১৯৮৫ সনে তার রাসূল প্রেমের এক ঝলক দেখে সত্যই আমি বিস্মিত হয়েছি। ইসলামী সংস্কৃতির সর্বোত্তম বাহন মিলাদ মাহফিল নিয়ে যখন আশেকে রসুলগণের মনে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছিল এ দেশে তখন কুরআন হাদিস ও মনীষীগণের দৃষ্টিতে ঈদে মিলাদুন্নবী সা. কি ও কেন? এ শিরোনামে একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করার তাওফিক আমাকে দেন। গ্রন্থটি নিয়ে ঢাকাস্থ বায়তুশ শরফ মসজিদে উপস্থিত হই। মনে ভয়-হুজুর আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াসকে কতটুকু গ্রহণ করবেন। তাঁর মত একজন আলেমের কাছে একজন জিন্দাদিল ওলীর কাছে গ্রন্থটি গৃহীত হবে কিনা এ নিয়ে ভাবছিলাম। বিচারপতি আবদুর রউফ সাহেব, হযরত মাওলানা আমিনুল ইসলাম সাহেব (ম.জি.আ) সেদিন বায়তুশ শরফে উপস্থিত। তাঁদের হাতে কপি দিলাম। তাঁরা গ্রহণ করলেন; কিছুই বললেন না। যেই মাত্র হুজুর কেবলার হাতে দিলাম তিনি বইটির পাতা উল্টাতে লাগলেন। একনজর দেখে আনন্দঘন চেহেরায় হেসে বললেন, আল্লাহ্ আপনার দ্বারা বড় একটি কাজ করালেন এদেশে মিলাদ মাহফিল, শবে বরাত, শবে কদর, আশুরাসহ এসব অনুষ্ঠান বাদ দিলে বাকি থাকে গান বাজনা আর বেহায়াপনা। যারা ইসলামী সংস্কৃতির পরিধি ও বাস্তবতা বুঝে না তারাই এর বিরোধিতা করে। বহুদিন থেকে এ ধরনের একটি গ্রন্থের অপেক্ষা করছিলাম। এসব কথা বলতে বলতে তার মুখ দিয়ে বের হল ইয়া রাসূলুল্লাহ ইয়া হাবিবাল্লাহ। নজর করে দেখলাম তিনি কাঁদছেন আর বলছেন-মাহবুব, আফসোস এখানে যে, রসুলের শান ও মান আমরা বুঝতে পারিনি। যদি তাঁকে চিনতাম, তাঁকে বুঝতাম, তাহলে আমাদের দুরবস্থা থাকত না।’
দান করতে গিয়ে প্রথম পাঁচশত টাকা দান করলেন। কয়েকদিনের ব্যবধানে এ বলেই তিনি বরকতের জন্য দোয়া করলেন। গ্রন্থ প্রকাশের জন্য উৎসাহ চট্টগ্রাম থেকে আরো পাঁচশ টাকা পাঠিয়ে দিলেন। এরপর ১৯৮৬ সালে তিনি ঢাকা আসলে আবার দেখার সৌভাগ্য হয়। অত্যন্ত কাছে নিয়ে আদর জানিয়ে বললেন, ‘যোগ্য লোকের অভাব। আমার একান্ত ইচ্ছে ছিল ঢাকা বায়তুশ শরফকে আশেকে রসুলগণের এক মিলন কেন্দ্রে পরিণত করব। এখানে থাকবে উন্নত মানের গবেষণা কেন্দ্র, আলেমগণের প্রশিক্ষণের বড় একটি গ্রন্থাগার কিন্তু লোকের অভাবে তা করা সম্ভব হচ্ছে না।
আমি বললাম, হযরত আপনার একজন নগণ্য ভক্ত হিসেবে এসব কাজে যখনই নির্দেশ পাব যে কোন কাজ করতে রাজি আছি। মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন-বাবা, আমি অসুস্থ; আপনারা সবাই তৈরি হোন ইলম আমলে সহি আকিদা বিশ্বাস নিয়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করুন; ইসলামের যুগোপযোগী সমাধান দেয়ার চেষ্টা করুন। আমি দোয়া করছি। ইলম ও আমলের প্রতি তাঁর উৎসাহ দেখে সত্যই সেদিন বিস্মিত হয়েছি।
এ কে এম মাহবুবুর রহমান
মুহাদ্দিস, মদীনাতুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা।
বিশিষ্ট লেখক, ফার্সি গবেষক ও অনুবাদক।
Leave a Reply