তাঁর জ্ঞানগর্ভ ও তাত্ত্বিক আলোচনা আমাকে বিস্মিত করে

আমি সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম আসি ১৯৮০ সালে। এখানে এসে বায়তুশ শরফের পীর হযরত মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. এর কথা শুনি। ১৯৮১ সালের মে মাসে আমি তাঁর সাথে দেখা করতে যাই ধনিয়ালাপাড়াস্থ বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে। বিশাল অঙ্গন জুড়ে এই কমপ্লেক্স। বর্তমানের মতো ইমারতরাজি বিকশিত ও নয়নাভিরাম না হলেও দৃষ্টিনন্দিত মসজিদ, হুজরা ও অন্যান্য কয়েকটি সৌধমালা একে বৈশিষ্ট্যময় করে তুলেছিল। এখানকার পুরো পরিবেশটাই ছিল মনোমুগ্ধকর ও আন্তরিকতার ছোঁয়ায় পরিবেষ্টিত। এক অজানা আবেশে আমি মুগ্ধ হলাম। সালাতুয যোহরের পর হুজুর কেবলার সাথে মুলাকাত করলাম। প্রথম সাক্ষাতেই আমি বুঝতে পারলাম তরীকতের জগতে তাঁর বিচরণ কত ঊর্ধ্বে। সহজ-সরল এক শান্ত সুবোধ বালকের ন্যায় পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। পরিচয় দিলাম, দোয়া চাইলাম। হুজুর দোয়া করলেন।

‘বাংলাদেশে ইসলাম’ শীর্ষক বিষয়ে ৩ দিন ব্যাপী জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে। বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এবং পীর সাহেব কেবলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের প্রতিটি অধিবেশনে উপস্থিত থাকার সুযোগ আমার হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ ও দেশের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবীদেরকে তিনি এই সেমিনারে একত্রিত করেন। এতে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর জ্ঞানগর্ভ ও তাত্ত্বিক আলোচনা আমাকে বিস্মিত করে। আমি বুঝতে পারি, ঐশী প্রদত্ত বিশেষ তত্বজ্ঞান ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য উপস্থান অন্ততঃ একজন পীরের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে তাঁর প্রতি আমার আকর্ষণ আরো বহুগুণে বেড়ে যায়।


-প্রফেসর ড. আ. ক. ম. আবদুল কাদের

প্রফেসর, আরবি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *