অনেক দিন আগে থেকে বায়তুশ শরফের মরহুম পীর সাহেব হযরত শাহ্ মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. এর গঠনমূলক আধ্যাত্মিক দীক্ষার ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা শুনে আসছিলাম। আমার সৌভাগ্য, ১৯৯৭ সালে ঢাকা বায়তুশ শরফে অনুষ্ঠিত এক মাহফিলে আমি খুব কাছ থেকে তাঁকে অবজার্ভকরেছি এবং তাঁর হাব-ভাব গতিবিধি ও মানুষের সাথে তার বিহেভিয়ার, আতিথেয়তা আমি লক্ষ্য করেছি। আমি বিস্মিত হলাম, তাঁর প্রতিটি কাজে।
ছোট থেকে সর্বোচ্চ কাজটির প্রতি তাঁর মনোযোগ ছিল সর্বক্ষণ। ইসলামের মৌলিক উপদান নামাযের সামাজিক গুরুত্ব বা শিক্ষার মধ্যে একটি শিক্ষা হল নামাযীকে যেমন চোখ খোলা রেখে নামায পড়তে হয়, তেমনি নামাযীর বাস্তব জীবনেও সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে জীবন যাপন করতে হয়। দুনিয়ার স্বার্থ, চাকচিক্যের মধ্যে ডুবে থাকা যেমন কল্যাণময় নয়, তেমনি দুনিয়াকে বর্জন করাও সমীচীন নয়। আমি মরহুম পীর সাহেব কেবলার মধ্যে এ দু’টিরই চমৎকার সমন্বয় ও সহাবস্থান লক্ষ্য করেছি। মরহুম মাওলানা আবদুল জব্বার রহ.-এর শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষত্ব এখানেই যে, তিনি ইল্ম ও আমল-এ দুটি প্রান্তকে একই সূত্রে গ্রথিত করে আমাদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। মরহুম মাওলানা ‘আবদুল জব্বারের মধ্যেই পীর হবার বা স্পিরিচুয়াল গাইড হবার পূর্ণাঙ্গ উপযুক্ততা ছিল। এই গুণটা বেশি উপলব্ধি করা যায় হাদিসের সেই ইঙ্গিতের আলোকে যাদের দরবারে বসলে, যাদের কথা শুনলে, যাঁদের কাছে থাকলে আল্লাহ্ ও রাসূলের কথা স্মরণ হয়, কঠিন হৃদয় নরম হয়, আল্লাহ্ প্রেমের উদয় হয়, বুঝতে হবে তারা আল্লাহ্র প্রকৃত বান্দা।’ আমি তাঁর মধ্যে এ সমস্ত গুণাবলী লক্ষ্য করেছি এবং সবচেয়ে যে জিনিসটি আমার এ ধারণাকে বদ্ধমূল করেছে তা হলো প্রতিটা কাজে, প্রতিটা প্রদক্ষেপে আল্লাহ্র প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা ও স্বতঃস্ফূর্ত নির্ভরতা। যাকে আমরা ‘তাওকুল আলাল্লাহ্’ বলি।
-ড. এইচ এম হাবিবুর রহমান
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ফিন্যান্স বিভাগ ও ডিন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Leave a Reply