-এর মর্যাদা লাভ করা যায়। তিনি আরও বলেন, তকবীরে তাহরীমা বেঁধে নামাজে দাঁড়ালে শরীর দাঁড়িয়ে থাকে কিন্তু রুহ দাঁড়িয়ে থাকে না। রুহ দ্রুত গতিতে ঊর্ধ্বগমন করতে থাকে। কোনো বুযুর্গ বলেছেন,

ظاہر میں دست بستہ ہیں قید ناز میں ہی پر قطع کرتے ہیں وہ منازل ناز میں

‘প্রকাশ্যে যদিও সে কয়েদীর মতো নামাজে দাঁড়িয়ে আছে আসলে সে উপরের দিকে অনেক স্তর অতিক্রম করে যাচ্ছে। এমনকি আরশে মুআল্লায় পৌঁছে গেছে।’

নামাজে আধ্যাত্মিক শান্তি ও উন্নতি কিভাবে হয় তার একটি উদাহরণ দিয়ে পীর সাহেব কেবলা বলেন, নববধূ যখন ঘরে আনা হয় তার গায়ে অনেক মূল্যবান কাপড়-চোপড়, হাতে-গলায় ও কানে অনেক গয়না-অলঙ্কার থাকে তারপরও সে কান্নাকাটি করতে থাকে। শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পরও কান্নাকাটি করে কারণ সে জন্মস্থান থেকে মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সকলকে ছেড়ে এসেছে। তাকে যত খানাপিনা, কোরমা-বিরানি ইত্যাদি দেওয়া হোক না কেন সে তা খায় না।

তদ্রূপ আমাদের রুহের একটি জগৎ আছে তা সে জগৎ থেকে আমাদের দেহের মধ্যে আনা হয়েছে। আমরা তাকে যত ভালো খাবার দিই না কেন, যত আরাম দিই না কেন যতক্ষণ পর্যন্ত তার জন্মস্থানের সাথে, দেশির সাথে মিলবেনা সে শান্ত হবে না। তাই বউ যেমন পিতার বাড়িতে কিছুদিনের জন্য নাইয়র দেওয়া হয়, আত্মীয়-স্বজনের সাথে মিলামিশা করার সুযোগ করে দেওয়া হয় সেভাবে রুহকেও নাইয়র দিতে হয়, দেশবাসী আত্মীয়-স্বজনের সাথে মিলামিশা করার সুযোগ করে দিতে হয়। যেমন ফজরের নামাজের মাধ্যমে রুহকে নাইয়র দিলাম কিছুক্ষণ, যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার নামাজের মাধ্যমে কিছুক্ষণ এভাবে যদি নাইয়র দেওয়া হয় রুহ খুশি থাকে।

যিকির দ্বারা আত্মার তৃপ্তি লাভ হয়, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, الَّا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

‘জেনে রাখ আল্লাহর যিকির দ্বারা আত্মার প্রশান্তি লাভ হয়।” [12:11, 9/6/2026] Abu Bakar Tamim: নামাজে দাঁড়ালে রুহ তার দেশির সাথে মিলামিশা করার সুযোগ পায়।

তার দেশি হচ্ছে তকবীর, তাসবীহ, যিকির, কুরআন ও হাদীস ইত্যাদি। শুধু নামাজ পড়ার মধ্যে রুহের শান্তি সীমাবদ্ধ নয়। নামাজের পরেও যিকির-আযকার করার জন্য বলা হয়েছে। নামাজ বেশি পড়ার জন্য বলা হয়নি, কিন্তু যিকির বেশি বেশি করার জন্য আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন করীমে বলেছেন,

وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

‘তোমরা অধিক পরিমাণ আল্লাহর যিকির কর। যাতে তোমরা সফলকাম হও।”

মুমিনরা নামাজ পড়ে ও যিকির করে। মসজিদ তাদের আত্মার শান্তি। বর্ণিত আছে,

الْمُؤْمِنُ فِي الْمَسْجِدِ كَالسَّمَكِ فِي الْمَاءِ.

‘মাছ যেমন পানিতে শান্তিতে থাকে তেমনিভাবে মুমিনও মসজিদে শান্তিতে থাকে।’২

হিদায়তী ভাষণের শেষের দিকে হুযুর কেবলা মানবদেহকে গাড়ি এবং

আত্মাকে ইঞ্জিনের সাথে তুলনা করে বলেন, মানুষের শরীরটা হল গাড়ির মতো, তাকে পরিচালনা করে তার রুহ। রুহ যদি পরিষ্কার ও সুস্থ থাকে সারা শরীর সুস্থ ও ঠিক থাকে। রুহ যদি নষ্ট হয়ে যায় তখন সম্পূর্ণ দেহ অশান্ত হয়ে যায়। যেমন গাড়ির ইঞ্জিন যদি ভালো থাকে গাড়ি যেখানে সেখানে যেতে পারে। আর যদি গাড়িকে রং দিয়ে চাকচিক্য বৃদ্ধি করা হয়। সুন্দর ও মূল্যবান রড় দ্বারা তৈরি করা হয় অথচ ইঞ্জিনটি অকেজো। গাড়ি তখন চলবে না। যেমন হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,

أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً: إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ

فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ.

‘মানব দেহের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে। তা যদি সুস্থ থাকে তাহলে সমস্ত দেহটাই সুস্থ থাকবে। আর যদি তা নষ্ট হয়ে যায়
[12:11, 9/6/2026] Abu Bakar Tamim: তা হলে পুরো শরীরটাই নষ্ট হয়ে যাবে। সাবধান! মনে রেখ, এটিই হলো কলব।” তা হলে পুরো শরীরটাই নষ্ট হয়ে যাবে। সাবধান! মনে রেখ, এটিই হলো কলব।”

রুহকে জীবিত রাখতে হলে বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করতে হবে। যিকির করার জন্য কোনো সময় নির্ধারিত নেই চলার সময়, বসা অবস্থায়, শোয়া অবস্থায়, পবিত্র অবস্থায় অপবিত্র অবস্থায়, সুস্থ ও অসুস্থ অবস্থায় যিকির করা যায়। কিন্তু নামাজ অপবিত্র অবস্থায় পড়া যায় না। মহিলাদের হায়েয-নেফাসের সময় নামাজ পড়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, কিন্তু আল্লাহর যিকির করতে বাধা নেই। তাই আল্লাহর অলীগণের মধ্যে আল্লাহর যিকির করতে করতে খোদায়ী শক্তি সৃষ্টি হয়ে যায়। তারা যে দিকে তাকান উজ্জ্বল হয়ে যায়। সেদিকে যান আবাদ হয়ে যায়। তাঁর মুখ আল্লাহর মুখ, তাঁর হাত আল্লাহর হাত, তাঁর পা আল্লাহর পা হয়ে যায়। এটি আল্লাহপ্রদত্ত শক্তি। অসীম শক্তির অধিকারী হয়ে যান। বুখারী শরীফের হাদীসের সারমর্মটি বললাম।

সর্বশেষে পরম শ্রদ্ধেয় পীর সাহেব কেবলা ধর্মপ্রাণ তরীকতপন্থি প্রবাসী ভাইদের ঈমান ও আমলের উন্নতি এবং নেক আমল করার তওফিক কামনা করে মূল্যবান ভাষণের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

গ্রন্থনায়: মাওলানা মুহাম্মদ সাইয়েদ নুর


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *