হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী হাদিয়া নেয়া ও দেয়া সুন্নত। আল্লাহ্ নবী সা. হাদিয়া নিতেন এবং প্রয়োজনানুসারে সকলকে দিতেনও। আমাদের দেশে হাদিয়া নিতে দেখা যায় কিন্তু দিতে দেখা যায় খুব কম। বায়তুশ শরফের পীর সাহেব যে সকল হাদিয়া পেতেন এক হাতে গ্রহণ করতেন, অন্য হাতে ব্যয় করতেন। এ তথ্য সত্য এবং আক্ষরিক অর্থেই সত্য। আরো আশ্চর্যের বিষয়, মরহুম পীর সাহেব রহ. হাদিয়ার টাকা-পয়সা গুনে দেখতেন না। যাকে দিতেন গুনে দিতেন না, দিতেন মুঠিভরে। যারা জানেন না তাদের কাছে এসব তথ্য গল্পের মতো মনে হবে। তবুও এটা সত্যি এবং হাজার হাজার অনুগৃহীত ছাত্র, গরীব, দুস্থ, এতিম, দুঃখী পীর সাহেবের দানের মহিমা ঘোষণা করবে।
ভক্তরা যা দান করতেন তা তাঁকেই দিতেন। কিন্তু সে অর্থ তিনি পরিজন পুত্রদের দিতেন না। তাঁর পারিবারিক জীবন ছিল অতি সাধারণ, দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে। তাঁর পুত্রদের জীবন প্রণালী আরো সাধারণ। বাংলাদেশের পীরজাদা, শাহজাদাদের চেয়ে অতি স্বতন্ত্র। বছর কয়েক আগে তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র আবদুল হাই’র বিয়ে হয়েছে। সে বিয়ের অনুষ্ঠান তিনি কুমিরাঘোনা মাহফিল নিষ্পন্ন করতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শুনেছি স্নেহভাজন কন্যাদের আবদারে তা করেননি। সাদামাটা আয়োজন হয়েছিল। আত্মীয়তা করেছেন সাতকানিয়ার এক সাধারণ কাজী সাহেবের সাথে। তিনি চাইলে চট্টগ্রামের বাছাই করা ধনীগৃহে আত্মীয়তা করতে পারতেন অতি সহজে। কিন্তু মাওলানা আবদুল জব্বার রহ. তা করবেন কেন? তিনি তাঁর মত করে পরিবার গঠন করেছেন, সুন্নতে নববীর আদর্শে চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স এখন যেটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, জব্বারিয়া এতিমখানা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র সে দালানের জমি দান করেছিলেন তাঁরই কোন এক ভক্ত মুরীদ। উদ্দেশ্য, হুজুরের সুদূরবর্তী পরিবারসহ তাঁর সম্মানিতা স্ত্রী এখানেই বসবাস করবেন, হুজুরের কাছে। মুরীদের সে ইচ্ছা পূরণ করেননি। হুজুর সে জমিতে স্থাপন করলেন এতিমখানা ভবন। এমনি মহত্মা পুরুষ ছিলেন আল্লামা শাহ্ আবদুল জব্বার রহ.।
চৌধুরী গোলাম রব্বানী
সহযোগী সম্পাদক, মাসিক সচিত্র সাম্পান ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভাগীয় কার্যালয়।
Leave a Reply