কে বলে আজ আমাদের হুজুর নেই

আল্লামা শাহ্ আবদুল জব্বার রহ. ছিলেন সুন্নাতে নববীর সা. বাস্তব অনুসারী। তিনি কোন দিন সুন্নাতের পরিপন্থী কোন কাজ করেননি। তাঁর সমুদয় কর্মকাণ্ড ছিল একমাত্র আল্লাহর ওয়ান্তে, নিছক কোন ব্যক্তি স্বার্থ ছিল না তাঁর। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন উন্নত চরিত্রের অধিকারী এবং একজন আশেকে রাসূল সা. এটাই ছিল তাঁর অন্যতাম কারামত।

শ্রদ্ধেয় হযরত কেবলা রহ. হুজুর কেবলার আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা দেখে বলেছিলেন, “মাওলানা আবদুল জব্বার সাহেব হচ্ছেন কুতুবুল আক্তাব।” তাঁকে ছোট মনে করলে ধ্বংস অনিবার্য। তিনি আরো বলেছিলেন-“মাওলানা আবদুল জব্বার সাহেব মুস্তাজাবুদ দাওয়াত” অর্থাৎ তাঁর দোয়া মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে গ্রহণীয়। তিনি যেভাবে দোয়া করেন তাঁর দোয়া হুবহু আল্লাহ্ পাক কবুল করেন। স্বীয় পীর মুর্শিদের জীবদ্দশায় তাঁরই জবান থেকে এসব অমূল্য রত্ন সদৃশ বাণী বাস্তবিকই আত্মিক জগতে হুজুর কেবলা রহ. এর উচ্চ মনের জ্বলন্ত সাক্ষ্য বহন করে।

আমার ধারণা অনুযায়ী তাঁর জীবন ও বিশাল কর্মকাণ্ডের উপর দুটি পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী প্রদান করা যাবে। একটি হচ্ছে সমাজ সংস্কারক, আর্তমানবতার সেবা ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকাণ্ড সম্বলিত;

দ্বিতীয়টি হচ্ছে- আধ্যাত্মিকতার প্রচার-প্রসার ও তাঁর অমূল্য প্রকাশনা।

কে বলে আজ আমাদের মাঝে হুজুর নেই নেই আমাদের রূহানী পিতা মুর্শিদে বরহক? প্রকৃতপক্ষে তা নয়, আল্লাহর ওলীদের মৃত্যু হয় না। তারা স্থানান্তরিত হন মাত্র। বাস্তবিকই ইহকালীন জীবন থেকে পরকালীন জীবনে তাঁদের আরো বেড়ে যায় রূহানী শক্তি। তাই আমি বলবো, যদিও হুজুর কেবলা আমাদের চক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন কিন্তু তাঁর আত্মা বিচরণ করছেন তাঁর প্রতিটি মুরীদ, ভক্ত ও অনুরক্তের মাঝে। আল্লাহ্ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চাসন দান করুন এবং তাঁর রূহানী ফয়জাত আমাদের উপর জারী রাখুন।


আবুল হায়াত মুহাম্মদ তারেক

পরচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়;

 প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ, বায়তুশ শরফ আদর্শ আলিয়া মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *